চীন সীমান্তে ভারতীয় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২ পাইলট

এই লেখাটি 116 বার পঠিত

ফের দুর্ঘটনাগ্রস্ত ভারতীয় বিমান বাহিনীল বিমান। বৃহস্পতিবার, আসামের মাজুলিতে ভেঙে পড়ে বিমানবাহিনীর একটি ‘মাইক্রোলাইট’ হেলিকপ্টার। ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই পাইলট।

জানা গেছে, এদিন চীন সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় রুটিনমাফিক জোরহাট ভারতীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে বিমানটি। এর কিছুক্ষণ পড়েই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপরই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাগ্রস্ত হওয়ার কথা জানা যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বিমানবাহিনীর উদ্ধারকারী দল। যান্ত্রিক গোলযোগ থেকেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করছে বিমানবাহিনী। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গড়া হবে।

ক্রমাগত দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আসছে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিমানগুলোও। বিশেষ করে মিগ-২১ বিমানগুলো। দুর্ঘটনা এড়াতে পারেনি রুশ-নির্মিত অত্যাধুনিক সুখোই যুদ্ধবিমানও। গত ডিসেম্বরে সংসদে সরকার জানায় ২০১৪ থেকে ২০১৫-র মধ্যে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে সামরিক বাহিনীর ৩৫টি বিমান। মৃত্যু হয়েছে ১৪ জন চালকের।

উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চ মাসে রাজস্থানে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয় বিমানবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান। তবে বিমানটির দুই চালকই বেঁচে যান। ওই বছরই আসাম-অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে ভেঙে পড়ে আরেকটি সুখোই বিমান। মৃত্যু হয় দুই পাইলটের। তারপর থেকেই বিমানগুলোর নিরাপত্তা ও মান নিয়ে উঠে আসে প্রশ্ন। মিগ ও সুখোই সিরিজের বিমানগুলো রাশিয়া থেকে ক্রয় করেছে ভারত। বিশেষজ্ঞদের মতে পাইলটের প্রশিক্ষণে খামতি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই দুর্ঘটনার কারণ। এছাড়াও কয়েক দশক পুরনো বিমানগুলোর যন্ত্রাংশও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

মুম্বইয়ে ১১ হাজার কোটির ব্যাংক জালিয়াতি

বিপুল অঙ্কের জালিয়াতি ধরা পড়ল রাষ্ট্রায়ত্ত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের মুম্বইয়ের একটি শাখায়। অঙ্কের হিসেবে এর পরিমাণ ১১ হাজার কোটি রুপিরও অনেক বেশি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কোনো শাখা থেকে এত বড় জালিয়াতির ঘটনা এর আগে ভারতে ঘটেনি। জালিয়াতির ঘটনা নজরে আসায় ধনকুবের হীরে ও জুয়েলারি ব্যবসায়ী নীরব মোদির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থায় অভিযোগ দায়ের করেছে পিএনবি।

এই জালিয়াতির পরিমাণ গত বছর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির নিট লাভের আট গুণের সমান। পিএনবি-র তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কয়েকজন অ্যাকাউন্ট হোল্ডার তাদের পরোক্ষ মদতে ওই সুবিধা ভোগ করেছে। ওই অবৈধ লেনদেন দেখিয়ে অন্য ব্যাংকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলেছেন এই গ্রাহকরা।

সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতকালই পিএনবি-এর কাছ থেকে জালিয়াতির দু’টি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ব্যাংক দেখেছে মোদি ও একটি জুয়েলারি কোম্পানি ১১ হাজার ৪০০ কোটিরও বেশি টাকার বেআইনি লেনদেন করেছে। তবে ওই জুয়েলারি কোম্পানিটি নীরব মোদিরই কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই নীরব মোদির বিরুদ্ধে পিএনবি-এর একটি শাখা থেকে ২৮০ কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত করছে সিবিআই। সেই তদন্ত চলাকালীনই নতুন করে জালিয়াতির অভিযোগ উঠল ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি এদিনই বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে ১.৮ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন প্রতারণার বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে পিএনবি।

ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের শাখার বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে বিদেশে লেনদেন হতো। তেমনই কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ লেনদেন হয়েছে। এই প্রতারণার খবর সামনে আসার পরেই পিএনবি-এর শেয়ার এক ধাক্কায় আট শতাংশ পড়ে যায়। এদিন বম্বে স্টক মার্কেটে পিএনবি-এর শেয়ার শুরুতে ছিল ১৬০ টাকা। পরে তা ১৪৯ টাকায় নেমে আসে। জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জেও শেয়ার আট শতাংশ পড়েছে।

এদিন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে স্পষ্টই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের এই বিপুল অঙ্কের প্রতারণা নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। যুগ্মসচিব লোকরাজন এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে বলেন, এখনই এই ঘটনা দেখে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে আমি মনে করি না। এদিন কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রতারণার ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি ব্যাংকের কাছ থেকেই রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে।

সূত্রের খবর, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১০ কর্মীকে সাসপেন্ড করেছে পিএনবি। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পিএনবি-এর জাল ‘লেটার অব আন্ডারটেকিং’-এর সুযোগ নিয়ে নীরব মোদি ও সহযোগী সংস্থা বিদেশের অন্য ব্যাঙ্ক থেকে অর্থ তুলেছে। সূত্রের খবর, ২০১১ সালের পরবর্তী সময়ে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের পদে রয়েছেন, এমন ব্যক্তিদের পরোক্ষ যোগাযোগ রয়েছে এই জালিয়াতির ঘটনায়।

Aviation News