এয়ার ফোর্স ওয়ান, যেই বিমান নিয়ে রহস্যের শেষ নেই

এই লেখাটি 271 বার পঠিত

মার্কিন প্রেসিডেন্টের উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার। সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত বিমান। ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক সংক্ষেপে।

আর ফ্র্যাংলিন ডি. রুজভেল্ট হচ্ছেন প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আকাশে ওড়েন। ১৯৪৩ সালে তাঁকে নিয়ে বোয়িং-৩১৪ ক্লিপার ফ্লায়িং বোট ‘ডিক্সি ক্লিপার’ ৮,৮৫১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে কাসাব্লাংকা কনফারেন্সে আসে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণে উইন্সটন চার্চিল এবং শার্ল দ্য গোলের সঙ্গে বৈঠক করেতে সেখানে যান তিনি। আর ফেরার পথে বিমানের মধ্যেই পালন করেন নিজের জন্মদিন। বিমানটির খাবার ঘরে রুজভেল্টের জমকালো জন্মদিন পালন করা হয়।

১৯৪৫ সালে ফ্র্যাংকলিন ড. রুজভেল্টের জন্য সি-৫৪’র অর্ডার দেয়া হয়। যেটির ডাক নাম ছিলো ‘সেকিউর কাউ’। এটিই মার্কিন ইতিহাসের প্রথম বিমান যেটি শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়। এতে ছিলো, রেডিও টেলিফোন, ঘুমানোর বিশেষ জায়গা এবং একটি সংকোচনীয় লিফটও ছিলো। তবে মৃত্যুর আগে একবারই বিমানটি ব্যবহার করতে পেরেছিলেন রুজভেল্ট৷

জেট প্রযুক্তির কারণে গত শতকের ষাটের দশক থেকে রাষ্ট্রপ্রধানদের মুখোমুখি বৈঠক নিয়মিত ব্যাপার হয়ে ওঠে। ১৯৭২ সালে স্পেশাল এয়ার মিশন (এসএএম) ২৬০০০-এ চড়ে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে চীন সফর করেন নিক্সন। ফার্স্ট লেডি জেকি কেনেডি এয়ার ফোর্স ওয়ানের বর্তমানের আইকনিক ট্রেডমার্ক: গাঢ় নীল এবং উজ্জ্বল সাদা রং এবং তার উপরে লেখা ইউনাইটেড স্টেটস অফ অ্যামেরিকার নকশা করেছিলেন।

প্রয়োজনমতো পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭-২০০বি বিমান ৭৬ জন যাত্রী এবং ২৬ জন ক্রু পরিবহণ করত পারে। এটির উপরের ডেকে থাকা কমিউনিকেশন রুম থেকে প্রেসিডেন্ট চাইলে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারেন। পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে বাঁচতেও বিমানটির বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ান কেবলই একটি ট্রান্সপোর্ট নয়। এই বিমানে বসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কার্যত বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে দেশ পরিচালনা করতে পারেন। এ জন্য বিমানটিকে বলা হয় ‘উড়ন্ত ওভাল অফিস’।

ভবিষ্যতে এয়ার ফোর্স ওয়ানের আরও আধুনিকায়ন করা হবে। পরবর্তী প্রেসিডেন্সিয়াল বিমানটি হবে একটি বোয়িং ৭৪৭-৮। এটিতে থাকবে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস প্রতিরোধক ব্যবস্থা, উড়ন্ত অবস্থায় তেল ভরার ক্ষমতা এবং আরো আধুনিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। সেই শুরুর ‘ডিক্সি ক্লিপারের’ তুলনায় এটি হবে দ্বিগুণের বেশি লম্বা আর তিনগুণ দ্রুত গতির।

সূত্র: ডি ডব্লিউ

Aviation News