আমার মুখে একটু থুথু দিয়ে যাও

এই লেখাটি 83 বার পঠিত

টুকটুকে নীল স্কুল ড্রেস পরা মেয়েটা। বাবার সঙ্গে এতগুলো ক্যামেরার সামনে। যেখানে উৎসুক দৃষ্টিতে সবার দিকে তাকিয়ে থাকার কথা, সেখানে লজ্জায় মুখ লুকোতে হচ্ছে তাকে। বাবার শরীরের সঙ্গে লজ্জায় মিশে যেতে চাইছে সে। আর সে ছবি এখন ঘুরে ফিরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

শনিবার ডাক্তারি প্রতিবেদনে অসঙ্গতির ফলে শিশুকন্যা ধর্ষণের ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে এক হতভাগ্য পিতার সংবাদ সম্মেলনে তোলা ছবি এটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই একজন লিখেছেন, ‘মুখ লুকিও না মা, আমার মুখে একটু থুথু দিয়ে যাও’। দেশে প্রতিদিন ক্রমাগত ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছেই। আজ সোমবারও কিছুদিন আগে চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার রূপা হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ মামলাই এখনো ‘ঝুলন্ত’। আর এরকম একজন শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ায় আত্মধিকৃত হয়েই হয়তো ওই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী একথা লিখেছেন।

সাংবাদিক আলতাফ হোসেন ফেসবুকে ছবিটা পোস্ট করে লিখেছেন, ‘বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠছে বাবরার! ক্ষোভে, কষ্টে! এভাবে কোন ধর্ষণের বিচার চাইতে দেখিনি আগে। বাবাকে জড়িয়ে ধরে পেছনে মুখ লুকানো মেয়েটির সাথেই ঘটেছে এমন পাশবিক ঘটনা। ঘটনাটি নাটোরের বড়াইগ্রামের।

ডাক্তারি পরীক্ষায় কোন আলামত না পাওয়া গেলেই বেঁচে যাবে ধর্ষক! তাই প্রথম ডাক্তারি পরীক্ষার চূড়ান্ত আলামত গায়েব হয়ে গেছে। আর এই পাশবিক নির্যাতনের সত্যতা প্রমাণের জন্য বাবাকে সাথে নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হতে হয়েছে নয় বছরের শিশুটিকে। অথচ এই পচে যাওয়া সমাজ ধর্ষকদের বাঁচিয়ে দেয়! আর মানসম্মানের ভয়ে মুখ লুকিয়ে রাখা নির্যাতিতরা অনুকম্পা পায়, কিন্তু বিচার পায় না!

মাননীয় সমাজপতি, মুখ লুকানো শিশুটিকে নিজের সন্তান আর দাঁড়ানো এই অসহায় বাবার জায়গায় নিজেকে একটু চিন্তা করুনতো! দেখি আপনার বিবেক কি বলে?’

শনিবার বিকেলে করা ওই সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা উচ্চতর মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ডাক্তারি প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং পুরো বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে হাইকোর্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আকুতি জানিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে শিশুটির বাবা বলেন, উপজেলার বনপাড়া পৌরশহরের পূর্ব হারোয়া এলাকার প্রতিবেশী চাঁন প্রামাণিকের ছেলে মাহবুর রহমান গত ২৪ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে তার শিশু কন্যাকে সাইকেল চালানো শেখানোর কথা বলে বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটি বাড়িতে এলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।

ওই দিন বিকেলেই শিশুটির পিতা বাদি হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পরের দিন দুপুর দেড়টার দিকে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শিখা রাণী শিশুটির মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। অথচ মেডিকেল প্রতিবেদনে ডাক্তারি পরীক্ষার তারিখ লেখা হয়েছে আগের দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা।

শিশুটির বাবা জানান, প্রতিবেদনে সেক্সুয়াল অ্যাসাল্ট, বুকের নীচের অংশে কালো দাগ, এবং মানসিক অবস্থা খারাপ বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যাথানাশক ঔষধ গ্রহণের পরামর্শও দেওয়া হয়। কিন্তু চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তহছেনুজ্জামান জানান, প্রাথমিক তদন্তে আসামি ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আরও জানান, মামলার দায়ের করার পরের দিন আসামি মাহবুবকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে আদালত গত ৩০ জানুয়ারি তাকে ২৪ দিনের জন্য অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন।

শিশুটির বাবা আরও জানান, অভিযুক্ত মাহবুরের মা ময়জান বেগম দীর্ঘদিন ধরে নাটোর নারী ও শিশু আদালতের সরকারি এক আইনজীবীর বাসার গৃহকর্মী। এর ফলে ডা. শিখা রাণীকে ওই আইনজীবী এই ভুয়া প্রতিবেদন তৈরি করতে প্রভাবিত করতে পারে বলেও তাদের ধারণা।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ডা. ডলি রাণীকে মুঠোফোনে এই অসঙ্গতিপূর্ণ প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে লাইনটি কেটে দেন। পরে আরও কয়েকবার ফোন কল দিলেও তিনি তা ধরেননি।

Aviation News