যেভাবে কম খরচে ওমরাহ করবেন

এই লেখাটি 117 বার পঠিত

ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কাছে ওমরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় বাংলাদেশে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সীগুলো ওমরাহ পালনের জন্য যাবতীয় প্যাকেজ অফার করে কিন্তু এসব প্যাকেজের মূল্য তুলনামূলক বেশি তাই ওমরাহর যাবতীয় কাজগুলো যদি আপনি নিজেই করে নিতে পারেন তাহলে ওমরার খরচ কমিয়ে আনতে পারেন অনেকখানি

বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সীর সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে ওমরাহ করার জন্য জনপ্রতি গড়ে খরচ হবে এক লক্ষ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা। ওমরার জন্য সময় পাওয়া যাবে ১০ দিন।

ট্রাভেল ও হজ্জ্ব এজেন্সীগুলো বলছে, রমজান মাসে এই খরচ বেড়ে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে এজেন্সীর বদলে যদি নিজেই ওমরার বিষয়াদি সম্পন্ন করেন তাহলে এই খরচ কমিয়ে আনতে পারেন অনেকখানি। খরচের লাগামটা যদি বুঝেশুনে ধরতে পারেন তাহলে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় আরামসে ওমরাহ পালন করে আসতে পারেন।

যা যা করতে হবে

ভিসা প্রসেস

ওমরাহ পালনের জন্য অবশ্যই আপনাকে সৌদি আরবের ওমরা ভিসা নিতে হবে। এই একটি কাজ আপনাকে ট্রাভেল এজেন্সী দিয়েই করিয়ে নিতে হবে। এর জন্য এজেন্সীভেদে খরচ হবে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এজেন্সীগুলোর ভিসা প্রসেসিং ফী এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

এয়ার টিকেট

ভিসা পেয়ে গেলে এবার আপনার দরকার হবে এয়ার টিকেট। বাংলাদেশ থেকে দেশীয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সৌদির সৌদি এয়ারলাইন্স সরাসরি বিমান পরিচালনা করে। তবে এগুলো সরাসরি বিমান হওয়ায় বিমান ভাড়া অপেক্ষাকৃত বেশি। এসব এয়ারলাইন্সে জনপ্রতি টিকিটের মূল্য ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা।

সরাসরি বিমানে যাওয়ার আকাংখা দমিয়ে যদি কানেক্টিং ফ্লাইটে সৌদি যেতে পারেন তাহলেই ওমরাহ পালন হবে সাশ্রয়ী মূল্যে। বাংলাদেশ থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনস, কাতার এয়ারলাইন্স, কুয়েট এয়ারওয়েজ, এতিহাদ এবং গালফ এয়ারওয়েজের কানেক্টিং ফ্লাইটে সাশ্রয়ী মূল্যে সৌদি আরব যেতে পারেন। রিটার্ন টিকিটসহ খরচ হবে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার মতো।

বিমান যোগে সৌদি আরবের মদিনায় গিয়ে নামতে পারেন। সেখানে নবী মোহাম্মদ (সঃ) এর রওজা জিয়ারত করে চলে আসতে পারেন মক্কায়। মক্কায় আসা যাবে বাসে।

আরও নয়তো ঢাকা থেকে আগে নামতে পারেন সৌদি আরবের জেদ্দায়। সেখান থেকে সড়কপথে মক্কা এবং মক্কা থেকে সড়ক পথে মদিনা। মক্কা থেকে মদিনা অথবা মদিন থেকে মক্কায় সড়ক পথে বাসে জনপ্রতি খরচ হবে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।

হোটেল খরচ

মক্কা ও মদিনায় ওমরাহ পালনকারীদের জন্য থাকার সুব্যবস্থা আছে। ঢাকা থেকে হোটেল বুক করে গেলে এসি রুম প্রতি রাতের জন্য এক হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। ট্রাভেল এজেন্সীগুলো এই রুমগুলোর জন্যই দেড় থেকে দুই হাজার টাকা ভাড়া রাখে।

তবে আপনি চাইলে সৌদি আরবে গিয়ে একটু ঘুরে ফিরে রুম খুঁজে নিতে পারেন। অনেক সময় কটেজের মতো বাসাও পেয়ে যেতে পারেন। আর এমন জায়গায় প্রতি রুমের জন্য এক রাতে খরচ হতে পারে বাংলাদেশী টাকায় মাত্র ৫০০ টাকা। অর্থ্যাত ১০ রাত সৌদিতে অবস্থান করলে থাকা বাবদ আপনার খরচ হবে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা।

খাবার খরচ

মক্কা ও মদিনা দুই জায়গাতেই খাওয়া খরচ অনেকটা সাশ্রয়ী। মক্কায় হেরেম শরীফের কাছে খাবারদাবারের মূল্য একটু বেশি হলেও একটু দূরের এলাকাগুলোতে খাবারের দাম অনেকটাই কম।

মক্কার হেরেম শহর থেকে হাটা পথে প্রায় ১০ মিনিট দূরত্বে মিজফালা নামক একটি এলাকা আছে। এখানেই মক্কায় বাংলাদেশী হজ্ব কাউন্সিলের কার্যালয়। এই এলাকার রেস্টুরেন্টগুলোতেও খাবারের দাম অনেক কম। এখানে বাংলাদেশী ও পাকিস্তানি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট আছে। এখানকার ওভার ব্রীজের পাশে পাবেন এসব রেস্টুরেন্ট।

মক্কা ও মদিনায় একজন ব্যক্তির তিন বেলা খাওয়া বাবদ বাংলাদেশী মুদ্রায় খরচ হতে পারে মাত্র আড়াইশ থেকে চারশ টাকা। অনেক সময় মদিনবাসী ওমরাহ ও হজ্জ্ব পালন করতে আসা ব্যক্তিদের মাঝে খাবার বিতরণও করে থাকেন। এভাবে আপনি চাইলে খুব সহজেই বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ওমরাহ পালন করে আসতে পারেন

প্রতারণা থেকে সাবধান

ওমরাহ পালনে সহায়তার নামে অনেক ট্রাভেল ও হজ্জ্ব এজেন্সী মুসল্লীদের সাথে প্রতারণা করে আসছে এমন গুরুতর অভিযোগও আছে। বিশেষ করে খুবই অল্প টাকায় ওমরাহ পালনের সব বিষয়ের দায়িত্ব নেওয়ার চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ঠকিয়ে থাকেন মুসল্লীদের। আকর্ষণীয় এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পত্রিকায় অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোভনীয় এসব বিজ্ঞাপনে থ্রী স্টার হোটেল, সৌদি আরবে গাইড, পরিবহণ ইত্যাদি সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে গিয়ে মুসল্লীরা এর কোনটিই পান না। উপরন্তু সরকারি ট্যাক্সের ভুয়া অজুহাতে মুসল্লীদের একরকম জিম্মী করেই অর্থ হাতিয়ে নেয় এসব কতিপয় এজেন্সীরা।

তাই এসব প্রতারক এজেন্সী বা গাইড থেকে সাবধান থাকুন। আর অল্প খরচেই সম্পন্ন করুন ওমরাহ পালন। এছাড়াও সৌদি আরবেও দালাল চক্র বেশ সক্রিয়। বিভিন্ন ধরণের সেবা বা দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের নামে পর্যটকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। তাই এদের থেকে সতর্ক থাকুন।

Aviation News