জালিয়াতির অভিযোগে সাত হজ এজেন্সিকে মন্ত্রণালয়ে তলব

এই লেখাটি 190 বার পঠিত

বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা, অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে শতাধিক হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে তদন্ত করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে হজযাত্রীদের বিভিন্ন অভিযোগের কারণ জানতে সাতটি হজ এজেন্সিকে তলব করে গত বুধবার চিঠি দেয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে তদন্ত কমিটির সামনে এই সাত এজেন্সিকে হাজির হতে বলা হয়েছে ওই চিঠিতে। ভারপ্রাপ্ত সচিব আনিসুর রহমান বলেছেন, সব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শুধু এই সাতটি এজেন্সির মধ্যেই সীমিত থাকবে না কার্যক্রম। আরও কয়েকটি অভিযুক্ত এজেন্সিকে তলব করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। প্রতারণার অভিযোগগুলো বেশ গুরুত্ব দিয়েই তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, প্রতিবারের মতো ২০১৭ সালেও হজে প্রতারণা ও অনিয়মসহ বিভিন্ন এজেন্সির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। বেশ ক’জন হজযাত্রী বিভিন্ন এজেন্সির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ আনেন। এমনটি কয়েকজন হজযাত্রী সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের তথ্যপ্রমাণাদিও উপস্থাপন করেছে মন্ত্রণালয়ে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ২৩ জানুয়ারি সকাল ১০টায় ধর্ম-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগকারী, আইটি প্রতিনিধি ও বিভিন্ন এজেন্সির প্রতিনিধিকে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা ছাড়াও এজেন্সি বাতিলের সুপারিশ করা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার যসব হজ এজেন্সিকে হাজির হতে বলা হয়েছে, সেগুলো হলো, কাশেম ট্যুর এ্যান্ড ট্রাভেলস, এএসএ এভিয়েশন, এমসিও ট্রাভেলস এ্যান্ড ট্যুরস, মাসুম এয়ার ট্রাভেলস, সাদমান ট্রাভেলস, মেসার্স লায়লাতুল কদর ট্যুর এ্যান্ড ট্রাভেলস ও কে কালাম ট্রাভেলস এ্যান্ড ট্যুর। এছাড়া সৌদি আরবে যথাসময়ে মোয়াল্লেম ফি পরিশোধ না করার বিষয়ে জানতে মেসফালাহ ট্রাভেল কর্তৃপক্ষকে সোমবার মন্ত্রণালয়ে হাজির হতে চিঠি দেয়া হয়েছে। আরও একটি হজ এজেন্সিকে স্ট্যান্ডবাই প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিদায়ী বছর এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে সৌদি আরব যান। এর মধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজার বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে হজে যান। বাকিরা যান সরকারী ব্যবস্থাপনায়। সৌদি আরব যাওয়ার পর অনেক এজেন্সিই তাদের যাত্রীদের খোঁজ-খবর রাখেন না। এতে নানামুখী বিড়ম্বনায় পড়তে হয় হজযাত্রীদের। হাজীদের প্রতি গাফিলতির অভিযোগে সাত কার্যদিবসের সময় দিয়ে কারণ জানতে চেয়ে ১৪০টি হজ এজেন্সিকে চিঠি দিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (হজ) এসএম মনিরুজ্জামান। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে ওই চিঠিতে।

প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে ২০১৮ সালের হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে। এসব এজেন্সির তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে। হজের মূল নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে, চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবারও এক লাখ ২৭ হাজার ১৭৮ জন বাংলাদেশী কোটা অনুযায়ী হজ করার সুযোগ পাবেন। গত সপ্তাহে এ বিষয়ে মক্কায় হজ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। তাতে গতবারের মতোই হজযাত্রীদের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Aviation News