বিমানের ভুলের মাসুল দিলেন ১৩ যাত্রী

এই লেখাটি 252 বার পঠিত

বিমানের ভুলের মাসুল দিলেন কলকাতা ফেরত ১৩ যাত্রী। তাদের গন্তব্য ছিল আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের দ্বীপ সিসিলি। রোববার সকাল সোয়া ৭টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-০৯১ ফ্লাইটে কলকাতা যাওয়ার কথা থাকলেও ফ্লাইটটি চার ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকা থেকে উড্ডয়ন করে। ওই যাত্রীদের কলকাতা থেকে কলম্বো হয়ে সিসিলি যাওয়ার কথা ছিল। তাদের বহন করা বিমানের ফ্লাইট ঢাকা থেকে চার ঘণ্টা বিলম্বে কলকাতা পৌঁছে।

কলকাতায় গিয়ে তারা দেখতে পান- নির্ধারিত কলম্বোগামী ফ্লাইটের চেকিং গেট বন্ধ হয়ে গেছে। ভারতের ভিসা না থাকায় বিমানের ওই ফ্লাইটেই তাদের ঢাকায় ফেরত পাঠায় সেখানকার ইমিগ্রেশন পুলিশ।

চার ঘণ্টা দেরিতে ঢাকা থেকে ছাড়া বিজি-০৯১ ফ্লাইটে কলকাতা গিয়ে কানেক্টিং ফ্লাইট ধরতে পারবেন না জেনেও কী কারণে ওই ১৩ যাত্রীকে বিমান বহন করে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে? তার সদুত্তর দিতে পারেননি বিমানের কোনো কর্মকর্তারা।

ফেরত যাত্রীরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার দায়ে নেতাজি সুবাস চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন মোটা অংকের অর্থ জরিমানাও করেছে বিমানকে। তবে বিষয়টি স্বীকার করেননি বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এএম মোসাদ্দিক আহমেদ।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিলম্বের কারণে ফিরতি ফ্লাইটে তারা ঢাকায় ফিরেছেন। বিমানকে জরিমানা করা হয়েছে এমনটি আমার জানা নেই। জরিমানা করা হলে অবশ্য আমি জানতাম।

নিয়ম অনুয়ায়ী চার ঘণ্টা দেরিতে ছাড়া ফ্লাইটে কানেক্টিং ফ্লাইটের যাত্রীদের সময় বিবেচনা করে পাঠাতে হয়। এই ক্ষেত্রে বিমানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতি ছিল কিনা- এমন প্রশ্ন করা হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত বিমানের ফ্লাইট সার্ভিসের মহাব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, এটি ফ্লাইট বিলম্বের কারণে ঘটেছে। পৃথিবীর অনেক এয়ারলাইন্সে এমন বিলম্ব ঘটে।

তবে গাফিলতির বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহজালালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-০৯১ ফ্লাইট সার্ভিসে ছিলেন জিএসএস আমিরুল ইসলাম, জেজিএসও মোসলেহ উদ্দিন ও জাহিদ।

যাত্রীদের এই অার্থিক ক্ষতির দায় এখন কে নেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি আমি বলতে পারবো না, এ বিষয়ে জানতে হলে উপরের লেভেলে যোগাযোগ করেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভারতের কান্ট্রি ম্যানেজার সালমান হায়দারকে টেলিফোন দেয়া হলে তিনি স্টেশন ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

স্টেশন ম্যাজোর এম এ সাত্তারকে ফোন দেয়া হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। জরিমানার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য না করে বিমানের ঢাকা অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।

সূত্রঃ জাগোনিউজ২৪.কম

Aviation News