২৫ কোটি ডলার ঋণ নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

এই লেখাটি 1242 বার পঠিত

চলতি বছরের শেষ নাগাদ রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির দুটি নতুন উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। উড়োজাহাজ দুটির মূল্য পরিশোধে ২৫ কোটি ডলার বাণিজ্যিক ঋণ নিতে যাচ্ছে বিমান। এ ঋণের বিপরীতে সার্বভৌম গ্যারান্টি দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংকে মূল্য পরিশোধে অর্থ জোগানদাতার সঙ্গে চুক্তি হলেই চলতি বছরের আগস্ট ও নভেম্বরের মধ্যে বিমানের বহরে যুক্ত হবে দুটি বোয়িং-৭৮৭-৮ উড়োজাহাজ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৯ নভেম্বর সরবরাহকালীন ঋণের জন্য দুটি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে বিমান। উড়োজাহাজ কেনায় ঋণদানে অভিজ্ঞ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র চাওয়া হয়েছে।

দরপত্র অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ঋণের প্রস্তাব পেতে চায় বিমান। ঋণটিকে ‘সিনিয়র লোন’ ও ‘জুনিয়র লোন’ নামে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সিনিয়র লোনের মাধ্যমে ২৫ কোটি ডলারের ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ২০ কোটি ডলার ঋণ গ্রহণ করা হবে, যার মেয়াদ হবে সর্বনিম্ন ১৪৪ মাস। সুদাসলে প্রতি তিন মাস অন্তর এ ঋণ পরিশোধ করা হবে। জুনিয়র লোনের মাধ্যমে মোট ঋণের ২০ শতাংশ বা ৫ কোটি ডলার নেয়া হবে, যার মেয়াদ হবে সর্বনিম্ন ৬০ মাস।

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এএম মোসাদ্দিক আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ২০১৮ সালে বিমানবহরে দুটি নতুন বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ যুক্ত হচ্ছে। উড়োজাহাজ দুটির মূল্য পরিশোধের জন্য ঋণ নেয়া হচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজ ব্যবহার করে বিমান নতুন গন্তব্যে ডানা প্রসারিত করতে চায়।

জানা গেছে, বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, মোট চারটি বোয়িং-৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সংগ্রহ করবে বিমান। এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ পূর্ববর্তী অর্থ (পিডিপি) পরিশোধ করা হয় ২০১৫ সালে। সে সময় সরকারের সার্বভৌম নিশ্চয়তার বিপরীতে ১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা বা ১৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার ঋণ নেয় রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটি।

বিমানবহরে যুক্ত হতে যাওয়া সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ২০ শতাংশ জ্বালানিসাশ্রয়ী উড়োজাহাজ। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে যাত্রীরা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট উচ্চতায় ভ্রমণকালে ওয়াই-ফাই সুবিধা পাবেন এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রিয়জনের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারবেন। একই সঙ্গে এ উড়োজাহাজে থাকছে বিশ্বমানের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম (আইএফই); যেখানে থাকবে যাত্রীদের জন্য ক্ল্যাসিক থেকে ব্লকবাস্টার মুভি, বিভিন্ন ঘরানার মিউজিক, ভিডিও গেম, বিশ্বের খ্যাতনামা নয়টি টিভি চ্যানেলের রিয়াল টাইম লাইভ স্ট্রিমিং, অনলাইন কেনাকাটার সুবিধা, ক্রেডিট কার্ড/ক্যাশ পেমেন্ট, অনবোর্ড ডিউটি ফ্রি শপসহ বিনোদনের নানা আয়োজন। ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজগুলোয় ২৪টি বিজনেস ক্লাস এবং ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাসসহ মোট ২৭১টি আসন থাকবে। তুলনামূলক বড় জানালা, নির্জন ও শান্ত কেবিন, মুড লাইট ইত্যাদি কারণে এ উড়োজাহাজে ভ্রমণকারী যাত্রীরা পাবেন সতেজ ও আনন্দময় অভিজ্ঞতা।

উল্লেখ্য, লোকসানে থাকা বিমানকে মুনাফার ধারায় ফেরাতে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বহরে যুক্ত করা হয় চারটি বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ। এগুলোর নামকরণ করা হয় পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ ও রাঙা প্রভাত। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের নভেম্বরে আনা হয়েছে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের নতুন আরো একটি উড়োজাহাজ; যার নাম দেয়া হয়েছে ‘মেঘদূত’। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিমানের বহরে যুক্ত হয় বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খী’।

প্রসঙ্গত, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিমান নিট মুনাফা অর্জন করেছে ৪৭ কোটি টাকা। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বিমান ৩৮১ কোটি টাকা রাজস্ব প্রদান করেছে। বিদায়ী অর্থবছরে বিমান যাত্রী পরিবহন করেছে ২৩ লাখ ৫১ হাজার এবং কার্গো পরিবহন করেছে ৩৩ হাজার ৫৪২ টন। বিমানবহরে বর্তমানে রয়েছে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর, দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, দুটি ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ এবং একটি এয়ারবাস এ৩৩০ উড়োজাহাজ। বিমান এখন ১৫টি আন্তর্জাতিক এবং সাতটি অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

সূত্রঃ বণিক বার্তা

Aviation News