শাহজালাল বিমানবন্দরে জরিমানা আতঙ্কে দেশী বিদেশী এয়ারলাইন্স

এই লেখাটি 1705 বার পঠিত

maxresdefaultহজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টরা উদ্বিগ্ন। হয়রানি বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভোক্তা অধিকার আইনে দেশী-বিদেশী কয়েকটি এয়ারলাইন্সকে জরিমানা করেন। কিন্তু এর পর থেকেই বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে কর্মরতদের মধ্যে জরিমানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যাত্রী হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও শুনানির পর গত কয়েক মাসে আবুধাবির সরকারি বিমান সংস্থা ফ্লাই দুবাই, এয়ার অ্যারাবিয়া, থাই এয়ার ওয়েজসহ দেশী-বিদেশী এয়ারলাইন্সকে জরিমানা করেন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টদের হাতে কোনো যাত্রী হয়রানির ঘটনা ঘটলে সেটি তাৎক্ষণিক জরিমানা না করে কিভাবে মিটিয়ে ফেলা যায় সে উপায় খোঁজা হচ্ছে। এয়ারপোর্ট সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইনগত ত্রুটির কারণে আকাশপথে ‘সুরক্ষা আইন’ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এ আইন দ্রুত চালু হলে বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির ঘটনা কমবে।

বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর বেলা ১টা ৪০ মিনিটে ব্যাংককগামী ফ্লাইটে ওঠার আগে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের থাই এয়ারওয়েজের (টিজি-৩২২) কাউন্টারে ডিউটি ম্যানেজার সেলিম মুস্তাকের দুর্ব্যবহারের শিকার হন যাত্রী ফারজানা ও তার অসুস্থ স্বামী। এ ঘটনায় থাই এয়ারওয়েজের ডিউটি ম্যানেজার সেলিম মুস্তাককে দুই লাখ টাকা জরিমানা ও পরবর্তী ফ্লাইটে যাত্রীদের ব্যাংকক যাওয়া নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

ফারজানার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ওই ফ্লাইটে ব্যাংকক যাওয়ার জন্য চেক ইন শেষে বিজনেস লাউঞ্জে অপেক্ষায় ছিলেন তারা। উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বামীকে নিয়ে ফারজানা ব্যাংকক যাচ্ছিলেন। অসুস্থ থাকায় তারা ধীরগতিতে বোর্ডিংয়ের দিকে যান। এজন্য অন্য যাত্রীদের চেয়ে তাদের আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এতে থাই এয়ারের ডিউটি ম্যানেজার তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। তখন তারাও ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ফ্লাইটে যেতে অস্বীকৃতি জানান। তখন ডিউটি ম্যানেজার তাদের ব্যাগেজ উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেন। দুর্ব্যবহারের বিষয়টি ফারজানা প্রথমে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। পরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা অভিযোগসহ তাদের বিমানবন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে পাঠান। সেখানে থাই এয়ারওয়েজের কর্মকর্তা ও দুই যাত্রীর অভিযোগ শুনানি শেষে ওই জরিমানা করা হয়।

বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ এ প্রসঙ্গে জানান, দুই যাত্রীর অভিযোগ ও থাই এয়ারওয়েজের ডিউটি ম্যানেজার সেলিম মুস্তাকের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকার আইনে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী আদায় করা জরিমানার অর্থ থেকে যাত্রীদের ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। একই সাথে পরবর্তী ফ্লাইটে তাদের ব্যাংকক যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শুধু থাই এয়ারওয়েজ নয়, একইভাবে এয়ার ইন্ডিয়াকেও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগে জানা যায়, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানার যাত্রী রাশেদুল ১৯ আগস্ট শাহজালাল বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার চেক ইন কাউন্টারে যান। কাউন্টার সুপারভাইজার প্রথমে তার রিটার্ন টিকিট দেখতে চান। যদিও ইন্ডিয়াতে ভিজিট ভিসায় হোটেল বুকিং আবশ্যিক নয়। যাত্রী হোটেল বুকিং দেখানোর পর তাকে পুনরায় ইন্ডিয়ায় আত্মীয়স্বজন আছে কি না জিজ্ঞাসা করেন। ইন্ডিয়াতে যাত্রীর ভাই থাকেন মর্মে জানালে সুপারভাইজার বলেন, ‘ভাই থাকতে আপনি হোটেলে উঠবেন কেন? বিষয়টি কনফিউজিং, আমরা আপনাকে নিতে পারব না।
এ বিষয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, ইন্ডিয়ায় ভিজিট ভিসায় কেবল রিটার্ন টিকিটের আবশ্যকতা আছে। হোটেল বুকিং কিংবা আত্মীয়স্বজন থাকা না থাকার কোনো ব্যাপার নেই। তবু সব চাহিদা পূরণের পরও এয়ার ইন্ডিয়া কেন যাত্রীকে বোর্ডিং পাস দেয়নি তার কোনো উত্তরই দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এটি সন্দেহাতীতভাবে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন এবং সে কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এয়ারলাইন্সটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং যাত্রীকে নির্ধারিত এআই-২২৯ ফ্লাইটে আগের টিকিটেই ইন্ডিয়া প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, থাই এয়ারওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়ার মতো একইভাবে যাত্রী হয়রানির অভিযোগে ফ্লাই দুবাই, এয়ার অ্যারাবিয়া, গালফ এয়ারসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্সকে নগদ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর পর থেকেই বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে জরিমানা আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান বিমানবন্দরের একাধিক কর্মকর্তা।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ গত সপ্তাহে জানান, যাত্রী হয়রানির অভিযোগে আমরা বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সকে জরিমানা করেছি। এর মধ্যে কোনো কোনো এয়ারলাইন্সকে তিনবারও জরিমানা করেছি। তিনি বলেন, শুধু বিদেশী এয়ারলাইন্স নয়, একটি দেশী এয়ারলাইন্সকেও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে এখন আমরা ছোটখাটো কোনো অভিযোগে জরিমানা করছি না। এতে এয়ারলাইন্সের গুডউইল নষ্ট হয়। সে ক্ষেত্রে আমরা মিটমাট করার চেষ্টা করছি। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আইনগত ত্রুটির কারণে আকাশপথে সুরক্ষা আইনটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। আইনটি চালু হলে যাত্রী হয়রানি থাকবে না।

সূত্রঃ  নয়া দিগন্ত

Aviation News