যে কারনে এয়ারপোর্টে হারাতে পারে আপনার লাগেজ

luggageবিমান যাত্রার একটা বড় অংশ হল লাগেজ নিয়ে টানা টানি। বিমানে ওঠার আগে সেগুলো স্ক্যান করানো হয়, এর পর সবকিছু ঠিক ঠাক থাকলে সেখানে চেন বা বাকল এর সাথে স্টিকার লাগিয়ে দেয়া হয়, যেন সেটা আবার খোলা না যায়। এরপরে আপনি যখন আপনার টিকিট কাউন্টারে দেখিয়ে বোর্ডিং পাশ নিচ্ছেন, তখন ব্যাগের সাথে একটি বড় আকারের স্টিকার আটকে দেয়া হবে, যাতে বারকোড আকারে আপনার নাম, বিমানের নম্বর, কোথায় থেকে কোথায় যাচ্ছেন সব তথ্য দেয়া থাকবে।
এভাবে আপনার লাগেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা করিয়ে দিয়ে আপনার কাজ শেষ, আপনি বিমানে করে গন্তব্যে পৌঁছে গেলে একটি চলন্ত বেল্ট থেকে লাগেজ তুলে নেবেন। ভাবছেন, এরপরে আর ঝামেলা কি?
ঝামেলা আছে। অনেক সময় আপনার লাগেজ জমা দেয়া আর লাগেজ বেল্ট থেকে তুলে নেয়া, এর মাঝেই লাগেজ হারিয়ে যায়, তবে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাবার ঘটনা অনেক দুর্লভ, বেশিরভাগ সময় দেখা যায় লাগেজ আসতে দেরি হচ্ছে বা আপনি যে বিমানে এসেছেন, তার পরের বিমানে তুলে দেয়া হয়েছে অথবা হয়ত অন্য কোন দেশেই চলে গেছে তা! আজ আসুন জেনে নেয়া যাক কী কী কারণে আপনার লাগেজ হারাতে পারেন বা পেতে দেরী হতে পারে। আর সবগুলো না হলেও অন্তত যে কয়েকটা কারণ প্রতিরোধ করার উপায় আছে আপনার, সেটাও জেনে নেয়া যাক।
আসুন, প্রথমে জেনে নেয়া যাক লাগেজ আপনার সাথে, আপনার বিমানেই না এসে কেন পরের বিমানে আসতে পারে বা দেরী হতে পারে।
* বাড়তি চেকিং: লাগেজ সবসময় সাধারণভাবে স্ক্যানিং মেশিনে অটোমেটিক ভাবে স্ক্যান করা হয়। এতে খুব সামান্য সময় লাগে। এই স্ক্যান করার সময় যদি আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায়, বা এমন কিছু পাওয়া যায় যেটা সন্দেহজনক মনে হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারের কাছে, সেই লাগেজ ম্যানুয়াল চেকিং বা খুলে দেখার জন্য সরিয়ে নেয়া হয়, এবং এর ফলে সময় মত তা আপনার বিমানে লোড করা নাও হতে পারে। এরকম অবস্থায়, ম্যানুয়াল চেকিং এর পরে কোন সমস্যা না থাকলে সেই লাগেজ একই গন্তব্যের পরবর্তী বিমানে তুলে দেয়া হয়, যেটা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েকদিন পরেও হতে পারে।
* বিমান কর্মচারীর ভুল স্টিকার লাগানো: অনেক সময় যেটা হয়, তাড়াহুড়ো বেশি থাকলে বিমানের কর্মচারী ভুল স্টিকার লাগিয়ে দিতে পারে আপনার লাগেজে এবং দেখা যাবে আপনার লাগেজ আর কারও নামে অন্য কোন বিমানে উঠে চলে গেছে। এরকম ভুল হলে আপনাকে এক দুদিন বা আরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে সেই লাগেজ ফেরত পাবার জন্য।
