উড়োজাহাজ সঙ্কটে বিমান, নতুন রুট চালু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

এই লেখাটি 281 বার পঠিত

উড়োজাহাজ সঙ্কটে বিমান, নতুন রুট চালু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রোম সফরে ঢাকা-রোম-ঢাকা ফ্লাইট চালুর দাবি উঠলেও আগামী ছয় মাসে বিমানের কোনো নতুন রুট চালুর সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে বিমানের বহরে চলছে চরম উড়োজাহাজ সংকট। বহরে ১৩টি উড়োজাহাজ থাকলেও একটির লিজের মেয়াদ শেষ হয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি, যে কোনো দিন চলে যাবে সেটি। আগামী দুই মাসের মধ্যে আরও দুটি উড়োজাহাজের লিজচুক্তি শেষ হবে।

হজ ফ্লাইট পরিচালনা করতে এরই মধ্যে তিনটি উড়োজাহাজ সংগ্রহে লিজের টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদের লিজে আরও দুটি উড়োজাহাজ আনার চেষ্টা করছে বিমান।

এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে ঢাকা-রোম-ঢাকা রুট চালু করবে বিমান- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, এ বছর নভেম্বরের মধ্যে বিমান বহরে যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রজন্মের দুটি ড্রিমলাইনার। আগামী বছরের মাঝামাঝি আসবে আরো দুটি। চলতি বছরেই আমরা দূরপাল্লার কয়েকটি রুট চালু করতে পারব।

ঢাকা-রোম-ঢাকা রুট চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার এ রুট চালুর সিদ্ধান্ত নিলে আমরা যে কোনো মূল্যে সেটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যকর করব। তবে বিমানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনই ঢাকা-রোম-ঢাকা রুট চালুর কোনো সম্ভাবনা নেই।

গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা রোমের পার্কো দ্য প্রিনসিপি গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড এসপিএতে আওয়ামী লীগের ইতালি শাখা আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢাকা-রোম-ঢাকা ফ্লাইট চালুর বিষয়ে কথা বলেন। তিনি এ রুট বন্ধের জন্য তৎকালীন বিএনপি সরকারকে দায়ী করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাভজনক হলে ঢাকা-রোম-ঢাকা সরাসরি বিমান ফ্লাইট পুনরায় চালু হবে। বিএনপি সরকারের দুর্নীতি এবং তাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ বিমানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। লাভজনক হলে আমরা পুনরায় ঢাকা-রোম-ঢাকা ফ্লাইট চালু করব।

প্রধানমন্ত্রীর মুখে এমন আশ্বাসের কথা শুনে বিমানের সংশ্লিষ্টরা নড়েচড়ে বসেন। শুরু হয় নানা হিসাব-নিকাশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অব্যাহত লোকসান এবং আদম পাচারের অভিযোগে ২০১৫ সালের এপ্রিলে বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-রোম-ঢাকা ফ্লাইট। রোম ফ্লাইটে ভুয়া ট্রাভেল ডকুমেন্টস দিয়ে আদম পাচারের করণে বিমানকে প্রায়ই জরিমানা করতো রোমের ইমিগ্রেশন। বিমানের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী রাতারাতি বিশাল বিত্ত-বৈভবের মালিক বনে গেলেও তাদের অপকর্মের কারণে ডিপোর্টি যাত্রীপ্রতি (নির্বাসিত যাত্রী) বিমানকে লাখ লাখ টাকা গুণতে হতো। বিমানের সিকিউরিটি বিভাগ ও পোস্ট ফ্লাইট এনালাইসিস-পিএফএ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

১৯৮১ সালে ঢাকা-রোম-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে বিমান। শুরুতে এ রুটে সপ্তাহে দুটি করে ফ্লাইট চলাচল করতো। এক দশক পর ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে একটি করা হয়। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি ইতালিতে বসবাস করছেন। তাদের অধিকাংশই বিমানের ফ্লাইটে দেশে আসা-যাওয়া করতেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার ইতালি সফর করেন। এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঢাকা-রোম-ঢাকা রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান।

Aviation News