শাহ আমানত বিমানবন্দরে নামতে পারেনি তিনটি ফ্লাইট

এই লেখাটি 292 বার পঠিত
শাহ আমানত

শাহ আমানত বিমানবন্দরে নামতে পারেনি তিনটি ফ্লাইট।

অব্যাহত বর্ষণে বুধবার চতুর্থদিনের মতো বিপর্যস্ত অবস্থা ছিল চট্টগ্রামে। এদিনও সকাল থেকে দিনভর বৃষ্টি ঝরে। কখনও বা হালকা, আবার কখনও বা ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণে তলিয়ে যায় মহানগরীর নিচু এলাকাগুলো। ঠিকমতো যানবাহন চলাচল করতে না পারায় সড়কগুলোতে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয় যাত্রীসাধারণকে। বিশেষ করে বিমানবন্দর সড়কে ভোগান্তির সীমা ছিল না। আবহাওয়া বৈরী থাকায় পতেঙ্গা শাহ আমানত বিমান বন্দরে নামতে পারেনি তিনটি ফ্লাইট। চট্টগ্রাম বন্দর বহির্নোঙ্গরে পণ্য লাইটারিং এদিনও একপ্রকার বন্ধ থাকে। এদিকে, সমুদ্র বন্দরসমূহের জন্য জারি করা সতর্ক সঙ্কেত সরিয়ে নিতে বলেছে আবহাওয়া দফতর। তবে আরও দুয়েকদিন বৃষ্টিপাত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ১৩৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার। এ বর্ষণ বৃহস্পতিবারও অব্যাহত থাকতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার লক্ষণ রয়েছে। সমুদ্র বন্দরগুলোর জন্য ইতোপূর্বে জারি করা ৩ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত প্রত্যাহার করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত তিনদিনের বর্ষণ বুধবারও অব্যাহত ছিল। সকাল থেকে থেমে থেমে ঝরতে থাকে বৃষ্টি। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া ঘণ্টাখানের বর্ষণ ছিল অতি ভারি। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে। দিনের বেলায় একটি বারের জন্যও সূর্যের দেখা মেলেনি। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নগরজীবনে দুর্ভোগ একই রকম থেকে যায়। সকালে অফিস যাত্রীরা কর্মস্থলের উদ্দেশে বেরিয়ে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েন। কোন কোন এলাকায় হাঁটু থেকে বুক পানি। রিক্সা চলার অবস্থাও নেই। বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস হয়নি।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর সূত্রে জানানো হয়, আবহাওয়া বৈরী থাকায় কলকাতা থেকে ছেড়ে আসা রিজেন্ট এয়ারওয়েজ এবং ইউএস বাংলার দুটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। ফ্লাইট দুটিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে হয়। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে নামতে ব্যর্থ হয়ে কক্সবাজারে অবতরণ করেছে।

শাহ আমানত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারওয়ার-ই-জামান জানান, যে তিনটি ফ্লাইট সিডিউল অনুযায়ী নামতে পারেনি সেগুলো বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে অবতরণ করেছে। বিকেল থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। তবে আগের দিন মঙ্গলবার রিজেন্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে যেতে হয়েছে ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রী রেখে। তবে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ যাত্রীদের তারা বিনা ভাড়ায় বহন করবেন। এদিন ফ্লাইট ধরতে পারেননি ৩ জন হজযাত্রী। সৌদির উদ্দেশে হজফ্লাইটটি ৪০২ জনকে নিয়ে যাত্রা করার কথা থাকলেও উড্ডয়ন করেছে ৩৯৯ জন নিয়ে। তবে বুধবার কোন ফ্লাইট মিস করার ঘটনা ঘটেনি। বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক আরও জানান, এয়ারপোর্ট রোডে তীব্র যানজটের বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিদেশ যাত্রীরা যেন বিমানবন্দর পর্যন্ত আসতে পারেন সে ব্যাপারে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে।

 

Aviation News