মালয়েশিয়ায় দালালের অমানবিকতায় বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

এই লেখাটি 77 বার পঠিত

মালয়েশিয়ায় আদম দালালের অমানবিকতায় মইনুল নামে এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাত ৯টায় সারডাং হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মইনুল নাটোর থেকে ভাগ্য ফেরানোর আশায় আদম দালালের মাধ্যমে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান।

জানা গেছে, টাকা-পয়সা ধার দেনা ও নিজের ভিটেমাটি বিক্রি করে টাকা দেন আদম দালালের হাতে। দালাল তাকে নাটোর থেকে ঢাকা, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পেরিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসে।

এরপর জাহাজে করে তাকে নেয়া হয় ইন্দোনেশিয়ার গহীন জঙ্গলে। সেখানে তিনি দীর্ঘদিন মানবেতর জীবন যাপন করেন। এক পর্যায় মালয়েশিয়ার জহুর প্রদেশে প্রবেশ করানো হয় মইনুলকে। জহুর প্রদেশে এখানে-সেখানে অবস্থান করানোর পর অবশেষে কাজ মেলে মালয়েশিয়ার একটি কারখানায়।

মইনুলের ভিসা, পাসপোর্ট না থাকায় সাবধানে চলাফেরা করতে হতো। সহজে কাজও মিলতো না। আবার কাজ মিললেও টাকা পেতো না নিয়মিত। যেহেতু অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় গেছে সেহেতু অভিযোগ করার মতো কোনো জায়গা ছিল না তার।

বলা যায় এক প্রকারের বন্দী জীবন ছিল মইনুলের। দালাল মাসে মাসে টাকা নেয় কাজ দেয়ার জন্য। মাস শেষ হলেই বেতনের এক তৃতীয়াংশ নেয় দালাল। এরপর পাসপোর্ট পারমিট করে দেয়ার জন্য নেয় হাজার হাজার রিংগিত।

মইনুলকে সব সময় মানষিক যন্ত্রণায় রাখতো আদম দালাল চক্রটি। দালালের অত্যাচারেই মইনুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। এছাড়া মইনুলকে বৈধ করার নামে বিভিন্ন সময়ে বহু টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। এতসব সমস্যা সমাধান করা তার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠেনি।

হতাশা কাটিয়ে উঠতে না পেরে মইনুলের প্যারালইজড হয়। মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা খরচও অনেক বেশি। দেশে ফেরার টাকাও নেই। এছাড়া আইনি জটিলতা তো আছেই।

হতাশা, টেনশনের কারণে ভেঙে পড়েন তিনি। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরতে পারেননি। ধার-দেনা, পরিশোধের চিন্তা তাকে সব সময় তাড়া করতো। দেশে ফেরা হলো না মইনুলের। হাসপাতালে দীর্ঘদিন কষ্ট করার পর অবশেষে মইনুল না ফেরার দেশে চলে গেল।

Aviation News