পাঁচ বাংলাদেশিসহ ১৪০ শান্তিরক্ষী ও বেসমারিক নাগরিককে স্মরণ করল জাতিসংঘ

এই লেখাটি 109 বার পঠিত

যুক্তরাষ্ট্র অফিস : শান্তিরক্ষা মিশনে আত্মোৎসর্গকারী ৫জন বাংলাদেশিসহ বিশ্বের ৪২টি দেশের ১৪০ শান্তিরক্ষী ও বেসমারিক নাগরিককে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে জাতিসংঘ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ উপলক্ষে এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল আয়োজিত এই স্মরণসভার শুরুতে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে নিহতদের স্মরণ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ, সাধারণ পরিষদের সভাপতি মিরোস্লাভ লাইচ্যাক এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি গুস্তাভো মেজা-কোয়াড্রা। এসময় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং স্থায়ী মিশনের সামরিক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খান ফিরোজ আহমেদসহ জাতিসংঘে কর্মরত বাংলাদেশ সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তারা এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে নিহতদের মধ্যে ১২৩ জন সামরিক বাহিনী, ৩ জন পুলিশ এবং ১৪জন বেসামরিক সদস্য। এর মধ্যে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা হলেন, ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর মালি মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিপাহী মো. আবুল বাশার, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. আব্দুর রহিম, ২০১৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মালি মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত সিপাহী মো. মনোয়ার হোসেন, ল্যান্স কর্পোরাল মো. জাকিরুল আলম সরকার ও সার্জেন্ট মো. আলতাফ হোসেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আত্মোদানকারী জাতিসংঘের সকল শান্তিরক্ষী ও বেসমরিক কর্মীর প্রতি গভীর শোক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সহনশীলতা ও উদারতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের নীল পতাকা বিশ্বের অসহায় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নত ভবিষ্যতের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে আশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। অসহায় এই মানুষেরা তাদেরই ওপর নির্ভর করে যারা জাতিসংঘে সেবা দেওয়ার জন্য নিজেদেরকে নিবেদিত করেছেন। আজ, আমরা আত্মদানকারী সকল সহকর্মীদের স্মরণ করছি এবং তাদের উদারতা ও অবদানের প্রতি স্বীকৃতি জানাচ্ছি।

জাতিসংঘ মহাসচিব আরো বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষী, মানবিক সহায়তাদানকারী এবং অন্যান্য সহকর্মীদের সাহস ও প্রতিশ্রুতি ব্যতীত, আমরা প্রতিদিন যা করছি, তা অর্জন করতে পারতাম না। বিশেষ করে কঠিন ও বিপজ্জনক পরিবেশে। তিনি বলেন, এটা আমাকে ক্ষুব্ধ করে যখন দেখি খুব সামান্য কোন কারণে আমাদের ওপর আক্রমণ হয় যা কোন কোন ক্ষেত্রে যুদ্ধপরাধের শামিল।
মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী কর্মীদের ওপর আক্রমণকারীদের প্রতিহত করতে এবং শান্তিরক্ষা মিশনসমূহের নিরাপত্তা উন্নত করতে তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ একটি অন্যতম বৃহৎ শান্তিরক্ষী সরবরাহকারী দেশ। ১৯৮৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত শান্তিরক্ষা মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় বাংলাদেশের ১৪৩ জন শান্তিরক্ষী মৃত্যুবরণ করেছেন।

Aviation News