সেবার মান ও নিরাপত্তায় উন্নতি ঘটুক

এই লেখাটি 157 বার পঠিত

দুই বছর বন্ধ রাখার পর ঢাকা থেকে পুনরায় সরাসরি যুক্তরাজ্যে কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে সম্প্রতি। দুর্বল নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২০১৬ সালের মার্চে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো বিমানে পণ্য পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্য। সে সময় বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের সুযোগকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়। যুক্তরাজ্যের পর অস্ট্রেলিয়া এবং পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব দেশ নৌ ও আকাশপথে সরাসরি কার্গো পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল দেশের ভাবমূর্তি। আধুনিক বিশ্বে এখন নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। সুতরাং ন্যূনতম অব্যবস্থাপনার মূল্য যে কত বড়, তা আজ বেশ স্পষ্ট। পরবর্তী সময়ে যাতে নিরাপত্তার মান নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে, সে ব্যাপারে এখন দৃষ্টি রাখতে হবে। যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মধ্যেই বিমানবন্দরে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে এরই মধ্যে বেশ আলোচনা চলছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে কয়েকজন বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকায় ঢুকে পড়েন। এছাড়া পণ্য চুরির অভিযোগ কিন্তু কমেনি। সেবার মান নিয়েও রয়েছে অসন্তুষ্টি।

দুই বছর ধরে কার্গো বিমানে পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ অন্তত দুটি দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একদিকে কার্গো পরিবহনে আয় কমেছে, আরেক দিকে পণ্য রফতানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাণিজ্যিক ক্ষতির পাশাপাশি দেশের মর্যাদাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কার্গো পরিবহন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অন্যতম আয়ের উৎস। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিমান ভালো মুনাফা অর্জন করলেও গত অর্থবছর থেকে কমছে সংস্থাটির নিট মুনাফা। এর অন্যতম কারণ কার্গো নিষেধাজ্ঞা। যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ৩০টি দেশের সুপার মার্কেটে বাংলাদেশী শাকসবজি ও ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যার পুরোটাই পাঠানো হয় কার্গো বিমানে এবং ৪০ শতাংশ সবজির ক্রেতা যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ৩০টি দেশে সবজি ও ফলমূল রফতানি থেকে আরো কয়েক গুণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে কার্গো পরিবহন নিয়ে চলা জটিলতার অবসান ও এভিয়েশন খাতের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হওয়ায় সে সম্ভাবনা বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

গেল দুই বছর অন্য দেশের মাধ্যমে রি-স্ক্যানিং করে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইইউভুক্ত দেশগুলোয় কার্গো পণ্য রফতানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। এতে ব্যয় ও সময় দুই দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ীরা। প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও হ্রাস পায়। সময় বাঁচাতে বেশি ব্যয়ে আকাশপথে পণ্য পাঠানোর প্রয়োজন হয়। সরাসরি কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ট্রানজিটে অনেক বেশি সময় নষ্ট হয়েছে গত দুই বছর। পচনশীল পণ্য ও তৈরি পোশাকসহ বেশির ভাগ রফতানি পণ্য এতে সমস্যায় পড়ে।

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ক্ষেত্রে গত বছর ইউকে ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্ট যেসব শর্ত দিয়েছিল, তা পূরণ করা হয়েছে। বর্তমানে শাহজালালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়েছে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেড লাইনকে। বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তাকর্মীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশিসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনেরও পরামর্শ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। কার্গো পণ্য স্ক্রিনিংয়ে কাজ করছে অ্যাভসেক ও বিজিবির ডগ স্কোয়াড। সর্বশেষ সংযোজন করা হয়েছে অত্যাধুনিক এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (ইডিএস)। আশা করা হচ্ছে, যুক্তরাজ্য সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে অস্ট্রেলিয়া ও ইইউর সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হবে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্গো পণ্য পরিবহনে অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকবে। এতে যেমন বিমানের আয় বাড়বে, তেমনি দেশের রফতানি খাতও সমৃদ্ধ হবে।

Aviation News