শুধু দিনের বেলায় ফ্লাইট ওঠানামা করে বরিশাল বিমানবন্দরে

বরিশাল বিমানবন্দরদক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বিমানবন্দর বরিশাল বিমানবন্দর ১৯৯৫ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু ২২ বছরেও বিমানবন্দরের অবকাঠামোর আধুনিকায়ন হয়নি। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠান সপ্তাহে পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে সন্ধ্যার আগেই বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে হয়। রাতের বেলা বিমান অবতরণে রানওয়েতে এখনো আলোর ব্যবস্থা করা হয়নি। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই নাজুক। পুরো বিমানবন্দর এলাকা নিরাপত্তা দেয়াল দিয়ে ঘেরাও করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় গড়ে ওঠেনি পুলিশ ফাঁড়ি। কোনো ধরনের অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটলে তা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার মতো সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের নজরে বেশ কয়েকবার বিষয়গুলো তোলা হয়েছিল। এ ব্যাপারে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নির্মাণাধীন তৃতীয় সমুদ্রবন্দরের কথা মাথায় রেখে এ বিমানবন্দরে যেন দিবা-রাত্রি যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী বিমান ওঠানামা করতে পারে সে লক্ষ্যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বরিশাল অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আকাশপথে যাতায়াতের অসুবিধার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হচ্ছে না। এ কারণে যত দ্রুত সম্ভব বিমানবন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করে ঢাকা-বরিশাল রুটে বিমানের ফ্লাইট বৃদ্ধি করা হবে। কিন্তু মন্ত্রীর দ্রুত উন্নয়নের তাগিদের পরেও বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে। অভিযোগ উঠেছে, বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় শম্ভুকগতিতে উন্নয়ন কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টরা এর জন্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও সদস্যকে (অপারেশন) অভিযুক্ত করছেন। সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, বর্ষা মৌসুমে তেমন একটা কাজ হয়নি। শুকনো মৌসুমে যদি ঢিমেতালে কাজ হয় তাহলে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

বেসরকারি ও সরকারি বিমানের ব্যবস্থাপকরা জানান, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে রানওয়ে এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। আর সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে অচল হয়ে পড়ে বিমানবন্দরটি। ফলে শীত মৌসুমে তাদের ফ্লাইট এক থেকে দেড় ঘন্টা এগিয়ে আনতে হয়েছে।

যাত্রীরা অভিযোগ করেন, অফিসের কার্যক্রম শেষ করে তারা বিকাল ৫টায় বিমানযোগে ঢাকা-বরিশাল যাতায়াত করতে চান। কিন্তু এখন বিকাল ৪টার মধ্যেই তাদের বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিমানবন্দরের চলমান উন্নয়ন কাজের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হলেও সেখানে যাওয়ার জন্য সড়ক নির্মিত হয়নি। যার কারণে এটি কোনো কাজে আসছে না। বিশাল এ বিমানবন্দর এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি না থাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ পুলিশ সদস্যকে থাকতে হচ্ছে বিমানবন্দরের একটি জীর্ণ কক্ষে। ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের জন্য যে লাউঞ্জটি ছিল, তা গত চার মাস ধরে বন্ধ। চলছে তার সংস্কারের কাজ। আপাতত সিআইপি কক্ষটিকে ঠিকাদারের মাধ্যমে জরুরিভিত্তিতে প্রস্তুত করে সেখানেই ভিআইপিদের স্থান করে দেয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর এলাকার চারদিকে ডোবা-নালা থাকায় বর্ষা মৌসুমে ডুবে ছিল। শুকনো মৌসুমে ওই ডোবা-নালা ভরাট করে সীমানা প্রাচীর নির্মিত না হলে বিমানবন্দর অরক্ষিত থেকে যাবে।

সংশ্লিষ্টরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে পরিচালিত হয়। ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে নড়েই না।

মাঝে বেশ কয়েক বছর বিমান চলাচল বন্ধ, আবার চালু— এরকম অবস্থা থাকলেও ২০১৫ সাল থেকে পুরোদমে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয় বরিশাল বিমানবন্দরে। বর্তমাসে বেসরকারি কোম্পানি ইউএস বাংলা ও বাংলাদেশ বিমান সপ্তাহে ৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। নির্দিষ্ট আসনের প্রায় তিন গুণ মানুষ বিমানে চলাচলে আগ্রহ প্রকাশ করে। এ অবস্থায় ইউএস বাংলা সপ্তাহে ছয়দিন ফ্লাইট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। ব্যবসা গুটিয়ে নেয়া নভো এয়ারও প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে তাদের সিডিউল দিয়েছে।

বেসরকারি ও সরকারি বিমানের ব্যবস্থাপকরা জানিয়েছেন, তারা প্রত্যেকটি ফ্লাইটেই আসনের প্রায় ৩/৪ গুণ বেশি যাত্রীর ভ্রমণের চাহিদা পেয়ে থাকেন। কিন্তু সপ্তাহে ৭৫২ জনই যাত্রী পরিবহন করতে হয়।

ইউএস বাংলার বরিশাল বিমানবন্দর ইনচার্জ সাইফুর রহমান জানান, সপ্তাহে তিন দিন তাদের সার্ভিস চালু রয়েছে। কোনো কারণে বিমানের সিডিউল পরিবর্তিত হলে সন্ধ্যায় আর অবতরণ করা যাচ্ছে না। কারণ রানওয়েতে আলোর স্বল্পতা। তিনি বলেন, রানওয়ের দৈর্ঘ্য কম হওয়ায় বিমান স্বল্প দূরত্বে থামাতে হয়, এসময় তীব্র ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীরা ভয় পেয়ে থাকে। তিনি বলেন, তাদের নতুন বিমান সংযোজন হলে শিগগিরই আরো একদিন সার্ভিস চালুর পাশাপাশি সপ্তাহে ছয়দিন সার্ভিস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বরিশাল বিমানবন্দরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, বিমানবন্দরের আধুনিকায়নে বেশ কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। কিছু প্রকল্প টেন্ডার প্রক্রিয়ায় থাকায় তা এখনই শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে শুকনো মৌসুমে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হবে বলে তিনি আশাবাদী।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

Aviation News

সম্পাদক: তারেক এম হাসান
যোগাযোগ: জোবায়ের অভি, ঢাকা, ফোন +৮৮ ০১৬৮৪৯৬৭৫০৪
ই-মেইল: jobayerovi@gmail.com
যুক্তরাস্ট্র অফিস
ইউএসএ সম্পাদক: মো. শহীদুল ইসলাম
৭১-২০, ৩৫ অ্যাভিনিউ, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক ১১৩৭২
মোবাইল: +১ (২১২) ২০৩-৯০১৩, +১ (২১২) ৪৭০-২৩০৩
ইমেইল: dutimoy@gmail.com
এডিটর ইন চিফ : মুজিবুর আর মাসুদ ইমেইল: muzibny@gmail.com
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এভিয়েশন নিউজবিডি.কম ২০১৪-২০১৬