বিমানের যাত্রীসেবার মান আরো উন্নত চান আমিরাত প্রবাসীরা

এই লেখাটি 404 বার পঠিত

আকাশে শান্তির নীড় দেশের জাতীয় পরিবহন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীদের গর্ব যেমন আছে তেমনি আছে বিমানের সেবা নিয়ে নানা অভিযোগ। বাংলাদেশ বিমান প্রবাসীদের নানা সেবা দিয়ে থাকলেও প্রবাসীরা পাচ্ছেন না তাদের চাহিদামত সেবা। ফলে তারা দেশে যেতে বা দেশ হতে আসতে ভিন্নদেশি বা অন্যদেশি এয়ারলাইনসমুখী হচ্ছেন। ফলে বিমান হারাচ্ছে দেশি যাত্রী আর দেশ হারাচ্ছে মূল্যবান বৈদেশিক মূদ্রা। প্রবাসীদের দাবি, বিমানের সেবার মান বৃদ্ধি করে আন্তর্জাতিক মানের করলে বিমানের যাত্রী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রেভিনিউও বৃদ্ধি পাবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আট লক্ষাধিক প্রবাসীর একমাত্র বাহন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ইতিমধ্যে এটি পদার্পণ করেছে সেবার ৪৬ বছরে। কিন্তু আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশের প্রবাসীদের আছে বিমান নিয়ে নানা অভিযোগ। এ বাহনটি সংযুক্ত আরব আামিরাতের দুইটি প্রধান শহর আবুধাবী ও দুবাই হতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ৬ দিনের বেশি চলাচল করছে। সপ্তাহের প্রায় ছয়দিনে একাধিক ফ্লাইট চালু থাকার পরও বিমানের সেবা নিয়ে প্রবাসীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন সব সময়। বিশেষ করে ফ্লাইট বিলম্ব আর টিকেটপ্রাপ্তি নিয়ে আছে প্রবাসীদের হাজারো অভিযোগ। অনেক প্রবাসী দেশ থেকে আসার সময় ফ্লাইট বিলম্বের কারণে চাকরি হারানোসহ নানা সমস্যায় পড়েছেন অনেক সময়। আমিরাতে অবস্থানরত যাত্রীদের অধিকাংশই (৬০% থেকে ৭০% ভাগ যাত্রীই) বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিধায় বিমানের অধিকাংশ ফ্লাইট চট্টগ্রামগামী। তাই ভোগান্তিতেও পড়ে বেশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রবাসীরা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত অধিকাংশ প্রবাসীদের ইচ্ছে বিমানে করে দেশে যেতে আর দেশ থেকে বিমানে করে প্রবাসে আসতে। কিন্তু বিমানের ফ্লাইট শিডিউল, টিকেট প্রাপ্তি আর অনেক সময় লাগেজ প্রাপ্তির বিড়ম্বনার কারণে প্রবাসীরা বাধ্য হয়ে অন্যান্য এয়ার লাইনসের আসা-যাওয়া করে থাকেন। আবার অনেকে ফ্লাইট বিলম্বের কারণে চাকরি হারানোর ভয়ে বিমানে ভ্রমণ করতে চান না।

অনেক প্রবাসী ২/৩ বছর পর ছুটিতে যান। ছুটিতে দেশে গেলে থাকতে চান বেশি। তারা দেশে গিয়ে তাদের ছুটির অতিরিক্ত কয়টা দিনও থাকতে চাই। ফলে তারা তাদের ছুটির সর্বশেষ সময় বা দিনটিতে বিমানের ফ্লাইট রাখেন। কোনোক্রমে ফ্লাইট বিলম্ব হলে তাদের চাকরি যাবার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। আমিরাতে অনেক প্রবাসীর দেশ থেকে বিলম্বে আসার কারণে চাকরিও গেছে।

বিমানের ফ্লাইট শিডিউল ঠিক রেখে বা ফ্লাইট বিলম্বের কথা যাত্রীদের আগে জানানো হলে যাত্রীরা অযথা হয়রানির শিকার হতে বাঁচতে পারেন বলে মনে করেন সংযু্ক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশ সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন। তার মতে, বিমানের টিকেট প্রাপ্তি, ফ্লাইট শিডিউল আর ফ্লাইট বিলম্বের বিষয়গুলো মাথায় রেখে এগিয়ে আসলে প্রবাসীরা বিমান ছাড়া অন্য কোনো বাহনে ভ্রমণ করবেন না।

আমিরাতে অবস্থানরত বিভিন্ন পেশার অনেক প্রবাসীরাও ফ্লাইট বিলম্ব আর টিকেট প্রাপ্তি এবং যথাসময়ে লাগেজ প্রাপ্তি নিয়ে তাদের অসন্তোষের কথা কালের কন্ঠকে জানান।

বিমানের আবুধাবীর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইকবাল আহমেদ চৌধুরী বিনা মূল্যে প্রবাসীদের লাশ পবিবহনসহ বিমানের নানা সেবার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‌’হজের আগে আর পরে বড় ফ্লাইটগুলো হাজীদের আনা-নেয়াতে ব্যস্ত থাকায় আমিরাতের বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের যাতায়াতে সাময়িক অসুবিধায় পড়তে হয়। আর টিকেটের ক্ষেত্রে যাত্রীদের লাগেজ নিতে কিছু সিট খালী বা অবিক্রত রাখেন যাতে যাত্রীদের লাগেজ ঠিকমত নেয়া যায়’। তিনি যান্ত্রিক ত্রুটিসহ ওয়েদারের কারণে অনেক সময় ফ্লাইট বিলম্বের কথা উল্লেখ করে সকলের কাছে বিমানের সেবার মান উন্নয়নে সহযোগিতা কামনা করেন।

অভিজ্ঞ প্রবাসীদের প্রত্যাশা, বিমানের বিদ্যমান সমস্যা দূর করে সেবার মান উন্নত করে সেবার মান আন্তর্জাতিক মান করে দেশীয় যাত্রীদের আরো বিমানে আরো ভ্রমণে উদ্বুদ্ধ করবে।

Aviation News