১৮ ফেব্রুয়ারি উঠছে যুক্তরাজ্যের কার্গো নিষেধাজ্ঞা

এই লেখাটি 390 বার পঠিত

অবশেষে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আকাশপথে পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। যদিও গত বছর ডিসেম্বর মাসেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ও বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশন যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এজন্য বাংলাদেশকে মানতে হবে কয়টি শর্ত। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশন অথরিটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ও বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশন যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী শাহজাহান কামাল, সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক উপস্থিত থেকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে সরাসরি আকাশপথে পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তথ্য তুলে ধরবেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে আসবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা।

সিভিল এভিয়েশন অথরিটি সূত্রে আরও জানা গেছে,নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে যুক্তরাজ্য। শর্ত অনুসারে, শাহজালালের নিরাপত্তা বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদে দুজন পরামর্শ নিয়োগ, এভিয়েশন সিকিউরিটিতে ইউকে মডেল অনুসরণ করা, ইউকে ও বাংলাদেশের যৌথভাবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করা।

১৮ ফেব্রুয়ারি সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ও বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশন যৌথ সংবাদ সম্মেলন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল এভিয়েশন অথরিটির এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ কর্মকর্তা বলেন, যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন হবে। সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ হাইকমিশন কী বিষয়ে কথা বলবেন তা আমরা এখনও নিশ্চিত নই। তবে আশা করছি ভালো কোনও সংবাদ আসবে।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী সপ্তাহে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ও বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশন যৌথ সংবাদ করবে। সেখানে মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। ডিসেম্বর থেকেই আমরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণার আশায় ছিলাম। আশা করছি সেই সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসবে।

সূত্র জানায়, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে আলোচনার জন্য গত ২৭ নভেম্বর যুক্তরাজ্যে সফরে যান তৎকালীন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ২২ নভেম্বর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত শাহজালালের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও সিভিল এভিয়েশন অথরিটির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠক করেন। তৎকালীন বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউকে ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্ট (ডিএফটি)-এর বৈঠকের পর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনায় আসে। কার্গো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসার মধ্যেই ফের শর্ত দেয় যুক্তরাজ্য। এসব শর্ত নিয়ে আলোচনা চলে মন্ত্রণালয় ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে।

২০১৬ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশের সঙ্গে আকাশপথে সরাসরি কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাজ্য। পরবর্তীতে দেশটির পরামর্শে নিরাপত্তা পরামর্শক, প্রশিক্ষণের জন্য ২০১৬ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাজ্যের রেডলাইন অ্যাসিউরড সিকিউরিটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি। রেডলাইন সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা কর্মীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশিসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরামর্শ দেয়। ইতিমধ্যে রেডলাইনের পরামর্শে আরেক ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান স্মিথ ডিটেকশন থেকে কেনা হয়েছে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ যন্ত্রপাতি। এসব যন্ত্র শাহজালালে বসানো হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের মার্চে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর যুক্তরাজ্যের পরামর্শে শাহজালালের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেডলাইনকে। প্রতিষ্ঠানটি সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা কর্মীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশিসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরামর্শ দেয়। যুক্তরাজ্যের পরামর্শে রফতানি কার্গো জোনে বসানো হয়েছে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (ইডিএস)। এছাড়া, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এএপিবিএন) ডগ স্কোয়াডে যুক্ত হয়েছে ৮টি কুকুর।

Aviation News