বিমানে সন্তান প্রসব

এই লেখাটি 197 বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সন্তান প্রসব করালেন ডাক্তার-rtv-rtvonline-flight-baby-birth

ভ্রমণ ক্লান্তি নিয়ে ডাক্তার সিজ হেমাল ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী এয়ার ফ্রান্সের বিমানে চড়েন। তখনও পর্যন্ত তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি বিমানেই তাকে ডাক্তারিতে নেমে পড়তে হবে।কিন্তু এমনটিই ঘটেছে যু্ক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডের গ্লিকম্যান ইউরোলজিকাল অ্যান্ড কিডনি ইনস্টিটিউটের ইউরোলজির দ্বিতীয় বর্ষে আবাসিক চিকিৎসক হেমালের সঙ্গে।

হেমাল নয়াদিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করেন। পথে প্যারিসে যাত্রাবিরতি দেন। বিমানটিতে চড়ে তিনি নিউ ইয়র্ক যাচ্ছিলেন যেখান থেকে গন্তব্য ছিল ক্লিভল্যান্ড।তাই ২৭ বছর বয়সী হেমালের পরিকল্পনা ছিল ‘সাইড ইফেক্টস’ সিনেমা দেখার পাশাপাশি শ্যাম্পেন উপভোগ করা। পরে কিছু ঘুমিয়ে নেয়ারও ইচ্ছা ছিল তার।কিন্তু মুহূর্তেই বদলে যায় দৃশ্যপট। একজন বিমানবালা ফ্লাইটে ডাক্তার খুঁজছিলেন। তখন হেমাল সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।তিনি দেখেন ৪১ বছর বয়সী টোয়িন ওগুনদিপে লেবারের ব্যথা শুরু হয়েছে। বিমানটি তখন গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে ভূমি থেকে ৩৫ হাজার ফুট ওপরে। হেমাল বলেন, ওই নারী পিঠ ব্যথা অভিযোগ করছিলেন। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম হয়তো কিডনির পাথরের কারণে তিনি ব্যথা অনুভব করছেন। কিন্তু ওই নারী যখন জানান যে তিনি গর্ভবতী তখনই আমি বুঝে নেই টোয়িনের লেবারের ব্যথা শুরু হয়েছে। এভাবেই কেটে যায় এক ঘণ্টা।হেমাল বলেন, আমাদের বুঝতে বেশি সময় লাগেনি যে ওগুনদিপে বিমানেই সন্তান জন্ম দেবেন। আর জরুরি অবতরণের জন্য বিমান ঘুরিয়ে আজোরেস আইল্যান্ডে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে যেতে হবে। তাও সেখানে পৌঁছতে সময় লাগবে দুই ঘণ্টা।তাই বিমানের ক্রুরা ওগুনদিপেকে ফার্স্ট ক্লাসে নিয়ে আসেন। বিমানটির তখনও নিউ ইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছতে চার ঘণ্টা বাকি।হেমাল যদিও ইউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক। তবে এর আগেও তিনি বাচ্চা প্রসব করাতে সাহায্য করছেন। সেই সংখ্যাটাও কম না। সাত সাতটি বাচ্চাকে প্রসব করিয়েছেন তিনি। যদিও বিমানে এটাই তার প্রথম বাচ্চা প্রসব করানোর ঘটনা।ওগুনদিপে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আমি উদ্বেগমুক্ত ছিলাম। কেননা আমি নিরাপদ হাতে ছিলাম।বিমানের ক্রুরা সব কিছুই করেছে। যা আপনি একটি হাসপাতালে গেলে পাবেন। যদি আপনি জানতে চান, তারা এমনকি ডাক্তার বা ধাত্রীদের চেয়েও ভালো করেছেন।এক ঘণ্টা পর ওগুনদিপে জ্যাক নামের একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।পরে বিমান থেকে নামার পর ওগুনদিপে ও জ্যাককে স্থানীয় জামাইকা হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালটি বিমানবন্দর থেকে চার মাইল দূরে অবস্থিত। ওইদিনই ওগুনদিপে ও জ্যাককে ছেড়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।হেমাল বলেন, সত্যি বলতে কি, এটা ঈশ্বরের কাছ থেকে ছিল। অনেক কিছুই ঘটতে পারতো। কিন্তু শেষপর্যন্ত আমরা সফলকাম হয়েছি।তবে এক সমস্যা থেকে মুক্তি মিললেও হেমালের সামনে ছিল আরেকটি বড় সমস্যা। সেটি হচ্ছে নিউ ইয়র্ক থেকে ক্লিভল্যান্ডগামী কানেক্টিং ফ্লাইট সময়মতো পাওয়া।পরে অবশ্য বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সাহায্যে তিনি ঠিক সময়েই বিমানে চড়তে পারেন হেমাল। তবে ক্লিভল্যান্ডে যাওয়ার পথে আর কোনো ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়নি হেমালের।হেমাল বলেন, আমি খুশি যে আর কোনো কিছুই ঘটেনি।তবে শ্যাম্পেন খেতে না পারলেও সেটি পুষিয়ে দিয়েছে এয়ার ফ্রান্স। তারা হেমালকে গ্লাসের পরিবর্তে দিয়েছে পুরো এক বোতল শ্যাম্পেন। সঙ্গে দিয়েছে ধন্যবাদও।

Aviation News