এবার বিমানবন্দরে হারানো লাগেজ পৌঁছে যাবে যাত্রীর বাড়ি

এই লেখাটি 924 বার পঠিত

একটা সময় ছিল যখন বিমানবন্দরে চিৎকার-চেঁচামেঁচি, ময়লা পড়ে থাকা, যাত্রী হয়রানি, লাগেজ হারানো ছিল নিত্যকার চিত্র। এসব এখন অতীত। এর পরিবর্তে নতুন নতুন পদ্ধতি চালু, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীলদের আন্তরিকতায় বদলে গেছে পুরনো দৃশ্যপট।

এখন বিমানবন্দরের ভেতরে-বাইরে কোথাও ময়লা বা আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায় না। যে কেউ যে কোন সময় ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ফোন দিয়ে সেবা নিতে পারছেন। এমনকি আর কয়েকদিন পর থেকে যাত্রীদের হারানো লাগেজ পৌঁছে যাবে বাড়িতেই। এ জন্য ‘হোম সার্ভিস’ চালু করতে যাচ্ছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এই হোম সার্ভিসের জন্য যাত্রীকে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। তা পরিশোধ করবে সংশ্লিষ্ট বিমান কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানবন্দরে গত কয়েক মাসে বেশকিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসবের সফলতাও পাচ্ছে বিমানবন্দর। এর মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হচ্ছে। আগে যেখানে বিদেশীরা বিমানবন্দরে ময়লা আবর্জনা দেখে বিরক্ত হতো, তারা এখন ময়লা সংগ্রহের পদ্ধতি দেখে ‘ওহ রিসাইক্লিন’ বলে বিস্ময় প্রকাশ করছেন।

অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীর চাপ কিংবা অন্যান্য কারণে যাত্রীদের ব্যাগ-লাগেজ পরে আসে। এক সময় মনে করা হতো, বিমানে ব্যাগ হারিয়ে গেছে। এই মানসিকতার বদল হয়েছে। এখন ‘ব্যাগ বিলম্বে এলেও তা পাওয়া যায়’- এ ধারণা পোষণ করেন যাত্রীরা। এবার নতুন কার্যক্রম সংযোজন হতে যাচ্ছে এর সঙ্গে। বিলম্বে কোনো ব্যাগ এলে যাত্রীকে এর জন্য আর অপেক্ষা করতে হবে না। ‘হোম সার্ভিস’ এর মাধ্যমে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষই ব্যাগ-লাগেজ পৌঁছে দেবে যাত্রীর বাড়িতে।

এরই মধ্যে ‘হোম সার্ভিস’ এর যাবতীয় কর্মপরিকল্পনা সম্পন্ন হয়েছে। হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সিভিল এভিয়েশন এবং বিমানবন্দর কাস্টমস- এর মধ্যে আলোচনা হয়েছে কয়েক দফায়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাজ কি হবে, সিভিল এভিয়েশনের দায়িত্ব কি হবে এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স কিভাবে হবে এসব বিষয়ে করণীয় চূড়ান্ত হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাস থেকে এই সার্ভিস শুরু হতে যাচ্ছে বিমানবন্দরে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে পরিকল্পনাটি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শুধু থার্ড পার্টির পরিচালন ব্যয় নির্দিষ্ট করা নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। হারানো লাগেজ বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে থার্ড পার্টির মাধ্যমে। শিগগিরই এ বিষয়ে টেন্ডার দেওয়া হবে। এরপর নেওয়া হবে চূড়ান্ত পদক্ষেপ।’

২০১৮ সালের প্রথম দিন থেকে এই কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা ছিল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় কিছুটা সময় লাগছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মাস কিংবা মার্চে এই কর্মসূচি চালু করা যাবে।

‘ময়লা দিন টাকা নিন’ প্রজেক্ট চালুর মাধ্যমে বিমানবন্দরকে পরিচ্ছন্ন করে এরই মধ্যে সাধুবাদ পেয়েছেন এই কর্মকর্তা। নতুন প্রবর্তিত ‘হোম সার্ভিস’ নামের এই কর্মসূচিও তেমনি সাধুবাদ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন কর্মসূচির বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘সার্ভিসটি ঠিক মতো সম্পন্ন করতে পারার লক্ষ্যে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কিছু নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছে। ব্যাগে কাস্টমেবল পণ্য থাকলে কি হবে, নন-কাস্টমেবল পণ্য থাকলে কীভাবে কি করা হবে- এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাগ পাওয়া না গেলে কাস্টমস থেকে একটি পিআর ফরম পূরণ করে দিতে হয়। আমরা নতুন প্রক্রিয়ার জন্য একটি ডিক্লারেশন ফরম পূরণ করে নিচ্ছি। সেখানে উল্লেখ থাকবে, ব্যাগে নন-কাস্টমেবল আছে কী না। কাস্টমস একটি ডিক্লারেশন ফরমের সঙ্গে ব্যাগ মিলিয়ে দেখবে। ব্যাগে কোনো রকম নন-কাস্টমেবল পণ্য থাকলে এটি হোম সার্ভিসের মাধ্যমে যাত্রীর ঠিকানায় পাঠানো হবে।

আর ব্যাগে যদি কোনো রকম আপত্তিকর পণ্য পাওয়া যায়, কিংবা ডিক্লারেশন ফরম পূরণ না করা থাকে তাহলে সেসব ব্যাগ যাত্রীকে নিজে উপস্থিত থেকে গ্রহণ করতে হবে এবং এ সংক্রান্ত কাস্টমস প্রক্রিয়া তাকে সম্পন্ন করতে হবে।’
সূত্রঃ রাইজিংবিডি ডট কম

Aviation News