২২শ’ ক্যাজুয়াল শ্রমিক নিয়ে বিপাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

এই লেখাটি 1764 বার পঠিত

শহীদ উল্লাহ পাটোয়ারী : বিমানের একজন ক্যাজুয়াল শ্রমিকের বেতন দৈনিক ৪৯০ টাকা। তদুপরি মাসের ত্রিশ দিনের মধ্যে তাকে কিছুতেই ২৩ দিনের বেশি কাজ করতে দেয়া হয় না। তাকে প্রতি মাসেই ৮ দিন করে কাজ থেকে বাধ্যতামূলক বিরতিতে যেতে হয়। নিয়মিত কাজ করানো হলে শ্রম আইনের লঙ্ঘন হবে, সেক্ষেত্রে বিমানকে সব টাকা দিতে হবে, স্থায়ী করতে হবে। এই একটা মাত্র কারণেই গত ২৫ বছর নিয়মিত কাজ করেও বাড়ি যাবার সময় শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে বিএফসিসির ফারুককে। একটি পয়সাও তার হাতে দেয়নি বিমান। তার মতো এমন ২২ শতাধিক শ্রমিক যুগের পর যুগ ধরে কাজ করছে বিমানে। অনুপাত হারে বিমানের মোট জনবলের প্রায় অর্ধেকই ফারুকের মতো হতভাগা ক্যাজুয়াল। তাদের চরম মানবেতর জীবনের করুণ আর্তনাদে কারোর এতটুকু সহানুভূতি নেই। তাদের নেই কোন ছুটি, নেই কোন ভাতা। বাড়িতে বাবা-মা মারা গেলেও তাদেরকে ছুটি দেয়া হয় না। নো ওয়ার্ক নো পেমেন্টে- যেতে হয় লাশ দাফন করতে। এর বিপরীতে নিয়মিত বা পি নম্বরধারী একই পদের একজন শ্রমিকের বেতন মাসিক সর্বসাকুল্যে ৪০ হাজারেরও বেশি। তারা বেতন ভাতাদিসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান। একই ডিউটি করে দুজনের দুরকম জীবন। এমন বৈষম্যের শিকার এই দুই সহ¯্রাধিক শ্রমিকের কান্নার আওয়াজ বিমানের কারোর কানে পৌঁছায় না। অথচ তাদের ওপরই নির্ভর করছে বিমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। চাকরি হারানোর ভয়ে ওই ২২ শ’ শ্রমিক হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করলেও তারা যুগ যুগ ধরেই লাঞ্ছনা-বঞ্চনার শিকার। তাদের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও বিমান প্রশাসন তাদের দাবি-দাওয়ার প্রতি বরাবরই উদাসীন। এজন্য বিমানকে ইতোমধ্যে খেসারতও দিতে হয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি এই ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বলাকা ভবনে অবস্থান নেন। সেদিন সিবিএ সভাপতি মশিকুর রহমান ঘোষণা দেন, দাবি না মানা হলে আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে আর কোন ক্যাজুয়াল শ্রমিক ওভারটাইম ডিউটি করবে না। তখন উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য কোনভাবেই ক্যাজুয়াল শ্রমিকদেরকে দায়ী করা যাবে না।
বৈষম্যের এমন নজির দুনিয়ার আর কোন প্রতিষ্ঠানে আছে কিনা সেটার জবাবও দিতে পারেননি বিমানের চেয়ারম্যান ও এমডি। এয়ারমার্শাল ইনামুল বারী ও ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহমেদও অকপটে স্বীকার করেছেন, এদের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই আছে। এদের ছাড়াও আরও লোক দরকার বিমানে। এদের জন্য কিছু করাও উচিত। করতে পারলে ভাল হতো। এমন সহানুভূতির সুরে কথা বললেও বিমান এদের বেলায় ততোটা আন্তরিক নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তুচ্ছ অজুহাতে এই ২২শ’ শ্রমিকের চাকরি স্থায়ী কিংবা চুক্তিভিত্তিক করা থেকে বিরত রয়েছে বিমান। অথচ এদেরকে স্থায়ী বা চ্ুিক্তভিত্তিক নিয়োগ দিলেও খুব একটা বেশি অর্থের প্রয়োজন নেই। জানতে চাইলে নবনিযুক্ত বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী শাহজাহান কামাল বলেছেন, আমি এখনো বিমান সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতে পারিনি। তারপরও আমি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছি। বিমানের জন্য যেটা ভাল, সেটা করতে হবে।
হিসাব শাখা জানিয়েছে, বিমানে গোটা জনবলের মাসিক বেতন এখন লাগে ৩৬ কোটি ৬৭ লাখ। তার মধ্যে এই ২২ শ ক্যাজুয়াল শ্রমিককে মোট বেতন পরিশোধ করা হয় মাসিক ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট জনবলের প্রায় অর্ধেক এই ক্যাজুয়ালের বেতনের চেয়ে ৩৩ কোটি টাকা বেশি ব্যয় হচ্ছে বাকি অর্ধেক জনবলের পিছনে। আবার মাসিক মোট বেতনের এক-চতুর্থাংশ (প্রায় সাড়ে ৮ কোটি) হচ্ছে দেড় শতাধিক পাইলটের। বেতন বৈষম্যের এমন অস্বাভাবিকতায় বিমানের সাধারণ কর্মকর্তাদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন ওঠতে পারে-এসব ক্যাজুয়াল শ্রমিকদেরকে এই মুহূর্তে যদি চুক্তিভিত্তিক বা স্থায়ী করা হয় তাহলে কত টাকা অতিরিক্ত লাগবে। এ বিষয়ে হিসাব শাখা জানিয়েছে, এই মুহূর্তে খুব একটা বেশি কিছু লাগবে না। এখন যেই শ্রমিক মাসের ২৩ দিন ডিউটি করে ১১২৭০ টাকা পায়, চাকরি চুক্তিভিত্তিক বা স্থায়ী হলে সেই শ্রমিক বড় জোর আর হাজার পাচেক টাকা বেশি পাবেন। এ হিসেবে মাসিক সব ক্যাজুয়ালদের বেতনে বড় জোর ১ কোটি ১০ লাখ টাকা বেশি লাগতে পারে। যেটা বিমানের জন্য খুব বেশি কিছু নয়। টাকার অংকে বেশি না হলে ছুটি ও অন্যান্য সুিবধাদি যা পাবেন তারা তাতেই খুশি। তারপরও কেন দেয়া হচ্ছেনা এই সুবিধা তাদের ক্ষোভটা সেখানেই।
এ সম্পর্কে বিমানের একজন পরিচালক বলেন, যেখানে বছরে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি হয়, লিজ বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকার কমিশন বিনিময় হয়, যেখানে পাইলটদের এশিয়ার সর্বোচ্চ হারে বেতন দেয়া হয়, সেখানে মাত্র ১ কোটি টাকার দায়ভার নিতে বিমানের কেন এত টালবাহানা। আইনগত তুচ্ছ অজুহাত দেখিয়ে, মাসের ৩০ দিনের মধ্যে ২৩ দিন কাজ করিয়ে গোলামির জিঞ্জির পরিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের প্রতি বিমান কতোটা অমানবিক আচরণ করছে, কিংবা কতোটা অন্যায়, অবিচার ও জুলুম করছে তা স্বচক্ষে না দেখলে কারোর মনে এতটুকু সহানুভূতিও জাগবে না। একজন ফরিদ দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে ২৫ বছর কাজ করে ঘরে ফিরেছে শূন্য হাতে। বিমানের পক্ষে একটা টাকাও হাতে দেয়া দূরের কথা একটা টাকাও দেয়া হয়নি। সিবিএ অফিসে কাঁদতে কাঁদতে ফরিদ আর্তনাদ করেছেন, জীবন, যৌবন সবই বিসর্জন দিলাম এই বিমানে, যাবার সময় কিছুই পেলাম না? ঘরে গিয়ে কি করব? কি খাব নিজে কি খাওয়াব সন্তানকে?
