কাগুজে লাভের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দেনায় জর্জরিত

এই লেখাটি 263 বার পঠিত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস গত তিন অর্থবছরে সাকল্যে ৬০৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। জাতীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ সংস্থাটির আর্থিক বিবরণীতে এমন তথ্য তুলে ধরা হলেও শুধু সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষই তাদের কাছ থেকে পাবে আড়াই হাজার কোটি টাকা।

গত ১৯ ডিসেম্বর বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কোম্পানির ১০ম বার্ষিক সাধারণসভায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরের আর্থিক বিবরণী অনুমোদিত হয় যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফা অর্জন করেছে ১৫১ কোটি টাকা। এর আগের আরও দুই বছর মিলিয়ে অর্থাৎ গত তিন অর্থবছরে বিমানের নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে ৬০৬ কোটি টাকা। অথচ সারচার্জ ছাড়াই বিমানের কাছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের নিট পাওনার পরিমাণ ৮০৬ কোটি টাকা। সারচার্জসহ যা দাঁড়িয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত অ্যারোনটিক্যাল ও নন অ্যারোনটিক্যাল খাতের হিসাব এটি। চলতি ফেব্রুয়ারিতে সেই দেনার পরিমাণ আরও কয়েক কোটি টাকা বাড়বে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসই নয়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানসহ দেশের আরও ৪টি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় ৩৩শ কোটি টাকা পাবে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। বছরের পর বছর ধরে দেনদরবার, মামলা-মোকদ্দমা চালিয়ে গেলেও বকেয়া আদায় করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। দেশীয় কয়েকটি এয়ারলাইনস চাপের মুখে কিস্তিতে কিছু বকেয়া পরিশোধ করলেও অবশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাড়া নেই। সমস্যা নিরসনে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় এই দেনা-পাওনা নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের সচিব এসএম গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে সভায় বিমানকে সিভিল এভিয়েশনের বকেয়া অর্থ পরিশোধের কথা বলেন সচিব।

সিভিল এভিয়েশন সূত্র জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ যে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বকেয়া পাবে সেগুলো হলোÑ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ, ইউএস বাংলা এয়ারওয়েজ। এ ছাড়া আরও দুটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও জিএমজি এয়ারলাইনস যেগুলো বর্তমানে দেনার দায়ে বন্ধ। এগুলোর মধ্যে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের কাছে অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল বকেয়া ২৩২ কোটি ৭১ লাখ ১ হাজার ৯৫৪ টাকা; ইউএস বাংলার কাছে ৮০ কোটি ৩০ লাখ ৫ হাজার ২৭৫ টাকা; ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কাছে ১৪১ কোটি ৪৬ লাখ ২৫ হাজার ৩০১ টাকা; জিএমজি এয়ারলাইনসের কাছে ১১৭ কোটি ৩৮ লাখ ৭৪ হাজার ২৪৫ টাকা পাবে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। বকেয়া পেতে ইতোমধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও জিএমজি এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

বিপুল পরিমাণ বকেয়া প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম-জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, ব্যবসা করলে দেনাপাওনা থাকবেই। আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে তা পরিশোধ করা হবে।

সিভিল এভিয়েশনের পরিচালক (অর্থ) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, কয়েকটি বিমান সংস্থার কাছে আমরা মোটা দাগে টাকা পাব এটা ঠিক। সময়ে সময়ে কিছু প্রতিষ্ঠান পাওনা পরিশোধও করছে। সর্বশেষ চলতি বছরের প্রথম দিকে আমাদের পাঁচ কোটি টাকার একটি চেক দিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

সূত্রঃ  আমাদের সময়

Aviation News