হজ-ওমরাহ লাইসেন্স মিলবে না নতুন করে

এই লেখাটি 192 বার পঠিত

নতুনimages(8) করে আর কোনো হজ ও ওমরা লাইসেন্স না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১৩ ডিসেম্বর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে। সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তবে লাইসেন্সপ্রাপ্তির জন্য ইতোমধ্যে যেসব আবেদনপত্র জমা পড়েছে, সেগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ শাখার সহকারী সচিব (হজ-২) এসএম মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২০ নভেম্বর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হজ ও ওমরা লাইসেন্সের বিষয়ে সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। তবে হজ ও ওমরা লাইসেন্সপ্রাপ্তির জন্য ইতোমধ্যে যেসব আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে নতুন কোনো আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না।

ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আনিসুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ হজ ও ওমরা লাইসেন্স আছে। কিন্তু আমাদের দেশ থেকে যে পরিমাণ হজযাত্রী বা ওমরাযাত্রী যান, তাদের জন্য এত লাইসেন্সের প্রয়োজন পড়ে না। তাই এমন অনেক লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলো যাত্রীই পায় না। লাইসেন্সপ্রাপ্ত অনেকে আবার হজ বা ওমরা কার্যক্রমই পরিচালনা করে না। এত লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে যে, নতুন করে আর প্রয়োজন নেই। উল্টো মানুষের কষ্ট বাড়বে, প্রতারণা করবে, মানুষকে বিভ্রান্ত করবে। এসব কারণেই আমরা লাইসেন্স না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

জানা গেছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া হজ ও ওমরা লাইসেন্স ইস্যু করায় এজেন্সির দালাল হিসেবে কাজ করতেন এমন ব্যক্তি, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ইটপাথর ব্যবসায়ীও তা পেয়েছেন। এমনকি অফিস নেই, এমন লোককেও হজ ও ওমরা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। অথচ লাইসেন্স নেওয়ার ক্ষেত্রে অফিস ও জনবল থাকা বাধ্যতামূলক। মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে এমন লোককে লাইসেন্স দিয়েছেন, যা অন্যজনকে তারা ভাড়া দিয়েছেন। এ সুযোগে কেউ কেউ হজযাত্রীর সঙ্গে প্রতারণা করছেন। আর এসব নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে। এ অবস্থায় নতুন করে কোনো হজ ও ওমরা লাইসেন্স না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন হজ এজেন্সি মালিকদের অনেকে। একাধিক ব্যবসায়ী বলছেন, প্রকৃত ব্যবসায়ী ছাড়া অতিমুনাফালোভীদের লাইসেন্স দেওয়ায় তারা নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। সরকারের উচিত নতুন করে আর কোনো লাইসেন্স ইস্যু না করে যেগুলো আছে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ অনেকেই হজ ও ওমরা লাইসেন্স নিয়ে ভাড়া দিচ্ছেন।

Aviation News