এনামুল নামের এক শ্রমিক অসুখের খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে পড়েন বিপাকে। অফিসে ফিরে দেখেন তাকে ৫ দিন নো-পেমেন্টে রাখা হয়েছে। বাবার মৃত্যু, মায়ের অসুখ, সন্তানের বিপদ, নিজের আঘাত কোন কিছুতেই বিন্দুুমাত্র ছাড় দেয় না এই বিমান। এতটা অমানুষিক আচরণ করেও ক্ষান্ত হয় না বিমান। শ্রমিক নিজে মরে গেলেও কর্মস্থল থেকে লাশ বাড়ি পাঠাতেও দেয়া হয় না একটা পয়সা।
জানা গেছে, বিমানে এখন মোট জনবল ৪৭ শ। তার মধ্যে ২২ শত জনবলই ক্যাজুয়াল। বাকি জনবলের কাঠামো হচ্ছে নিয়মিতধারীরা পি নম্বরধারী, বি নম্বরধারী, সিসি ও সি নম্বরধারী। দৈনিক ভিত্তিক এসব শ্রমিক বা ক্যাজুয়ালদেরকে দেয়া হয়েছে ডি নম্বর। বিমানের মতো একটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সে এত ক্যাটাগরির জনবল দুনিয়ার আর কোন এয়ারলাইন্সে নজির নেই। এ সম্পর্কে একজন প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনকণ্ঠকে বলেন, বিমান যে আসলেই একটা রুগ্ন প্রতিষ্ঠান এবং এর হর্তাকর্তারা যে মানসিকভাবে অসুস্থ-এটা তারই বড় প্রমাণ। নইলে জনবল এত শ্রেণীতে বিভক্ত কেন? এত বৈষম্য মেনে নিয়েও যুগ যুগ ধরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে এই ২২ শ্রমিক।
বিমানের শীর্ষ কর্মকর্তারাই স্বীকার করছে, এই ২২ শ’ ক্যাজুয়াল শ্রমিকই বিমানের গ্রাউন্ড বোর্র্ডিং কার্ড দেয়া, লোড আনলোড, ব্যাগেজ ডেলিভারি, ইকুইপমেন্ট সার্ভিস, রক্ষণাবেক্ষণ, রান্নাবান্না, প্রকৌশল ও কাস্টমার সার্ভিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। হাজার কোটি টাকা দামের একটি উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ থেকে লোড আনলোডের কাজও করানো হচ্ছে এদেরকে দিয়ে। মোট জনবলের ডিউটি যদি আনুপাতিক হারে বিভাজন করা হয়, তাহলে দেখা যায় গোটা এয়ারলাইন্সের পরিচালনা মূল চালিকাশক্তি এসব ক্যাজুয়াল শ্রমিক। প্রতি চারটি শিফটেই এসব শ্রমিক ডিউটি করছে। এরা যদি এক যোগে এক ঘণ্টা কর্ম-বিরতি ঘোষণা করে কিংবা কাজ থেকে স্বেচ্ছায় কোন অজুহাতে বিরত থাকে তাহলেই বিমান বসে যাবার উপক্রম হবে। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারলেও বিমান কর্তৃপক্ষ তাদের ন্যূনতম অধিকারের প্রতি এতটুকু সহানুভূতিশীল নয়।
এমন পরিস্থিতিতে আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে এই ২২ শ্রমিকের কেউ-ই ওভারটাইম ডিউটি পালন করবে না বলে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন সিবিএ নেতৃবৃন্দ। সভাপতি মশিকুর রহমান জানিয়েছেন, আমরা বিমানে জরুরি সার্ভিস চলাবস্থায় কোন ধরনের ধর্মঘট বা অনশনের মতো কর্মসূচীতে যাব না। কাউকে জিম্মিও করব না। শুধু ক্যাজুয়াল শ্রমিকদেরকে দিয়ে বাধ্যতামূলক যেভাবে প্রতিদিন ওভারটাইম করানো হচ্ছে সেটা থেকে বিরত রাখা হবে তাদেরকে। এতে বিমানের কি ধরনের লাভ-লোকসান হবে সেটা বিমান কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। আমার একজন ক্যাজুয়াল শ্রমিকও ৩১ জানুয়ারি থেকে ওভারটাইম করবে না।
মশিকুর রহমান বলেন, এটা খুব বড় সমস্যা নয়। বিমানের একটা ঘোষণাই যথেষ্ট। নিদেনপক্ষে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হলেও ক্যাজুয়ালরা হ্যাপি। অন্তত ছুটি ছাটা বেতন ভাতা ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারবে। এই দাবিটার প্রতি বর্তমান চেয়ারম্যান এয়ারমার্শাল ইনামুল বারী একাত্মতা ঘোষণা করে এমডিকে নির্দেশও দিয়েছিলেন। এমডিও সেই নির্দেশ পালনে উদ্যোগী হয়েছিলেন। কিন্তুু হিউম্যান রিসোর্সের ডিজিএম শফিউল বারীর আপত্তির কারণে সেটা আলোর মুখ দেখেনি।
