ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিলাসবহুল ট্যুরিস্ট ট্রেন চালুর পরিকল্পনা

এই লেখাটি 309 বার পঠিত

চলতি মাসে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহুল প্রতীক্ষিত দোহাজারী-গুনদুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ২০২০ সালে সারা দেশের সঙ্গে পর্যটন শহর কক্সবাজার রেল যোগাযোগের আওতায় চলে আসবে। প্রকল্পটি উদ্বোধনের দিন থেকেই এ রুটে বিলাসবহুল পর্যটন ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এজন্য ১২ সেট অত্যাধুনিক ট্যুরিস্ট কার আমদানির একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সংস্থাটি।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেন সুবর্ণ ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর মধ্যে বিরতিহীন এ দুটি ট্রেনের প্রায় শতভাগ আসনের টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। ট্রেন দুটি প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি (ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে বিরতিযুক্ত) যাত্রী পরিবহন করে। মাত্র ৫ ঘণ্টা ১০ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাত্রী পরিবহনের কারণে দ্রুতযান হিসেবে ট্রেন দুটির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব আরো কমিয়ে আনতে রেলপথে প্রায় বিরতিহীন ট্রেন সেবার পরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে সাধারণ ট্রেনের পাশাপাশি প্রতিদিন ঢাকা থেকে সরাসরি (ন্যূনতম কয়েকটি বিরতিযুক্ত) কক্সবাজারে সম্পূর্ণ এসি ট্রেন সেবা পরিচালনার চিন্তা রয়েছে রেলের। এসব ট্রেনে পর্যটক হিসেবে চলাচলরত যাত্রীদের সুবিধার্থে ট্যুরিস্ট কার সংযোজন করা হবে। এসব ট্যুরিস্ট কারে সুপরিসর বার্থ সার্ভিস ছাড়াও রেলের নিজস্ব ক্যাটারিং সার্ভিস, সার্বক্ষণিক গার্ড, ওয়েটার সুবিধা ও যাত্রাপথে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার ব্যবস্থা রাখা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রেলওয়েতে পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুবিধাসংবলিত ট্রেন সার্ভিস রয়েছে। রেলওয়ের অগ্রাধিকার প্রকল্প দোহাজারী-গুনদুম রেললাইনও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগেই কক্সবাজারের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত ট্রেন সার্ভিস পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সাধারণ ট্রেন সার্ভিসের পাশাপাশি বিশেষায়িত পর্যটন কার যুক্ত করতে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সরাসরি ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত এসি কোচসংবলিত ট্রেন পরিচালনার চিন্তাভাবনা চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার ও সারা দেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা বাড়বে বলে মনে করছেন তিনি।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলপথটির নির্মাণকাজ শেষ করার আগেই কক্সবাজার পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী শতভাগ ট্রেন পরিচালনার চিন্তাভাবনা করছে রেলওয়ে। পর্যটন শহর কক্সবাজার ভ্রমণে আসা যাত্রীদের কাছে রেলের নতুন প্রকল্পটি আকর্ষণীয় হবে বলে মনে করছেন রেলওয়েসংশ্লিষ্টরা।

রেলের প্রকৌশল দপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্যুরিস্ট কারসংবলিত ট্রেন পরিচালনায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দোহাজারী-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরুর দিন থেকে বিলাসবহুল ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বাঞ্চলের যন্ত্র প্রকৌশল দপ্তর পরিবহন বিভাগের কাছে ট্যুরিস্ট কার আমদানির বিষয়ে মতামত চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১১ জানুয়ারি পরিবহন বিভাগ যন্ত্র প্রকৌশল দপ্তরকে প্রাথমিকভাবে মোট ১২টি ট্যুরিস্ট কার ক্রয়ের জন্য অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি দেয়। চিঠিতে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে শতভাগ এসি ট্রেনে ট্যুরিস্ট কার সংযোজনের বিষয়ে পরিবহন বিভাগের অনাপত্তি জানিয়ে দেয়া হয়। ঢাকা থেকে সরাসরি (পথিমধ্যে কয়েকটি বিরতিযুক্ত ট্রেন) কক্সবাজারে ট্রেন পরিচালনায় ট্যুরিস্ট কার সংযোজন রেলের পাশাপাশি দেশের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নেবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী বলেন, ট্যুরিস্ট কার প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কয়েক দফা বৈঠকের পর পরিবহন বিভাগের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পরিবহন বিভাগও এ বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর একটি প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করব। ২০২০ সালের মধ্যে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন পরিচালনার প্রয়োজনীয় কোচ আমদানির পাশাপাশি ট্যুরিস্ট কারও আমদানি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তিনি।

বণিক বার্তা

Aviation News