বাড়ছে পেশাজীবীদের বিদেশে অভিবাসন

এই লেখাটি 144 বার পঠিত

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর কয়েক লাখ জনশক্তি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়। এর সিংহভাগই দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক। চিকিত্সক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, আইনজীবীসহ পেশাজীবী বিদেশগামীদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। তবে ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে এ চিত্র। কয়েক বছর ধরে বাড়তে শুরু করেছে পেশাজীবীদের বিদেশে অভিবাসনের হার। বিদেশে পেশাজীবীদের চাহিদা বৃদ্ধি এবং দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়া এর অন্যতম কারণ।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যেও পেশাজীবীদের বিদেশে অভিবাসন বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। বিএমইটির তথ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে ২০১৩ সালে বিভিন্ন দেশে পেশাজীবী শ্রেণীতে জনশক্তি রফতানি হয়েছিল মাত্র ৬৮৯ জন। পরের দুই বছর অর্থাত্ ২০১৪ ও ২০১৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ১ হাজার ৭৩০ ও ১ হাজার ৮২৮ জন। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা আড়াই গুণ বেড়ে ৪ হাজার ৬৩৮ জনে উন্নীত হয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৫০৭ জন পেশাজীবী বিদেশে গমন করেন।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পেশাজীবী জনশক্তির চাহিদাপত্র আসে। এতে চিকিত্সক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, আইনজীবী ও পরামর্শকের জন্য চাহিদাপত্র থাকে বেশি। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে পেশাজীবী হিসেবে বিদেশ যাওয়ার পর আবার সেসব দেশ থেকে ডিগ্রি অর্জন করে কাজে যোগ দিতে হয় বলে অনেকেই আকৃষ্ট হতেন না। ধীরে ধীরে এ অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে গত কয়েক বছরে চিকিত্সক, প্রকৌশলী, পরামর্শকসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন অভিবাসী হচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকেও বাংলাদেশী পেশাজীবী জনশক্তির চাহিদা আসছে।

জানা গেছে, এরই মধ্যে কাতারে পেশাজীবী কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে। এ বিষয়ে গত বছর বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে যৌথ কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নার্স, চিকিত্সক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, সেলস পারসনসহ সব খাতে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা হয় দক্ষ নারী কর্মী ও গৃহকর্মী পাঠানোর বিষয়েও। ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০কে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের এসব শ্রমিক আমদানির আগ্রহ দেখিয়েছে কাতার। একইভাবে কানাডা সরকার আগামী তিন বছরে কয়েক লাখ দক্ষ ও পেশাজীবী জনশক্তি আমদানির ঘোষণা দিয়েছে, যা কাজে লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান চিকিত্সক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। ওমানে বর্তমানে প্রায় ছয় লাখ বাংলাদেশী কর্মরত আছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরকারি জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে চিকিত্সক ও প্রকৌশলীদের পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াতেও বাংলাদেশ থেকে পেশাজীবী শ্রেণীতে জনশক্তি নেয়ার বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) মহাসচিব রুহুল আমিন বলেন, গত কয়েক বছরে পেশাজীবী হিসেবে অভিবাসন বেড়েছে। তবে বিভিন্ন দেশে পেশাজীবী জনশক্তি রফতানির যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা এখনো প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজে লাগানো যায়নি। অদক্ষ শ্রমিকের তুলনায় পেশাজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি। এ কারণে পেশাজীবী জনশক্তি রফতানি বাড়ানো সম্ভব হলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরো বাড়বে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মেডিকেল অফিসার, আবাসন খাতে প্রকৌশলীসহ বেশকিছু খাতে বাংলাদেশী পেশাজীবী জনশক্তির চাহিদা রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত প্রচারের অভাবে এ সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানি হয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ৫১৮ জন, যার মধ্যে দশমিক ৪৫ শতাংশ পেশাজীবী শ্রেণী। ২০১৬ সালে মোট জনশক্তি রফতানি হয় ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন, যার মধ্যে পেশাজীবী ছিল দশমিক ৬১ শতাংশ। ২০১৫ সালে রফতানি হয় ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮১ জন। ওই বছর মোট জনশক্তি রফতানির দশমিক ৫৩ শতাংশ ছিল পেশাজীবী শ্রেণী। ২০১৪ সালে মোট জনশক্তি রফতানি হয় ৪ লাখ ২৫ হাজার ৬৮৪ জন, যার মাত্র দশমিক ৪১ শতাংশ পেশাজীবী শ্রেণী। ২০১৩ সালে রফতানি হয় ৪ লাখ ৯ হাজার ২৫৩ জন, এর মধ্যে পেশাজীবী ছিল মাত্র ৬৮৯ জন।

Aviation News