৪৬ হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ সৌদি আরবের

এই লেখাটি 214 বার পঠিত

হজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের কারণে বাংলাদেশি ৪৬ হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে সৌদি আরবের মোয়াস্সাসা অফিস। আর এ অভিযোগ প্রমাণ হলে এজেন্সিগুলো সেখানে কালো তালিকাভুক্তও হতে পারে। তখন সেগুলো ২০১৮ সালের হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। হজ অফিসের পরিচালক দপ্তরে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ দেশে বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সঙ্গে ৬৩৫টি এজেন্সি জড়িত। তাদের মাধ্যমেই বেশিরভাগ লোক হজ করতে সৌদি আরবে যান। এ বছর মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ২৯ বাংলাদেশি হজে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং হজ কমিটির সদস্যসহ সরকারিভাবে যান চার হাজার ২০০ জন। কিন্তু সেখানে হাজিদের প্রাপ্য সুবিধা না দেওয়া, তাসরিয়াবিহীন (চুক্তিহীন) বাড়িতে রাখা, নিম্নমানের খাবার দেওয়া, হাজিদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখাসহ নানা ধরনের প্রতারণার ২২৮টি অভিযোগ জমা পড়ে বাংলাদেশি দেড় শতাধিক এজেন্সির বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তদন্ত করতে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যেই সৌদি আরবের মোয়াস্সাসা অফিস থেকে আরও ৪৬টি এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় থেকে রাজধানীর আশকোনার হজ অফিস এবং হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সভাপতি ও মহাসচিবকে নির্দেশ দেয়।
মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, মূলত হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা, অবৈধভাবে বাসায় রান্না করে খাওয়ানো, মোয়াস্সাসা অফিসের অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে ৪৬টি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে। এর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে সেখানে কালো তালিকাভুক্ত করা হতে পারে। ফলে ওই এজেন্সি চলতি বছর হজ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না।
মোয়াস্সাসা অফিস থেকে পাঠানো এজেন্সির তালিকায় রয়েছে আন্তরিক ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল, কারার পথে ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস লিমিটেড, এসডি হলি ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, জুবলী এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, মেহমান ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, এমএস গ্লোবাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, আল আকসা ট্রাভেলস, এখলাছ ট্রাভেলস অ্যান্ড হজ সার্ভিস, জান্নাত ট্রাভেলস, হেজাজী হজ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, মাজেদ ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল, ভেনিস ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, রিয়াদুল জান্নাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, বায়তুল্লাহ হজ সার্ভিস, রাজশাহী ট্রাভেলস, মদিনা ট্রাভেলস, আল বারাকা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, আল জোবায়ের ট্রাভেলস এজেন্সি, সাউথ ইস্ট ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, সেন্ট্রাল ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, হাজী এয়ার মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল, এমএম ওহী ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, গালফ ট্রাভেলস, কার্নিভাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, আকবর ট্রাভেলস, মামুন এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, সোহাগী ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, তাওসীফ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, আমানাহ বিজনেস সলিউশন, সাফুর এয়ার সার্ভিস, আরবি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, এয়ার কনসার্ন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, নিশান ওভারসিজ, ঢাকা হজ কাফেলা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, শাকের হজ কাফেলা অ্যান্ড ট্রাভেলস, মেসার্স নুর-ই মদিনা হজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, ইউসেল প্রাইভেট লিমিটেড, খাজা এয়ার লাইনার ট্রাভেল ট্যুরস, মতিয়া ট্রাভেলস, আল জিয়ারাহ ইন্টারন্যাশনাল, মেগপাই ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, মুনজিয়াত ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, স্কাই ওয়ার্ল্ড ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস এবং ফারিহা ওভারসিজ।
এ বিষয়ে হাব মহাসচিব এম শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, ৪৬টি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে জানিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি হাব কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে চিঠিতে সৌদি আরব থেকে আসা অভিযোগগুলো পাঠানো হয়নি। তবে সেগুলো রবিবার আমাদের দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তখনই এ বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে জানতে পারব এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
তিনি বলেন, যে ৪৬টি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তার মধ্যে কিছু পরিত্রাণ পাবে। কারণ সবগুলো এজেন্সির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুরুতর নয়। যেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি এজেন্সিকেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। কারণ অভিযোগ সম্পর্কে এজেন্সির বক্তব্য জানতে চেয়েছে মোয়াস্সাসা অফিস। ফলে যেসব এজেন্সির জবাব সন্তোষজনক মনে হবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে। তবে যেসব এজেন্সি অভিযুক্ত হবে, সেগুলো ২০১৮ সালে হজ কার্যক্রম পরিচালানায় অযোগ্য হতে পারে।

Aviation News