ফের পেছাচ্ছে বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর নির্মাণ পরিকল্পনা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরআবারও পিছিয়ে গেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা। ২০১০ সালে ভূমি অধিগ্রহণে বাধার কারণে মুন্সীগঞ্জের আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণ থেকে সরে দাঁড়ায় সরকার। এর পর মাদারীপুরের শিবচরের চরজানাজাতে বিমানবন্দর নির্মাণে প্রাথমিকভাবে স্থান নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সেখানেও ভূমি অধিগ্রহণে স্থানীয়দের বাধার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে এ ধরনের উদ্যোগে জনমনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে সরকার। তাই আগামী নির্বাচনের আগে বিমানবন্দরটির নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ সংক্রান্ত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি নিয়ে আরও যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগটি পিছিয়ে যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা হলে তিনি বিশদভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করছি, বেশি সময় লাগবে না। ১৫ দিনের মধ্যেই রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হতে পারে।

জানা গেছে, ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যতগুলো আন্তর্জাতিক বিমানের রুট রয়েছে, তার সবই দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। দূরত্ব বিবেচনায়ও আন্তর্জাতিক বিমানের অবতরণে পদ্মার দক্ষিণ প্রান্ত উপযুক্ত স্থান। তাই শিবচরের চরজানাজাতকে বাছাই করা হয়। এ স্থান নির্ধারণ ও প্রাথমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয় গত সপ্তাহে। সেখানে বলা হয়Ñ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এর দূরত্ব ৬৮ কিলোমিটার। বিমান চলাচল খাতে ভবিষ্যতের বর্ধিত চাহিদা পূরণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে রাজধানীর অদূরে একটি বিশ্বমানের বিমানবন্দর করা দরকার। এ ক্ষেত্রে চরজানাজাতই শ্রেয়।

তবে এ নিয়ে আপত্তির বিষয়টি তুলে ধরেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। তার মতে, চর জানাজাতে বিমানবন্দর নির্মাণ করতে গেলে আড়িয়ল বিলের মতো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়াটা দল ও সরকারের জন্য শুভ নয়। এ ছাড়া সেখানে ব্যাপক জনবসতিও রয়েছে। বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করলে গুনতে হবে বিপুল অর্থ। এসব বক্তব্য আমলে নিয়ে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত তিনটি স্থানের ওপর আরও যাচাই-বাছাই করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানগুলো হচ্ছে শিবচর উপজেলার চরজানাজাত এবং মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের মাঝামাঝি স্থানের একটি চর।

এর আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোই কোম্পানি লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেয় সরকার। নিপ্পন কোই এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত স্থানগুলোয় সম্ভাব্যতা যাচাই করে। উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের লক্ষ্যে মোট ৯টি স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করে ঢাকা থেকে দূরত্ব, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জমির পর্যাপ্ততা, আন্তর্জাতিক রুট, সড়ক, রেল ও নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, পুনর্বাসন, যাতায়াত খরচ ইত্যাদি বিবেচনা করে ৪টি স্থান নির্বাচন করা হয়।

এখানে বিমানবন্দর স্থাপিত হলে এর পাশে এক লাখ একর খাস জমিতে একটি স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণ সম্ভব হবে এবং এর দক্ষিণ-পূর্ব পাশে নরিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক নৌ কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপন করার সুযোগ থাকবে। মূলত এসব সুবিধা বিবেচনায় রেখেই জাপানের নিপ্পন কোই কোম্পানির বিশেষজ্ঞ পরামর্শক দল কাজ করছেন। নিপ্পন কোই যে তিনটি স্থান সম্পর্কে সম্প্রতি মতামত দিয়েছে, সেগুলোর কোনটিতে জনবসতি কত, কত লোককে পুনর্বাসন করতে হবে এবং ব্যয় কেমন হবেÑ এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে কোম্পানিটি।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০৩০ সালে যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। তখন এ বিমানবন্দরকে আর সম্প্রসারণের সুযোগ থাকবে না। তাই এর অনেক আগেই একটি সর্বাধুনিক নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ অপরিহার্য। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর নির্মাণ করতে চায় সরকার। কিন্তু স্থান নির্ধারণ জটিলতায় প্রক্রিয়াটি হোঁচট খাচ্ছে বারবার।

সূত্রঃ আমাদের সময়

Aviation News

সম্পাদক: তারেক এম হাসান
যোগাযোগ: জোবায়ের অভি, ঢাকা, ফোন +৮৮ ০১৬৮৪৯৬৭৫০৪
ই-মেইল: jobayerovi@gmail.com
যুক্তরাস্ট্র অফিস
ইউএসএ সম্পাদক: মো. শহীদুল ইসলাম
৭১-২০, ৩৫ অ্যাভিনিউ, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক ১১৩৭২
মোবাইল: +১ (২১২) ২০৩-৯০১৩, +১ (২১২) ৪৭০-২৩০৩
ইমেইল: dutimoy@gmail.com
এডিটর ইন চিফ : মুজিবুর আর মাসুদ ইমেইল: muzibny@gmail.com
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এভিয়েশন নিউজবিডি.কম ২০১৪-২০১৬