লাভের মুখ দেখছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

এই লেখাটি 501 বার পঠিত

বিগত কয়েক বছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কথা শুনলেই চোখে ভেসে ‍উঠত একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানের ছবি। দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগও ছিল। তবে আশার কথা হলো, সেই দৈন্যদশা থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে বিমান। টানা তিনটি অর্থবছরে লাভের মুখ দেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত তিন অর্থবছরে বিমানের নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে ৬০৬ কোটি টাকা।

বিমান সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, টানা তিন বছরের লাভ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইতিহাসে বিরল। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে বিমানকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। এ জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, জনবল বাড়ানোসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিমানের নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে ৪৭ কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যা ছিল ২৩৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিমান নিট মুনাফা অর্জন করে ৩২৪ কোটি টাকা। এ হিসাবে গত তিন বছরে বিমানের নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে ৬০৬ কোটি টাকা। মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি গেল অর্থবছরে বিমান রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ৩৮১ কোটি টাকা রাজস্ব কর জমা দিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৭৭ কোটি টাকা বেশি ছিল। লোকসান গোনা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমন হঠাৎ চমকে বেশ খুশি খোদ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিমানমন্ত্রীও। এরই মধ্যে বিমানের মন্ত্রিত্বে পরিবর্তন এসেছে।

তবে আগের মতোই কাজের ধারা অব্যাহত থাকলে এ বছরও লাভ করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিমান সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের তুলনামূলক অধিক মূল্য, কার্গো পরিবহনে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা এবং এশীয় এভিয়েশন মার্কেটে এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে ভাড়া নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও বিমানের এই মুনাফা অর্জন নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য সফলতা বলে মনে করছেন তারা।

বিমান বাংলাদেশ সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশ বিমান ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৩ লাখ ৫১ হাজার যাত্রী বহন করেছে। এর আগের বছর যা ছিল ২৩ লাখ ১৮ হাজার। হিসেবে দেখা যায়, আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৩ হাজার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করেছে গেল বছরে। গত ৩ বছরে বিমানে যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার। শুধু যাত্রী পরিবহন খাতেই লাভের মুখ দেখেনি প্রতিষ্ঠানটি, পাশাপাশি কার্গো পরিবহন খাতেও লাভের ধারা ছিল অব্যাহত।

২০১৬ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাজ্য সরকার আকাশপথে কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এই বাধাকে ডিঙিয়ে তারপরও কার্গো পরিবহন খাতে ২০১৬-১৭ সালে ৩৩ হাজার ৫৪২ মেট্রিক টন মালামাল পরিবহন করেছে, যা আগের বছর ছিল ৪০ হাজার ৯৩১ মেট্রিক টন। অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে কার্গো পরিবহন ছিল মাত্র ১৮ শতাংশ কম। কার্গো পরিবহন করেই ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৪৪ কোটি টাকা আয় করে বিমান। আগের বছর এ খাতে আয় ছিল ৩১৫ কোটি টাকা।

২০১৪ সালের আগের ১০ বছর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অর্থনৈতিক অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। প্রতিবার লোকসান গুনতে হয়েছে। অনেকটা ইমেজ সংকটের মুখে পড়েছিল তারা। কিন্তু সেই ইমেজ সংকট কাটিয়ে এবার লাভের মুখ দেখায় স্বাচ্ছন্দ্যে আছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। তারা আগামী বছরগুলোর জন্য কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেছেন, যাতে লাভের এই ধারা অব্যাহত থাকে।

বাংলাদেশ বিমানের পাশাপাশি আকাশপথে পাল্লা দিয়ে ব্যবসা করতে এরই মধ্যে যুক্ত হয়েছে কয়েকটি বেসরকারি বিমান চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। এতে বেড়েছে প্রতিযোগিতা। প্রত্যেক বিমান প্রতিষ্ঠানকে বাড়াতে হচ্ছে সেবার মানও। সেই দিক বিবেচনা করে সেবার মানকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা নিয়েই এগুচ্ছে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্স।

এ সম্পর্কে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এএম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান এখন একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। আগামীতে এই ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা প্রতিষ্ঠানের সেবার মান আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছি। বাংলাদেশ বিমান যাতে যাত্রীদের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় তার লক্ষ্যে রাত-দিন সকলে কাজ করে যাচ্ছে।’

সূত্রঃ প্রিয়.কম

Aviation News