এবার হজযাত্রীদের ব্যাগ কেনার দায়িত্ব হাব কে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত

243490_14এবারের হজ ব্যবস্থাপনাটা ছিল একেবারেই হযবরল। নানা অনিয়ম, ভিসা থাকার পরও হজযাত্রীকে সৌদি আবর পাঠাতে তালবাহানা এবং প্রতারণার অভিযোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। তাই গুরুত্বপূর্ণ এ অভিযোগগুলো তদন্তে তিনটি পৃথক কমিটি গঠন করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। দ্রুত সময়ে তদন্তকাজ শেষ করে কমিটিগুলোকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি হজযাত্রীদের মধ্যে লাগেজ সরবরাহ নিয়ে প্রতিবছরই অভিযোগ ওঠে। নিম্নমানের ও বিলম্বে ব্যাগ সরবরাহের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা। তাই হজযাত্রীদের ব্যাগ সরবরাহের দায়িত্ব হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে (হাব) না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এমনটাই জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা।

এদিকে ২০১৮ সালের বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের জন্য যারা সৌদি আরব যাবেন, তাদের কোটা ইতোমধ্যে পূরণ হয়ে গেছে। প্রাক-নিবন্ধন করেছেন নির্ধারিত কোটা থেকে ৫০ হাজারের বেশি হজযাত্রী। তবে বেসরকারি কোটা পূরণ হলেও সরকারিভাবে হজ পালনে ইচ্ছুকরা প্রাক-নিবন্ধন করতে পারবেন আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

জানা গেছে, প্রতিবছরই বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি হজযাত্রী বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরব যান। আর এজেন্সিগুলোকে যাত্রী সংগ্রহ করে দেন স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন হিসেবে পরিচিত মধ্যস্বত্বভোগীরা। প্রতিযোগিতা করে তখন অনেক এজেন্সি সরকার ঘোষিত হজ প্যাকেজ থেকে কম টাকায় যাত্রীদের সৌদি আরব নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে। তবে প্যাকেজের টাকা জমা দেওয়ার পরই তারা এজেন্সি মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েন। তাই প্রাপ্য সেবা না পেয়ে হাজিরা অভিযোগ দেন। অনেকে তো প্রতারিত হয়ে বিমানেই উঠতে পারেন না।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ৬৩৫টি এজেন্সি। কিন্তু এবার বেশিকিছু এজেন্সির অব্যবস্থাপনার কারণে ভিসা ইস্যুর পরও অনেক হজযাত্রী যথাসময়ে সৌদি আরব যেতে পারেননি। এতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৪টি বাতিল করতে হয়। ফ্লাইট বাতিল হয় সাউদিয়া এয়ারলাইনসেরও। পাশাপাশি বেশকিছু ফ্লাইট টিলেও করতে হয়। তখন হাজার হাজার হজযাত্রীর সৌদি আবর যাওয়া নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দেয়। পরে সরকারের কর্মকর্তারা সৌদির সঙ্গে দেনদরবার করে নির্ধারিত সøটের বাইরে অতিরিক্ত ২৩টি সøট এনে তাদের হজে পাঠানো নিশ্চিত করে।

এ ছাড়া হজ এজেন্সির প্রতারণার কারণে টাকা জমা দিয়েও অনেক বাংলাদেশি সৌদি আরবে যেতে পারেননি। কিছু হজ এজেন্সির মালিক শুধু দেশেই অনিয়ম ও দুর্নীতি করেই ক্ষান্ত থাকেননি, তারা সৌদি আরবে গিয়েও ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। সেখানে প্রাপ্য সুবিধা না দেওয়া, তাসরিয়াবিহীন (চুক্তিহীন) বাড়িতে রাখা, নিম্নমানের খাবার দেওয়া এবং হাজিদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখাসহ নানা ধরনের প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়েছে। সৌদি আরবের বাংলাদেশ হজ মিশন সে অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই শেষে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এসব অভিযোগ দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এগুলোর প্রধান করা হয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তিন যুগ্ম সচিবকে।

ব্যাগ সংগ্রহের দায়িত্ব হারাচ্ছে হাব : নিম্নমানের ব্যাগ সরবরাহের কারণে হজযাত্রীরা চরম ভোগান্তি শিকার হন প্রতিবছরই। তাই ২০১৮ সাল থেকে হজযাত্রীদের ব্যাগ সরবরাহের দায়িত্বে থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে হাবকে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, হজ প্যাকেজ ঘোষণাকালে সরকার হজযাত্রীদের ব্যাগের টাকা গ্রহণ করত। কিন্তু ২০১৮ সালের প্যাকেজের সঙ্গে যাত্রীদের ব্যাগের টাকা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এখন থেকে হজযাত্রীরা নিজেরাই নিজেদের ব্যাগ কিনবেন। তবে কী ধরনের ব্যাগ নিতে হবে তার একটা স্যাম্পল নির্ধারণ করে দেওয়া হবে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে। যাতে সব বাংলাদেশির ব্যাগ এক রকমের হয়।

 

Aviation News

সম্পাদক: তারেক এম হাসান
যোগাযোগ: জোবায়ের অভি, ঢাকা, ফোন +৮৮ ০১৬৮৪৯৬৭৫০৪
ই-মেইল: jobayerovi@gmail.com
যুক্তরাস্ট্র অফিস
ইউএসএ সম্পাদক: মো. শহীদুল ইসলাম
৭১-২০, ৩৫ অ্যাভিনিউ, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক ১১৩৭২
মোবাইল: +১ (২১২) ২০৩-৯০১৩, +১ (২১২) ৪৭০-২৩০৩
ইমেইল: dutimoy@gmail.com
এডিটর ইন চিফ : মুজিবুর আর মাসুদ ইমেইল: muzibny@gmail.com
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এভিয়েশন নিউজবিডি.কম ২০১৪-২০১৬