এবার ভিসা ছাড়া প্লেনে ওঠার চেষ্টা কাস্টমস কর্মকর্তার

এই লেখাটি 315 বার পঠিত

পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) পর এবার কাস্টমসের অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটিতে (পিআরএল) থাকা এক কর্মকর্তা পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজের একটি ফ্লাইটে ওঠার চেষ্টা করেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত রবিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে গতকাল মঙ্গলবার এ ঘটনা জানা গেছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, পিআরএলে থাকা কাস্টমস কর্মকর্তা তোহরা বেগমের ছেলের অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার ভিসা ছিল। ছেলের সঙ্গে তোহরা পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওঠার চেষ্টা চালান। পরে তাঁকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দিয়েছেন। তবে পর পর দুটি ঘটনায় বিমানবন্দরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিমানবন্দর থানার ওসি নুরে আজম মিয়া গতকাল বলেন, পুলিশের পোশাক পরে শনিবার রাতে এক এসআই একটি ফ্লাইটে উঠে গিয়েছিলেন। এর রেশ কাটতে না কাটতে এবার কাস্টমসের এক নারী কর্মকর্তা আরেকটি ফ্লাইটে ওঠার চেষ্টা করেন। তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, রবিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তোহরা বেগম তাঁর ছেলেকে নিয়ে বিমানবন্দরের দ্বিতীয় তলায় আসেন। ওই সময় তাঁর গলায় কাস্টমসের আইডি কার্ড ঝুলানো ছিল। ৩ নম্বর গেট দিয়ে তাঁরা ভেতরে ঢোকেন। কাস্টমসের আইডি কার্ড থাকায গেটে দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষীরা তোহরাকে ঢুকতে বাধা দেয়নি। ছেলের জন্য বোর্ডিং কার্ড সংগ্রহ এবং ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তাঁরা। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ওই ফ্লাইটের সব যাত্রীকে বাসে করে উড়োজাহাজের সামনে নেওয়া হয়। যাত্রীরা ওঠার মাঝখানে ১০ নম্বর বোর্ডিং ব্রিজের (উড়োজাহাজে ওঠার সিঁড়ি) ছেলেকে নিয়ে ফ্লাইটে ওঠার চেষ্টা চালান তোহরা। তখন নিরাপত্তা কর্মীরা বাধা দেন। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে তর্ক হয়। ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং বিমান ও সিভিল অ্যাভিয়েশনের কর্মকর্তারা রানওয়েতে ছুটে যান। তাঁকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে তাঁকে ছেড়ে দেন। তবে নির্দিষ্ট সময়ে ওই ফ্লাইট ছেড়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে সিভিল অ্যাভিয়েশনের এক কর্মকর্তা বলেন, শনিবার পুলিশের এসআই আশিকুর রহমান একটি ফ্লাইটে উঠে পড়েছিলেন। ওই ঘটনার রেশ এখনো শেষ হয়নি। এরই মধ্যে আরেকটি ঘটনা ঘটে গেল। এ ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।

সিভিল অ্যাভিয়েশনের ওই কর্মকর্তা আরো জানান, তোহরা বেগম অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটি পিআরএলে আছেন। আগের আইডি কার্ডটি ব্যবহার করে তিনি প্রতারণা করেছেন। ওই কার্ডের মেয়াদও ছিল না। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ভিসা ও টিকিট ছাড়া তিনি বিমানে উঠতেই পারেন না।’

ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এসআই আশিকুর রহমানের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার কারণে একজন এএসআই ও একজন কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘন করেছেন তোহরা বেগম। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তিনি কিভাবে বোর্ডিং ব্রিজে চলে গেলেন তাও খতিয়ে দেখা হবে। কারো গাফিলতি থাকলে কিছুতেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ

Aviation News