হাজিদের পাসপোর্টে হোটেলের ঠিকানা যুক্ত করার নির্দেশ

এই লেখাটি 98 বার পঠিত

চলতি বছর হজ পালনে যারা সৌদি আরব যাবেন তাদের পাসপোর্ট মোয়াল্লেম নম্বর ও মক্কা-মদিনার হোটেল বা বাড়িভাড়ার ঠিকানা সংযুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়টির হজ শাখা থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। জেদ্দা কিং আবদুুল আজিজ বিমানবন্দরে হজযাত্রীর দুর্ভোগ কমাতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (হজ) এসএম মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, ২০১৭ হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ই-হজ সিস্টেমে এন্ট্রি না করে সৌদি আরবের জেদ্দা কিং আবদুল আজিজ বিমানবন্দরের হজ টার্মিনালে হজযাত্রী পাঠানো হয়। কিন্তু হজযাত্রীদের ভিসাযুক্ত পাসপোর্টে সেখানকার মোয়াল্লেম নম্বর ও বাড়ি বা হোটেলের ঠিকানা যুক্ত না করায় হজযাত্রীদের আবাসনের উদ্দেশে বিমানবন্দর ত্যাগ করতে বিলম্ব হয়। জেদ্দা বিমানবন্দরে তারা চরম কষ্ট ভোগ করেন। ই-হজ সিস্টেম প্রবর্তিত হওয়ায় হজযাত্রীদের কষ্ট দূর করতে এবং রাজকীয় সৌদি সরকারের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের প্রত্যেক হজযাত্রীর ভিসাযুক্ত পাসপোর্টের পেছনে মোয়াল্লেম নম্বর, ভাড়া করা বাড়ি বা হোটেলের নাম ও ঠিকানা সংযুক্ত করে সৌদি আরব পাঠাতে হবে।
জেদ্দা হজ অফিসের মৌসুমি অফিসার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয় বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের পাসপোর্টে মোয়াল্লেম নম্বর ও মক্কা-মদিনার বাড়ি বা হোটেলের নাম ও তাসরিয়া নম্বরসংবলিত স্টিকার সংযুক্ত করা ছাড়াই হজযাত্রীদের সৌদি আরব পাঠানো হচ্ছে। ফলে হজযাত্রীদের জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে বাসযোগে মক্কা ও মদিনায় পাঠাতে বিলম্ব হচ্ছে। হজযাত্রীদের দীর্ঘসময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যা হজ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয় থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য বিব্রতকর ও সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার পরিপন্থী।
ওই চিঠি পাওয়ার পরই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. হাফিজ উদ্দিন বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের পাসপোর্টে মোয়াল্লেম নম্বর ও মক্কা-মদিনার বাড়ি বা হোটেলের নাম ও তাসরিয়া নম্বরসংবলিত স্টিকার সংযুক্ত করে হজযাত্রীকে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনার পর হজযাত্রীদের পাসপোর্টে মোয়াল্লেম নম্বর ও মক্কা-মদিনার বাড়ি বা হোটেলের নাম, ঠিকানা ও তাসরিয়া নম্বরসংবলিত স্টিকার সংযুক্ত করে হজযাত্রী জেদ্দা পাঠানোর কারণে ভোগান্তি দূর হয়। চলতি বছর যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালের হজযাত্রী নির্ধারণ ও হজ পালনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে রাজকীয় সৌদি সরকারের একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি গত ১৪ জানুয়ারি মক্কায় সম্পন্ন হয়েছে। হজচুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজারসহ মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ বাংলাদেশি হজ পালন করতে পারবেন।

Aviation News