বিমানবন্দরে নিষেধাজ্ঞাঃ শতকোটি টাকা রাজস্ববঞ্চিত দেশ

Sahajalal-Airportপর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকার যুক্তি দেখিয়ে গত বছর মার্চ মাসে যুক্তরাজ্য সরকার রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সে দেশে সরাসরি কোনো পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর পর ব্রিটিশ সরকারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে; ঢেলে সাজায় নিরাপত্তাব্যবস্থা। শাহজালাল বিমানবন্দরসহ কার্গো ভিলেজে নিরাপত্তা জোরদারে নিয়োগ করা হয় যুক্তরাজ্যেরই একটি খ্যাতনামা নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে। এর পর পেরিয়ে গেছে দেড় বছরেরও বেশি সময়। কিন্তু সে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি যুক্তরাজ্য। কবে নাগাদ তুলে নেওয়া হবে, তা-ও অনিশ্চিত।

যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার কারণে পণ্য পরিবহন বাবদ বাংলাদেশ কমপক্ষে একশ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জিএম (জনসংযোগ) শাকিল মিরাজ। তিনি বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে বৃহস্পতিবার (আগামীকাল) যুক্তরাজ্য সরকারের একটি টিম আসছে। তারা নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণসহ সিভিল অ্যাভিয়েশন ও বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবে।

জানা গেছে, গত বছর ৮ মার্চ থেকে যুক্তরাজ্য সরকার ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয়। ওইদিন দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টের এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক মানদ- নিশ্চিতের প্রয়োজনীয় কিছু বিষয় সেখানে পূরণ করা হয়নি। তখন এ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) পক্ষ থেকেও তখন বলা হয়, সরকার আশু ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ওই নিষেধাজ্ঞা আসার পর বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জানান, শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এর পর নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়ন ও কার্গো কমপ্লেক্সকে ঢেলে সাজাতে ব্রিটিশ নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল প্রস্তাব দেয় স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার। ওই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে কয়েকটি বেসরকারি বহুজাতিক সংস্থাকে নিরাপত্তাব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার কথাও জানানো হয়। প্রতিনিধি দলের ওই প্রস্তাবের ভিত্তিতে বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রীকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন হয়। শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদ-ে উন্নীত করতে সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ যুক্তরাজ্যের রেডলাইন অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটিজ কোম্পানিকে নিয়োগ করে। যে মাসে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, সে মাসেই অর্থাৎ ২০১৬ সালের মার্চে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানটি শাহজালাল বিমানবন্দরে কাজ শুরু করে। বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা তদারকি, স্ক্রিনিং ব্যবস্থা পরিচালনা এবং বিদ্যমান জনবলের প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করে রেডলাইন। এ ছাড়া ব্রিটিশ সরকারের চাহিদা অনুযায়ী বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক স্ক্যানিং যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়; অত্যাধুনিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়; কার্গো ভিলেজে বহিরাগতদের প্রবেশে এমনকি বিমানবন্দরে দর্শনার্থী প্রবেশেও কড়াকড়ি করা হয়। কিন্তু এতকিছুর পরও যুুক্তরাজ্য সরকার তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নেরও সৃষ্টি হয়েছে।

শুধু কি নিরাপত্তার অজুহাতে পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, নাকি এর সঙ্গে রাজনৈতিক মদদ রয়েছেÑ নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমন প্রশ্ন রাখেন সিভিল অ্যাভিয়েশনেরই এক কর্মকর্তা।

Aviation News

সম্পাদক: তারেক এম হাসান
যোগাযোগ: জোবায়ের অভি, ঢাকা, ফোন +৮৮ ০১৬৮৪৯৬৭৫০৪
ই-মেইল: jobayerovi@gmail.com
যুক্তরাস্ট্র অফিস
ইউএসএ সম্পাদক: মো. শহীদুল ইসলাম
৭১-২০, ৩৫ অ্যাভিনিউ, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক ১১৩৭২
মোবাইল: +১ (২১২) ২০৩-৯০১৩, +১ (২১২) ৪৭০-২৩০৩
ইমেইল: dutimoy@gmail.com
এডিটর ইন চিফ : মুজিবুর আর মাসুদ ইমেইল: muzibny@gmail.com
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এভিয়েশন নিউজবিডি.কম ২০১৪-২০১৬