তিনি বলেন, আমরা ধাপে ধাপে সিনিয়র বিবেচনায় একটা শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। অথচ এতে বিমানের তেমন কোন ক্ষতিও হওয়ার মতো নয়। এই ক্যাজুয়াল শ্রমিকরাই প্রতি সপ্তাহে ৯৩৫টি ফ্লাইটের অপারেশান সেবা দিচ্ছে। মাসে ৩৭৪০টি ফ্লাইটের সেবা দিয়ে ১১২ কোটি টাকা আয় করছে শুধু গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং দিয়ে। এই হিসেবে মাত্র ৩৭ ফ্লাইট অপারেটরের মাধ্যমে যে টাকা আয় হয়, সেটা দিয়ে ক্যাজুয়ালদের এক বছরের চুক্তিভিত্তিক বেতনভাতা হয়ে যায়। তারপরও বিমান আমাদের প্রতি এতটা উদাসীন।
অর্গানোগ্রাম জটিলতা সম্পর্কে মশিকুর রহমান বলেন, এটা একটা খোঁড়া যুক্তি। যখন কর্পোরেশন ছিল, তখনো গ্রুপ-১ শ্রমিক বা হেলপার ছিল। পিএলসি হবার পর সেসব শ্রমিকদেরকেই কিন্তুু পি নম্বর ঠিক রেখেই বিমানে রেখে দেয়া হয়েছে এবং তারা এখনো গ্রুপ-১ হিসেবে চাকরি করছে। কাজেই অর্গানোগ্রামের কোন জটিলতা নেই। ম্যানেজমেন্টের সদিচ্ছা থাকলে যে কোন ফরমেটেই এটা করা সম্ভব।
কিন্তু কেন এত অবজ্ঞা-অবহেলা জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে এটা খুবই মর্মান্তিক। ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের কষ্টের কথা আমরা সবাই জানি। তারপরও কিছু করা যাচ্ছেনা এবং কিছু করতে পারছি না এটা আমাদেরও খারাপ লাগে। সমস্যাটা হচেছ- বিমান যখন কর্পোরেশন ছিল তখন গ্রুপ-১ এর সেটআপ ছিল। পিএলসি হবার পর সেই সেটআপ আছে কি নেই সেটা নিয়ে কাজ করছে বোর্ড। অর্গানোগ্রামের কাজ চলছে। সেখানে এদেরকে কিভাবে কতটুকু করা যায় সেটা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। অর্গানোগ্রাম না হওয়া পর্যন্ত কিছুই সুস্পষ্ট করা যাচ্ছে না।
বিমান গত এক দশক ধরেই বলে আসছে অর্গানোগ্রাম না হওয়ায় ক্যাজুয়ালদের বিষয়টি ফয়সালা করা যাচ্ছে না। বিমান আগে ছিল কর্পোারেশন। তখনকার অর্গানোগ্রামে গ্রুপ-১ এর কর্মচারী বা হেলপার ছিল। ২০০৭ সালে কর্পোরেশান থেকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হবার পর সেই অর্গানোগ্রাম বাতিল হয়ে গেছে। নতুন অর্গানোগ্রাম না থাকায় এখন এই গ্রুপ-১ এতে থাকবে কিনা থাকলে সেটা কি হেলপার মর্যাদা পাবে নাকি শ্রমিক হিসেবে বাহির থেকে আউটসোর্সিং করা হবে তার কোনটাই নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, অর্গানোগ্রাম না হওয়া পর্যন্ত কিছুই করা যাচ্ছে না। নতুন অর্গানোগ্রামে গ্রুপ-১ এর অবস্থান কি হয় সেটা আগে দেখতে হবে। পিএলসি পদ্বতিতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কিভাবে এই শ্রেণীটাকে কাজে লাগানো হয় সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে আমি আশাবাদী নতুন অর্গানোগ্রাম হলে এ বিষয়টির একটা ফয়সালা হয়ে যাবে।
বিমান সংসদীয় কমিটির সভাপতি ফারুক খানও মনে করেন, বিমানের স্বার্থেই এদের এই দাবি যতটুকু মানা যায় তা মানা। বিমানের জন্য কোনটা ভাল সেটা বিমান প্রশাসনই ভাল বলতে পারবে।
এ বিষয়ে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ আশীষ রায় চৌধুরি বলেন, প্রথমত বিমানকে স্বীকার করতে হবে, এই ২২ শ‘ শ্রমিকের আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা। যদি থেকে থাকে, তাহলে তাদেরকে স্থায়ী করার কোন যৌক্তিকতা আছে কিনা। যদি সত্যিই তাদের প্রয়োজনীয়তা থাকে তাহলে যুগের পর যুগ ধরে তাদেরকে এভাবে রাখাটা অবশ্যই অন্যায়, অবিচার ও জুলুম ছাড়া আর কিছুই নয়।
এক প্রশ্নের জবাবে আশীষ চৌধুরি বলেন, এদেরকে এখন স্থায়ী করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

 

Aviation News