ধাপে ধাপে অনিয়ম চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে

এই লেখাটি 150 বার পঠিত

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিমানবন্দরে যাত্রী প্রবেশ থেকে শুরু করে বোর্ডিং লাউঞ্জ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায় হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

‘শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম : যাত্রীসেবা কার্যক্রমে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে গতকাল বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে টিআইবি। প্রতিবেদন ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রগ্রাম ম্যানেজার জাফর সাদেক চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী, নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, টিআইবির সাধারণ পরিষদ সদস্য প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, রওশন আরা চৌধুরী, জুলিয়েট রোজেটি, মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি ও অনিয়ম থেকে উত্তরণে ১৩ দফা সুপারিশ দিয়েছে টিআইবি।

২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে সংগৃহীত তথ্যের ওপর প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ধাপে ধাপে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে বিমানবন্দর ব্যবহারকারী সিভিল এভিয়েশন, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, আনসার ও বিভিন্ন বিমান সংস্থার একটি অংশের কর্মীরা জড়িত। ভিজিট বা ভ্রমণ ভিসা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া শ্রমিকদের নিয়মবহির্ভূতভাবে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতি কর্মীর কাছ থেকে ৩০-৩৫ হাজার করে টাকা নেয় বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনকর্মীদের একটি অংশ। আর বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে বোর্ডিং লাউঞ্জ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায় করা হয়। আর প্রবেশ এবং প্রস্থানের সময় আনসার বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা যাত্রী হয়রানির ঘটনা ঘটে। অনেক সময় যাত্রীর জিনিসপত্র লুকিয়ে রেখে ৫০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বকশিশ আদায় করা হয়। আর কাস্টমসকর্মীদের বিরুদ্ধে শুল্কযুক্ত পণ্য শুল্ক ছাড়াই ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। শুধু তা-ই নয়, কোনো যাত্রীর বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের হয়রানি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ মিলেছে। ভিসার মেয়াদ কম, ছবি ঠিক নেই এসব অজুহাতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী যাত্রীদের থেকে নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠে এসেছে গবেষণায়। কেবিন ব্যাগে বহন নিষিদ্ধ পণ্য সিভিল এভিয়েশনের কর্মীরা টাকা বিনিময়ে বহনের অনুমতিরও অভিযোগ মিলেছে। যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক কিছু উদ্যোগের প্রশংসা করেছে টিআইবি।

এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে উত্তরণে ১৩ দফা সুপারিশ দিয়েছে টিআইবি। যার মধ্যে রয়েছে যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধিতে অবকাঠামো উন্নয়ন, লোকবল বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বকেয়া টাকা আদায়, নতুন বোর্ডিং ব্রিজ ক্রয়, চেক ইন কাউন্টার বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত ইমিগ্রেশন বুথ সচল রাখা, লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডের ওয়্যারহাউসের আয়তন বাড়ানো, তথ্য ডেস্ক স্থাপন, নিরাপত্তা তল্লাশি, ইমিগ্রেশন, শুল্কসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে যাত্রী হয়রানি বন্ধসহ নানা বিষয়।

এ বিষয়ে শাহ আমানত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারোয়ার ই জাহান বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। তাদের রিপোর্ট ও সুপারিশ এখনো পাইনি। বিমানবন্দরের সেবা বাড়াতে রিপোর্ট পেলে যাচাই করেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

Aviation News