যাত্রী হয়রানি করছে সিভিল অ্যাভিয়েশন ও কাস্টমসঃ টিআইবি

এই লেখাটি 149 বার পঠিত

সিভিল অ্যাভিয়েশন এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ এনেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার-এপিবিএন এবং ইমিগ্রেশন পুলিশও হয়রানিতে জড়িত বলে তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে টিআইবির পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে পাওয়ার পয়েন্টে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে এসব তথ্য জানানো হয়।

টিআইবির উদ্যোগে গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপক্ষে ৯ খাতে যাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় এবং নিয়মবহির্ভূত অর্থ দিতে হয়। ‘শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম : যাত্রীসেবা কার্যক্রমে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার জাফর সাদেক চৌধুরী। এরপর সংবাদ সম্মেলনে সনাক-টিআইবির চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, বিমানবন্দরে সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে আছে সিভিল এভিয়েশন, ইমিগ্রেশন, আনসার-এপিবিএন ও বিভিন্ন এয়ালাইনস কর্তৃপক্ষ এবং কাস্টমস। এদের মধ্যে সিভিল এভিয়েশন এবং কাস্টমস সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করে। যারা নিরাপত্তা প্রহরী আছে, তারা নানাভাবে যাত্রীদের টাকা-পয়সার জন্য হয়রানি করে।

লিখিত বক্তব্যে যে ৯ খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি ও হয়রানির তথ্য সনাক-টিআইবি তুলে ধরেছে, তার মধ্যে রয়েছেÑ বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় আনসার সদস্যদের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হওয়া; প্রায়ই মালামাল লুকিয়ে রেখে আনসার সদস্যরা ৫০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত বকশিশ আদায় করা। একইভাবে যাত্রী বিমানবন্দর ত্যাগের সময়ও আনসার সদস্যরা বকশিস আদায় করেন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, যাত্রীরা বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মীরা লাগেজ নিয়ে টানাটানি করেন। অটোরিকশা ঠিক করে দেওয়া কিংবা মালামাল একটু এগিয়ে দেওয়ার নামে ১০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত বকশিশ আদায় করে।
কাঁচি ও আয়রন জাতীয় ধাতব বস্তু এবং শুঁটকি, ফলমূল, রান্না করা খাবার, কাঁঠালের মতো পচনশীল বস্তু পরিবহনের উপযুক্ত না হলেও ২০০ থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে সেগুলো পরিবহণের সুযোগ দেন সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীরা। বহির্গমন কার্ড পূরণের জন্য যাত্রী বিশেষত প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা নেন সিভিল এভিয়েশন, ইমিগ্রেশন বিভাগ ও এয়ারলাইনসে কর্মরতরা।

ইমিগ্রেশন বিভাগের টাকা আদায়ের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে গবেষণা প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, ভিজিট ভিসার মাধ্যমে যারা মধ্যপ্রাচ্যে যান তাদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। ভিসার মেয়াদ কম, ছবি ঠিক নেইÑ এসব অজুহাতেও প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। ১০০ টাকা কিংবা ২৫ মার্কিন ডলারের বেশি মুদ্রা আটকের এখতিয়ার কাস্টমস কর্তৃপক্ষের থাকলেও চূড়ান্ত চেকের সময় নিরাপত্তা কর্মীরা সেগুলো জোরপূর্বক কেড়ে নেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বোর্ডিং লাউঞ্জে খাবারের দাম অস্বাভাবিক বেশি। সনাক-টিআইবি প্রতিবেদন বলছে, অনেক যাত্রীই মনে করেন বোর্ডিং লাউঞ্জে খাবারের দাম বাইরের দোকানের চেয়ে বেশি থাকা স্বাভাবিক। এজন্য যে কফি বাইরে ১০ টাকায় বিক্রি হয়, বিমানবন্দরের ভেতরে সেটা ৩০ টাকা।

শুল্ক বিভাগের কর্মীদের একাংশের সহায়তায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে মদ-তামাক জাতীয় আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য ছাড় করা হয়। আবার যাত্রীরা শর্ত সাপেক্ষে আমদানির যোগ্য টেলিভিশন, সোনার বার, মোবাইল, শাড়ি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আসেন। এক্ষেত্রে ২ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে। সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সনাকের সহ-সভাপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, টিআইবির সাধারণ পরিষদ সদস্য প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরের এরিয়া ম্যানেজার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

Aviation News