মার্চ থেকে বিমানের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ফ্লাইট সপ্তাহে তিনদিন

অবশেষে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সপ্তাহে তিনটি সরাসরি ফ্লাইট চালু করছে বাংলাদেশ বিমান। আগামী ২৬ মার্চ থেকে ১৬২ আসনের সুপরিসর বোয়িং বিমানে নতুন সময়সূচিতে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। এর ফলে পর্যটননগরী কক্সবাজারের সঙ্গে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের যাতায়াত অনেক বেশি সহজ হবে।
২০১৭ সালের অক্টোবর মাস থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সপ্তাহে মাত্র একদিন ফ্লাইট চালু করে বাংলাদেশ বিমান। কিন্তু বিমানের ফ্লাইট সিডিউল ভুল ও যৌক্তিক না হওয়া এবং যথেষ্ট প্রচার না থাকার কারণে এই রুটে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যাত্রীদের তেমন সাড়া মেলেনি। যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হল।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, ‘গ্রীষ্মকালীন নতুন সূচি অনুযায়ী সপ্তাহে তিনদিন চলবে বিমানের ফ্লাইট। সোমবার সেটি অনুমোদন হয়েছে।’
তিনি জানান, যাত্রী চাহিদা ব্যাপক থাকলেও শিডিউলে একটু সমস্যা থাকায় আমরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেনি। নতুন সিডিউলে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে ফ্লাইট সিডিউল সাজানো হয়েছে। ভাড়াও প্রতিযোগিতামূলক রাখা হয়েছে। আশা করছি বেশ ভালো সাড়া মিলবে।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন সময়সূচিতে সপ্তাহের সোমবার, বৃহস্পতিবার ও শনিবার চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাবে। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে ৯টা ২০ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছবে।
আর পৌনে ৯টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে ১০টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছবে। নতুন শিডিউলে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার ভাড়া সর্বনিম্ন ২১০০ টাকা আর কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম আসার ভাড়া সর্বনিম্ন ২১০০ টাকা। আগে সেটির সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ১৫০০ টাকা।
আগের শিডিউল অনুযায়ী, সপ্তাহে একটি ফ্লাইট ছিল। সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার কক্সবাজার থেকে সকাল ১১টা ৫ মিনিটে রওনা দিয়ে ১১টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছবে। আর শনিবার সকাল নয়টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিয়ে ১০টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছবে। এতে একজন যাত্রী চট্টগ্রাম থেকে শনিবার পৌঁছলে বিমানে ফিরতে হলে তাকে পরবর্তী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত থাকতে হতো।
জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমান ও ২০০৮ সাল পর্যন্ত জিএমজি এয়ালাইনস এবং ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইউনাইটেড এয়ারলাইনস চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে বিমান যোগাযোগ চালু ছিল। এছাড়া ২০১১ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে ফ্লাইট চালু ছিল এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ নভোএয়ার পরীক্ষামূলক ফ্লাইট চালিয়েছিল। এরই মধ্যে ইউএসবাংলা এয়ারলাইন ও নভোএয়ার নিয়মিত ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করেছিল।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ঘিরে অনেকগুলো বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে আওয়ামী লীগ সরকার। এসব প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক বিদেশি প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। আর রোহিঙ্গা কার্যক্রমকে ঘিরে এসেছে বিপুল বিদেশি এবং আসা যাওয়া বেড়েছে দেশিয় এনজিওকর্মীদের।
দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের কাছে ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠলেও দুটি অঞ্চলে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে দেড় থেকে দুই লেনের সড়ক পথ। ১৬০ কিলোমিটার এই দূরত্ব পাড়ি দিতে লাগছে কমপক্ষে সাড়ে ৪ ঘন্টা। অথচ বিমানে ৩০ মিনিটেই এই দূরত্ব পাড়ি দেওয়া সম্ভব। ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা দুটি এলাকার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিমান যোগাযোগ বেশ সুফল মিলবে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার বিলাসবহুল গ্রিন লাইন সার্ভিসের ভাড়া ৮০০ টাকা উল্লেখ করে ব্যাংকার হাসনাইন ইমতিয়াজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জরুরি মুহুর্তে কক্সবাজারে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য বিমানের উদ্যোগটি আমার জন্য অবশ্যই সুফল বয়ে আনবে। আর বিদেশি ও বিশেষ করে ব্যস্ত ব্যবসায়ী-পেশাজীবীরা সময় বাঁচাতে এই সুযোগ ভালোভাবেই লুফে নেবেন।’

Aviation News

সম্পাদক: তারেক এম হাসান
যোগাযোগ: জোবায়ের অভি, ঢাকা, ফোন +৮৮ ০১৬৮৪৯৬৭৫০৪
ই-মেইল: jobayerovi@gmail.com
যুক্তরাস্ট্র অফিস
ইউএসএ সম্পাদক: মো. শহীদুল ইসলাম
৭১-২০, ৩৫ অ্যাভিনিউ, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক ১১৩৭২
মোবাইল: +১ (২১২) ২০৩-৯০১৩, +১ (২১২) ৪৭০-২৩০৩
ইমেইল: dutimoy@gmail.com
এডিটর ইন চিফ : মুজিবুর আর মাসুদ ইমেইল: muzibny@gmail.com
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এভিয়েশন নিউজবিডি.কম ২০১৪-২০১৬