বাংলাদেশ বিমান আমাদের শঙ্কামুক্ত করবে কবে?

এই লেখাটি 669 বার পঠিত
bi,m

বাংলাদেশ বিমান আমাদের শঙ্কামুক্ত করবে কবে?

প্রধানমন্ত্রী ফিনল্যান্ড সফর শেষে কাতার হয়ে দেশে ফেরার কথা। তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের পাইলট পাসপোর্ট ছাড়া ঢাকা থেকে দোহা বিমানবন্দরে চলে যান। সেখানে কাতার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পাইলটের পাসপোর্ট না থাকায় তাকে আটক করার সংবাদ পাওয়া গেলেও বাংলাদেশ বিমান তা অস্বীকার করেছে।

এর আগেও বিমানের বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। যথারীতি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক কিছুই হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান যেখানে সরকার প্রধানের সবোর্চ্চ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সেখানে বিমান বাংলাদেশ বারবার বিভিন্ন ঘটনার জন্ম দিয়েই যাচ্ছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আকাশে চক্কর দিয়েছে অনেক সময় ধরে। তারপর বিমানে প্রধানমন্ত্রীর খাবার নিয়েও শঙ্কাজনক ঘটনা ঘটেছে। সব কটি ঘটনার তদন্ত হলেও শেষ পর্যন্ত প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করা যায়নি। এবার ঘটেছে একটি লজ্জাজনক ঘটনা। বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এখন কী দাঁড়ালো? কাতারের দোহা বিমান বন্দরে খোদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে পাইলট আটকের সংবাদ বর্হিবিশ্বে কী সংকেত দিল?
প্রধানমন্ত্রীকে আনতে বাংলাদেশ বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ পাসপোর্ট ছাড়া কেন এবং কীভাবে কাতার গেলেন, তা জানতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। একইসঙ্গে এ ঘটনায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ত্রুটি নিরুপণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।

আমাদের মনে হয় এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সুষ্ঠু তদন্ত করে এইসব ঘটনার মূল হোতাদের বের করে শাস্তির আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। আমরা আশা করি এবারের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন যেনো একটি কার্যকর হয়। সঙ্গে সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক। নতুবা এইসব নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী, দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নকারীদের দমন করা ভবিষ্যতে কঠিন হয়ে পড়বে বলে আমরা মনে করি।

Aviation News