তুচ্ছ ঘটনায় ছাত্রীকে নগ্ন করে মারধরের অভিযোগ!

এই লেখাটি 88 বার পঠিত

প্রতিবেশীর ফসলের ক্ষেতে বাছুর ঢুকে পড়ার জেরে জামাকাপড় ছিঁড়ে নগ্ন করে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে রাস্তায় শুইয়ে ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়েছে! ভারতের জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে ঘটেছে এ ধরনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

গত ৮ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে অপদস্থ করা হলেও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করেনি পুলিশ। এ ঘটনার পরে ময়নাগুড়ি থানায় অভিযোগ করলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ছাত্রীর পরিবারের।

পরে জলপাইগুড়িতে এসে জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরে অভিযোগ জানায় ছাত্রীর পরিবার। ঘটনার পর থেকেই ওই ছাত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্কুলে যেতে চাইছে না, প্রাইভেট পড়তেও যাবে না বলে জানিয়েছে।

ছাত্রীর মা জানান, সবসময় আতঙ্কে থাকে ১৪ বছরের মেয়েটি। পঞ্চায়েত ভোটের মুখে এই অভিযোগে রাজনীতির রংও লেগেছে। নিগৃহীতা ছাত্রীর পরিবারের দাবি, তারা বিজেপির সমর্থক। হামলাকারীরা তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানিয়েছেন, কোন ধারায় মামলা হয়েছে, এতদিন কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সব যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ সুপারের কথায়, কেউ অপরাধ করে থাকলে ছাড় পাবে না।

জানা গেছে, ঘটনার দিন ময়নাগুড়ির একটি গ্রামের বাসিন্দা ওই ছাত্রীদের বাড়ির পোষা বাছুর প্রতিবেশীর খেতে ঢুকে যায়। নিজেদের বাড়ির বাছুর ফিরিয়ে আনতে ছাত্রীটি পড়শির বাড়ি যায়। সেখানে কথা কাটাকাটি হওয়ার পরে ওই পরিবারের সদস্যরা ছাত্রীকে মারতে মারতে রাস্তায় নিয়ে যায়।

পরে জামাকাপড় ছিঁড়ে ওই ছাত্রীকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় বলে দাবি ছাত্রীর। ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, আমার মেয়ে তখন লজ্জা ঢাকতে উপুড় হয়ে রাস্তায় শুয়ে ছিল। একটা মোটা দড়ি নিয়ে ওর গলায় পেঁচিয়ে টেনে তোলার চেষ্টা হয়। নগ্ন করে পাড়ায় ঘোরানোর হুমকি দিচ্ছিল ওরা। সেই সময় আরো কয়েকজন এসে মেয়েকে উদ্ধার করে।

হঠাৎ করেই এ ধরনের বিড়ম্বনায় পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে মেয়েটি। প্রথমে ময়নাগুড়ি এবং পরে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ছাত্রীর চিকিৎসা চলে। বর্তমানে ওই ছাত্রী বাড়ি গেলেও সে পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।

ছাত্রীর চাচা বলেন, অভিযুক্তরা সকলে তৃণমূল করে। সেই কারণে পুলিশ ওদের আটক করবে না বলে প্রকাশ্যেই দাবি করছে অভিযুক্তরা। এখনো হুমকি দিচ্ছে।

পুলিশের দাবি, মূল অভিযুক্ত কয়েকজনকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আত্মীয়দের বাড়িতেও তল্লাশি চলছে। ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার জন্য আশেপাশের বাসিন্দাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ কেন এতদিনেও কী ঘটেছিল জানতে পারল না, এ ধরনের প্রশ্ন নির্যাতিতার পরিবারের। পুলিশ সুপারের অফিসে নালিশ জানানোর সঙ্গে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনকেও ঘটনার কথা জানিয়েছে পরিবার।

অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিথ্যে কথা রটানো হচ্ছে। কথা কাটাকাটি থেকে ধাক্কাধাক্কি হলেও কোনো মারধর হয়নি বলে দাবি তাদের। অন্যদিকে জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীর দাবি, এমন ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির যোগ থাকতে পারে না। দল এমন অভিযোগকে কখনো সমর্থন করে না, করবেও না।

Aviation News