থমকে গেছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ

এই লেখাটি 376 বার পঠিত

কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ আগামী জুন মাসের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে আদৌও কাজ শেষ হবে কি-না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। তারপর থেকে নানান জটিলতায় ধুঁকতে ধুঁকতে সেই কাজ এখনো চলছে। তবে কাজের গতি একেবারেই কম।
বিমান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে নির্মাণ, রানওয়ের স্ট্রেনথেনিং বাড়ানো, ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনদের পুনর্বাসনে পাশের বাকখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাতায়াতের জন্য সেতু নির্মাণসহ অনেকগুলো কাজ চলছে। তবে প্রকল্প এলাকার কিছু জমি নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার এখনো সমাধান হয়নি। যার ফলে রানওয়ের কাজ চললেও অন্যান্য কাজ চলছে খুবই ধীর গতিতে।
প্রায় এক হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়ন প্রকল্পটির মেয়াদ তিন দফায় বাড়ানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি জুনের মধ্যেই প্রকল্পের মূল কাজ অর্থাৎ রানওয়ে নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সেটিও সময়মতো শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতকে পর্যটকদের কাছে আরও উপভোগ্য করে তুলতে এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমনকে আরও সহজ করতে সরকার কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয় সেই ২০০৯ সালে। তখন ৩০২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে নানা জটিলতায় সেই প্রকল্পটি সামনের দিকে এগোতে পারেনি। পরবর্তীতে ২০১২ সালে প্রকল্পটিকে সংশোধন করে ৫৪৯ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। তারপরও কাজ শুরু করতে পারেনি সিভিল এভিয়েশন ও বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তৃতীয় দফায় সংশোধন করে এক হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে বিমানবন্দরের রানওয়ে ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফুট, প্রস্থ ১৫০ মিটার থেকে ২০০ মিটার করা, ১৩ কোটি ৫০ লাখ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন করা, বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে টার্মিনালে আসার টেক্সিওয়ে এবং রানওয়ের স্ট্রেনথেনিং বা পেভমেন্ট শক্তি বৃদ্ধিকরণ (পিসিএন), বিমানবন্দরে ভিওআর, ডিএমই, ৯০০ মিটার অ্যাপ্রোচ লাইটিং সিস্টেম স্থাপন করার কাজ করছে সিভিল এভিয়েশন। বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৮ হাজার ৩৯০ বর্গমিটার নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণ করা হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরের রানওয়েসহ অন্যান্য কাজ চললেও ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা নিরসন না হওয়ায় ১১২ একর জমি এখনো অধিগ্রহণ করতে পারেনি জেলা প্রশাসন। এ কারণে নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণ কাজ শুরুই করা যাচ্ছে না। এর বাইরে কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ড তিন দশমিক ৮৭ কিলোমিটার সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করবে। আর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) বাকখালী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করবে। যার দৈর্ঘ্য ৫৯৫ মিটার। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে এই সেতু নির্মাণের কাজ এখনো শুরু করা যাচ্ছে না। প্রসঙ্গত, কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যৌথভাবে করছে কোরিয়ান একটি প্রতিষ্ঠান এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড।

Aviation News