বেবিচকের নেই ড্রোন মনিটরিংয়ের সক্ষমতা

এই লেখাটি 58 বার পঠিত

কোনও সংস্থা বা ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে ড্রোন ওড়ানোর অনুমতি দিলেও নিয়ম মেনে ওড়ানো হচ্ছে কিনা, তা মনিটরিং-এর সক্ষমতা নেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক)। একই সঙ্গে দেশে কতগুলো ড্রোন রয়েছে, এসব ড্রোনের মালিক কারা, এমন তথ্যও নেই তাদের কাছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, ড্রোন নিয়ে একটি নীতিমালা রয়েছে বেবিচকের। রেগুলেশন ফর অপারেটিং রিমোটলি পাইলট এয়ারক্রাফট সিস্টেম (আরপিএএস) নামে এ নীতিমালায় বলা হয়েছে— আঠারো বছরের কম বয়সী কেউ ড্রোন ওড়ানোর অনুমতি পাবেন না। মদ্যপানের আট ঘণ্টার মধ্যে কেউ ড্রোন ওড়াতে পারবেন না। ড্রোনটি কোনও ক্ষতি সাধন করলে,ক্ষতির দায় ড্রোনের মালিককে বহন করতে হবে। ড্রোন যে স্থানে ওড়ানো হবে, সে স্থানের ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে অবহিত করতে হবে। ভূমি থেকে ২০০ ফিটের বেশি উচ্চতায় ড্রোন ওড়ানো যাবে না। যে কোনও বিমানবন্দরের ১০ নটিকেল মাইলের মধ্যে ড্রোন ওড়াতে হলে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের অ্যারোড্রম অপারেটরের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। একজন ব্যক্তি এক সঙ্গে একাধিক ড্রোন ওড়াতে পারবেন না।

নীতিমালা অনুসারে ড্রোন ওড়ানোর ৪৫ দিন আগে বেবিচক থেকে অনুমতি নিতে হবে। নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে সেটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে অনুমতি দেয় বেবিচক। পাঁচ পৃষ্ঠার এ আবেদন পত্রে ড্রোন কোথায় ওড়ানো হবে, কে ওড়াবে, ড্রোনের আকার, সেফটি বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিতে হয় আবেদনকারীকে। বর্তমানে মাসে শতাধিক আবেদন জমা পড়ে সিভিল এভিয়েশনে। একই সঙ্গে এ নীতিমালা সংশোধন করে ড্রোনের রেজিস্ট্রেশন ও ড্রোন চালকদের লাইসেন্সিং এর আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে বেবিচক।

সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন আর অনুমতি প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বেবিচকের কার্যক্রম। অনুমতি নেওয়ার পর যথাযথ স্থানে নিয়ম মেনে ড্রোন ওড়ানোর বিষয়ে কোনও নজরদারি নেই বেবিচকের। এমনকি অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো হচ্ছে কিনা সে বিষয়েও নজরদারির সক্ষমতা নেই সংস্থাটির।

২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি ড্রোন উড্ডয়নে বিধিবিধান মানার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)। বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর এর পক্ষ থেকে বলা হয়— ‘বাংলাদেশের আকাশ সীমায় সব বিমান চলাচল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের রেগুলেশন এবং বিমানবাহিনীর নির্ধারিত নিয়মনীতি ও সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। পরীক্ষামূলক ড্রোন বা রিমোর্ট কন্ট্রোল চালিত বিমান/হেলিকপ্টার আকাশে ওড়ানোর আগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাহিনীর অনুমোদন নিতে হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ফ্লাইট সেফটি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ড্রোন নিয়ে বেবিচকের একটি নীতিমালা আছে। এই নীতিমালা করা হয়েছে আকাশে এয়ার ক্রাফটের নিরাপত্তা ও নিরাপদ ড্রোন উড্ডয়ন নিশ্চিত করতে। কিন্তু বেবিচকের এখন যে জনবল তা অন্যান্য কাজের জন্য যথেষ্ট নয়, ড্রোন মনিটরিংয়ের জন্য বাড়তি লোকবল কাজে লাগানোর অবস্থানে নেই। আমরা ভূমি থেকে ২০০ ফুটের মধ্যে ড্রোন ওড়ানোর অনুমতি দিচ্ছি। কিন্তু সেটি অতিক্রম করে ৫০০ বা ৬০০ ফিটে গেলে শনাক্ত করা কঠিন। আমাদের যে রাডারটি রয়েছে, সেটি অনেক পুরনো।লো লেভেলে ফ্লাইং অবজেক্টকে ডিটেকক্ট করার সক্ষমতা নেই এ রাডারটির। একই সঙ্গে রাডারটির কার্যক্ষমতার সীমারেখাও সীমিত।’

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ড্রোন ব্যবহারের পরিধি অনেক বেড়েছে। এটি সুষ্ঠুভাবে মনিটরিং এর আওতায় আনতে হলে নতুন করে জনবল নিয়োগ দিয়ে আলাদা উইং সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে ড্রোন ট্র্যাকিংয়ে সক্ষম যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে হবে।’

ড্রোনের মনিটরিং প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার কমোডোর (অব.) এম. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘অনুমতি নিয়ে অনেকে ড্রোন ওড়াচ্ছেন। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে,২০০ ফুটের মধ্যে ওড়ানোর। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, ২০০ মিটারের বেশি ওপরে উড়ানো হচ্ছে, কিংবা যেসব এলাকায় ড্রোন ওড়ানোর নিয়ম নেই, সেখানে ওড়ানো হচ্ছে। এসব বিষয় বেবিচককে মনিটরিং করতে হবে।’

এম. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘যাত্রীবাহী বিমানের জন্য সমস্যা না হলেও হেলিকপ্টারের জন্য ড্রোন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। হেলিকপ্টার বিমানবন্দর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে উড্ডয়ন ও অবতরণ করে। হেলিকপ্টারের পাইলট তো আর জানেন না কোথায় ড্রোন উড়ছে, অবতরণের জন্য নিচে নেমে এলে যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এসব বিষয়ে সমন্বয় ও মরিটরিং এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য ডেডিকেটেড মরিটরিং টিম লাগবে। বেবিচককে দ্রুত এ কার্যক্রমে নজর দিতে হবে। এখন ব্যাপকহারে ড্রোন ব্যবহার না হলেও দিনে দিনে কিন্তু বাড়ছে। ’

এবিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দায়ীত্বশীল কোনও কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Aviation News