বেইজিং বিমানবন্দর হতে চলেছে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দর

এই লেখাটি 166 বার পঠিত
beijing

বেইজিং বিমানবন্দর হতে চলেছে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দর।

প্রযুক্তির আধুনিকতার এই সময়ে চীন পুরো বিশ্বকে একের পর এক চমক দেখিয়ে যেন তাকে লাগিয়ে দিচ্ছে। পাক্কা ৫ বছরের মাথায় নির্মাণকাজ শেষ হল বেইজিংয়ের ড্যাকসিং এয়ারপোর্টের। এয়ারপোর্টের চোখ ধাঁধানো নির্মাণশৈলী বর্তমান আধুনিকতাকে এক অনন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বছরে ৫০মিলিয়ন যাত্রী পরিবহন করার ক্ষমতা নিয়ে এ বছরই পরিসেবা শুরু করবে এই বিমানবন্দর।

এই বিমানবন্দরের কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে, সেই সময়টাতে চীনের অর্থনৈতিক অবস্থা কিছুটা নাজুক ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল এর অবকাঠামো, ও নির্মাণকাজ সঠিক সময়ে শেষ করা। এই চ্যালেন্জটি মোকাবেলায় শি জিনপিংয়ের সরকার শতভাগ সফল।

এই বিমানবন্দরের সার্বিক কাঠামো ডিজাইন করেন ইরাকী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ স্থপতি জাহা হাদীদ। আশা করা হচ্ছে যে ফিনিক্সের আকারে তৈরী ভবনটি ২০২১ সাল থেকে বছরে ১০০ মিলিয়ন যাত্রীকে সেবা দেবে। সারা বিশ্বের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যস্ততম এয়ারপোর্ট হচ্ছে আটলান্টার হার্টসফিল্ড জ্যাকসন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ধারণা করা হচ্ছে এই ড্যাকসিং এয়ারপোর্ট আগামী বছর নাগাদ হয়ে উঠবে বিশ্বের ব্যস্ততম একটি এয়ারপোর্ট।

ইস্তানবুল এয়ারপোর্টের পর এই এয়ারপোর্টটি হতে যাচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম টার্মিনালের বিমানবন্দর। ড্যাকসিং বিমানবন্দর থেকে প্রতি ঘন্টায় ৩০০টি বিমান ছেড়ে যেতে কিংবা অবতরণ করতে পারবে। ৪টি সুবিশাল রানওয়ে রাখা হয়েছে যাতে বড় ফ্লাইটগুলো এখান থেকে ছেড়ে যেতে পারে। তিয়েনজিনের সিভিল এভিয়েশন ইউনিভার্সিটির এয়ারপোর্ট ইকোনমিকসের অধ্যাপক কও ইয়ঞ্চুন বলেন, “নতুন এই বিমানবন্দরটি ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের জনগণের প্রাত্যহিক যাওয়া আসা, বাইরের দেশ ভ্রমণ, বিভিন্ন পণ্য আমদানি রপ্তানি, পুঁজি এবং প্রযুক্তির প্রবাহের কেন্দ্রস্থল হবে।”

নতুন বিমানবন্দর ২৮ টি শহর থেকে যাত্রীদের সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যারা হাই-স্পিড রেলের মাধ্যমে তিন ঘণ্টার মধ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন। শহরের সাবওয়ের সাথে বিমানবন্দরের সংযোগ থাকবে যাতে যাত্রীরা সহজে ও দ্রুত এখানে পৌঁছাতে পারেন। বলা হচ্ছে, এই বিমান বন্দরের ৪টি রানওয়ে এবং ৬টি অপারেটিং রানওয়ে ২০২৫ সাল নাগাদ ১০০ মিলিয়ন যাত্রী এবং ৪মিলিয়ন টন পণ্যসামগ্রী পরিবহন করতে পারবে। প্রকল্প পরিচালক লি জিয়াহুয়া বলেন, “আমরা এই বিমানবন্দরের নির্মাণকাজের জন্য বাইরে থেকে কোন কাঁচামাল নিয়ে আসিনি, নির্মাণের জন্য বেশিরভাগ সরঞ্জামই চীনেই তৈরি করা হয়।”

বিমানবন্দরটির কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্পটি দেশীয় শিল্প ও অর্থনীতির গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই এয়ারপোর্ট উদ্বোধন হবে আসছে সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখে।

Aviation News