আসছে আকাশ পথে পরিবহন আইন, ইতিমধ্যে খসড়া প্রস্তুত

800px-Continental_Airlines_767-400ER_economy_cabinএয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বা দোষে যাত্রী ও পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি হলে জরিমানা আদায় কিংবা অন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুযোগ কম। দায় এড়িয়ে পার পেয়ে যায় পরিবহন সংস্থাগুলো। ফলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনকারীরা বরাবরই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য বাংলাদেশে আইন নেই। তাই ‘ওয়ারশ কনভেনশন ও মন্ট্রিল কনভেনশনের স্বাক্ষরিত চুক্তি’ অনুযায়ী এবার আইন প্রণয়নে হাত দিয়েছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এরই মধ্যে আকাশপথে পরিবহন আইন, ২০১৭ নামে খসড়া তৈরি করে তা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাঈম রহমান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছেÑ গত ২২ আগস্ট মন্ট্রিল কনভেনশন, ১৯৯৯ অনুসমর্থন বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আকাশপথে পরিবহন আইনে যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবহনকারী এয়ারলাইন্সের দায়; যাত্রী, যাত্রীর মালপত্র ও পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের দলিলাদি ও দায়িত্বসহ জরিমানার পরিমাণ এবং শাস্তির বিশদ বিবরণ রয়েছে। আইনটির বাস্তবায়ন হলে বিমান পরিবহন সংস্থা বা পণ্য পরিবহনকারী ঠিকাদার প্রত্যেককেই শাস্তির আওতায় আনা এবং ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব। শুধু তাই নয়, বিশ্বের যেখানেই এমন ঘটনা ঘটুক না কেন, ওই দেশের মুদ্রায় অনায়াসে ক্ষতিপূরণ পেয়ে যাবেন যাত্রী বা পণ্য পরিবহনকারী।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল হাসনাত জিয়াউল হক বলেন, যাত্রীদের জন্য এ আইন দরকার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তা আছেও। বাংলাদেশেও এটি প্রণয়নের কাজ চলছে।

জানা গেছে, আকাশপথে আন্তর্জাতিক পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা একত্রীকরণে ১৯৯৯ সালের ২৮ মে মন্ট্রিলে চুক্তি সই হয়। এটি মন্ট্রিল কনভেনশন নামে পরিচিত। মন্ট্রিলে স্বাক্ষরিত মন্ট্রিল কনভেনশন বাস্তবায়নে ১৯২৯ সালের ১২ অক্টোবর ওয়ারশতে স্বাক্ষরিত ওয়ারশ কনভেনশন এবং সংশ্লিষ্ট প্রটোকলগুলো যুগোপযোগী করে নতুন আইন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ আইন থাকলেও পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মন্ট্রিল কনভেনশন বাস্তবায়নের স্বার্থে দেরিতে হলেও নতুন করে আইন প্রণয়ন করছে সরকার।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রস্তাবিত আইনে বলা আছেÑ ক্ষয়ক্ষতির জন্য প্রতি যাত্রী অনধিক ১ লাখ এসডিআর লাভ করবে। এসডিআর মানে হচ্ছে স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস। অর্থাৎ যে দেশে এ ঘটনা ঘটবে সে দেশের মুদ্রা হিসেবে এসডিআর দিতে হবে। এটি পরিশোধ করবে পরিবহনকারী কোম্পানি।

যাত্রীর মৃত্যু বা আহত হওয়া এবং ব্যাগেজের ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে বলা হয়েছেÑ বিমানে ওঠা বা অবতরণজনিত কোনো কার্যক্রমের সময় বা বিমানের ভিতরে সংঘটিত কোনো দুর্ঘটনায় যাত্রীর মৃত্যু হলে বা আহত হলে পরিবহনকারী কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য। এ ছাড়া বিমানের ভিতরে অবস্থানকালে পরীক্ষাকৃত ব্যাগেজ নষ্ট হলে বা হারানো গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবহনকারী কর্তৃপক্ষকে এ জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রসঙ্গে আইনে বলা আছে, আকাশপথে পরিবহনের সময় পণ্য নষ্ট হলে বা হারানো গেলে পরিবহনকারী বিমান ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়বদ্ধ থাকবে। আর কার্গোর পণ্য হারানো গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ওজন হিসেবে এর ক্ষতিপূরণ ধার্য করার কথা বলা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে এ সংক্রান্ত আদালত রায় দেবেন।

উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় যাত্রীর মৃত্যু বা আহত হওয়ার ক্ষেত্রে যদি যাত্রীদের জাতীয় আইন অনুযায়ী আবশ্যক হয় তা হলে ক্ষতিপূরণের দাবি উত্থাপনের অধিকারী ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক অর্থ দিতে হবে। আইনের খসড়ায় একে অগ্রিম অর্থ পরিশোধ বলা হয়েছে। আর দায়ী ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার সম্পত্তিতে বৈধভাবে প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

বিচার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে বলা হয়েছেÑ বাদীর সুবিধামতো কোনো রাষ্ট্রপক্ষের অঞ্চলাধীন পরিবহন কোম্পানির স্থায়ী ঠিকানায় অবস্থিত আদালত বা এর ব্যবসায় মূল কেন্দ্রস্থ আদালত বা যাদের মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদন হয়েছে, তাদের ব্যবসাস্থলে বা গন্তব্যস্থলে অবস্থিত আদালতে ক্ষতিপূরণের মামলা করা যাবে। যাত্রীর মৃত্যু বা আহতজনিত ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছেÑ দুর্ঘটনার সময় যাত্রী যে রাষ্ট্রপক্ষের অঞ্চলে ছিলেন, সেখানকার আদালতে বিচারকার্য চলবে। সেখানে পরিবহন কোম্পানির নিজস্ব এয়ারক্রাফট না থাকলে ভাড়ায় পরিচালনা করলেও বিচারের আওতায় থাকবে। বলা হয়েছেÑ ব্যাগেজ, কার্গো, যাত্রী বা প্রেরক তাদের অভিযোগ প্রথমেই করতে পারবেন পরিবহনকারীদের বিরুদ্ধে।

যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবহনকারীর দায় প্রসঙ্গে বলা হয়েছেÑ যাত্রীর মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের স্থায়ী ক্ষতি বিবেচনা করে সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

সূত্রঃআমাদের সময়

Aviation News

সম্পাদক: তারেক এম হাসান
যোগাযোগ: জোবায়ের অভি, ঢাকা, ফোন +৮৮ ০১৬৮৪৯৬৭৫০৪
ই-মেইল: jobayerovi@gmail.com
যুক্তরাস্ট্র অফিস
ইউএসএ সম্পাদক: মো. শহীদুল ইসলাম
৭১-২০, ৩৫ অ্যাভিনিউ, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক ১১৩৭২
মোবাইল: +১ (২১২) ২০৩-৯০১৩, +১ (২১২) ৪৭০-২৩০৩
ইমেইল: dutimoy@gmail.com
এডিটর ইন চিফ : মুজিবুর আর মাসুদ ইমেইল: muzibny@gmail.com
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এভিয়েশন নিউজবিডি.কম ২০১৪-২০১৬