জেট এয়ারওয়েজের দিল্লি-ঢাকা ফ্লাইটঃ সাড়ে ৩ ঘণ্টা আতঙ্কে কাটল যাত্রীদের

এই লেখাটি 1632 বার পঠিত

jet-airways_ভারতের দিল্লি থেকে ঢাকায় একটি ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে ভারতীয় এয়ারলাইনস জেট এয়ারওয়েজ। এতে সাড়ে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় আতঙ্কের মধ্যে কাটাতে হয়েছে ফ্লাইটের যাত্রীদের। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশীও ছিলেন।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গতকাল বেলা ১টা ২৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে দিল্লি ছাড়ার কথা ছিল জেট এয়ারওয়েজের ৯ডব্লিউ০২৭২ নম্বর ফ্লাইটের। কিন্তু ফ্লাইটটি দিল্লি থেকে রওনা করে সন্ধ্যা ৬টা ১৪ মিনিটে। বিলম্বিত ৫ ঘণ্টার প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টাই ফ্লাইটের যাত্রীরা ভুগেছেন চরম আতঙ্কে।
উড়োজাহাজটির যাত্রীরা জানান, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের জানানো হয়, ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বেলা আড়াইটায়। এরপর যাত্রার সময় পুনর্নির্ধারণ করা হয় বেলা ৩টায়। সে অনুযায়ী সবাইকে উড়োজাহাজে নির্ধারিত আসন গ্রহণের জন্য ২টা ৪০ মিনিটে ডাকা হয়। আর ৩টার মধ্যে পুরো বোর্ডিং সম্পন্ন হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় অপেক্ষা। সবার বোর্ডিং হওয়ার প্রায় ২০ মিনিট পর এয়ারহোস্টেসদের জিজ্ঞেস করেও যাত্রার সঠিক সময় জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ধৈর্যচ্যুতি হলে যাত্রীদের কয়েকজন ফ্লাইটের পাইলটের সঙ্গে কথা বলতে চান। এ সময় এয়ারহোস্টেসরা জানান, পাইলট বা সহপাইলট কেউই উড়োজাহাজে আসেননি। এতে কয়েকজন যাত্রী বেশ বিচলিত হয়ে পড়েন। পাইলট বা সহপাইলট ছাড়া উড়োজাহাজের ইঞ্জিন চালু করল কে, এমন প্রশ্নও করেন যাত্রীদের কেউ কেউ। কারণ নিয়ম অনুযায়ী পাইলট ও সহপাইলট প্রথমে উড়োজাহাজের বাইরের যন্ত্রাংশ এবং পরবর্তীতে এর ভেতরের সবকিছু পরীক্ষা করে ইঞ্জিন চালু করেন। এরপর উড়োজাহাজের এসি ছেড়ে ১৫ মিনিট পর যাত্রীদের বোর্ডিংয়ের নির্দেশনা দেন। অথচ এ ফ্লাইটে কোনো পাইলটই ছিলেন না।
বিষয়টি নিয়ে দিল্লি বিমানবন্দরের জেট এয়ারওয়েজের গ্রাউন্ড প্রধান অরুপ কুমার মাজির (এসআরসিএসএ, পরিচয়পত্র নং-জেএ১০৬০৪৪২৩) সঙ্গে কথা বলেন ফ্লাইটে থাকা বাংলাদেশের শান্তা হোল্ডিংসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার মনির উদ্দিন। অরুপ কুমার মাজি তাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। আমাকে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে যাত্রীদের বোর্ডিংয়ের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর বেশি আমি কিছু বলতে পারব না।’
খন্দকার মনির উদ্দিন গত রাতে বলেন, পাইলট উড়োজাহাজে নেই এটা শুনে কয়েকজন যাত্রী তত্ক্ষণাৎ উড়োজাহাজ থেকে নেমে পড়েন। পাইলট ছাড়া সেখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে বোর্ডিং করার পর থেকে ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চরম নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম সব যাত্রী। শুধু আমি নই, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনও ছিলেন একই ফ্লাইটে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যায়ে অপেশাদারিত্ব দেখাবে এবং যাত্রীদের এত বড় ঝুঁকিতে ফেলে দেবে, তা কল্পনাও করা যায় না।
যাত্রীরা বলেন, যেহেতু বেলা ১টা ২৫ মিনিটে ফ্লাইট ছিল, তাই বেশির ভাগ যাত্রীই চিন্তা করেছিলেন মধ্যাহ্নভোজ ফ্লাইটেই সেরে নেবেন। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কোনো ধরনের খাবার সরবরাহ করেনি জেট এয়ারওয়েজ। এমনকি তাদের এয়ারহোস্টেজদের ডেকেও পানি চাইতে বেগ পেতে হয়েছে। এসব ভোগান্তি ও আতঙ্ক শেষে গতকাল রাত ৮টা ৫২ মিনিটে ফ্লাইটের যাত্রীরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

Aviation News