* পুরাতন স্টিকার থেকে যাওয়া: যারা নিয়মিত বিমানে যাতায়াত করেন তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা হতে পারে। হয়ত দেখা গেল আপনার লাগেজে পুরাতন বা গতবার ভ্রমণের স্টিকারটি থেকেই গেছে। এর ফলে লাগেজ এর গন্তব্য বোঝার জন্য বারকোড স্ক্যান করলে দেখা যায় ভুল তথ্য আসে এবং সেটা অন্য কোন গন্তব্যে চলে যেতে পারে।
* কনভেয়ার বেল্টে সমস্যা: আকারে বড় হলে বা কোথাও আটকে যাবার মত হলে অনেক সময় আপনার লাগেজ কনভেয়ার বেল্টে আটকে যেতে পারে বা অন্য কোন গন্তব্যের দিকে রওনা দিয়ে দিতে পারে। এরকম সমস্যা হতে পারে কানেক্টিং ফ্লাইটে।
* ব্যাগেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে সমস্যা: এটা যদিও কম হয়, তারপরেও এরকম হওয়া অসম্ভব না এবং হলে তখন লাগেজ নিয়ে ম্যানুয়ালি কাজ করতে হয়। যারা কাজ করবে, তাদের সুবিধার জন্য আপনি লাগেজে আপনার নাম, পাসপোর্ট নাম্বার ও যোগাযোগ তথ্য, যেমন ইমেইল ঠিকানা বা ফোন নম্বর দিয়ে রাখতে পারেন। তাহলে আপনার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।
লাগেজ বাড়তি চেকিং থেকে বাঁচবার জন্য আপনি কিছু গাইডলাইন মেনে চলতে পারেন। পাওয়ার ব্যাংক, মোবাইল, ক্যামেরা ইত্যাদি জিনিস লাগেজে না দিয়ে হাত ব্যাগে রাখুন। ধারাল কিছু, তা হোক না নেইলকাটার কিংবা ছুড়ি চাকু কিংবা ম্যাকগাইভার নাইফ বা সুইস আর্মি নাইফ, সেগুলো দিয়ে দিন লাগেজে। স্ক্যানিং করার আগে আশে পাশেই লেখা থাকে কোন ব্যাগে কি রাখা যাবে। সেটা দেখে নিন, দরকারে সেখানে থাকা সিকিউরিটি অফিসারের সহযোগিতা নিন।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: বেশ কিছুদিন আগে কলকাতা থেকে দিল্লী যেতে হয়েছিল ফ্লাইটে। ভারতের গো এয়ারের যে নিজস্ব স্ক্যানিং মেশিন আছে, তারা জানাল যে, পাওয়ার-ব্যাংক ও মোবাইল লাগেজে না দিতে এবং কোন ধরণের ধারাল জিনিস থাকলে সেটা হাতব্যাগে না নিয়ে লাগেজে দিয়ে দিতে। তাদের পরামর্শমত জিনিসপত্র ঠিক করে দেবার ফলে চেকিং এর সময় কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু আশে পাশে বেশ কিছু মানুষকে দেখা গেছে আবার ব্যাগ খুলে জিনিসপত্র সেখানে বসেই ঠিক ঠাক করতে এবং আবারও লাগেজ স্ক্যানিং করে সীল করিয়ে নিয়ে আসতে।
একেক এয়ারপোর্টে এই নিয়মের কিছু কম বেশি হয়। তাই বোর্ডিং পাশ নেবার সময়ই সবকিছু খোঁজ করে নিন এবং সেভাবে নিজের লাগেজ ঠিক করে নিন। আর যদি বিমান থেকে নামার পরে লাগেজ খুঁজেই না পান, তাহলে এয়ারপোর্টের অভিযোগ কেন্দ্রটি খুঁজে নিয়ে সেখানে জানান। আপনাকে একটা ফর্ম ফিলআপ করতে দেয়া হবে, সেটা পূরণ করে নিন।
আপনার লাগেজ নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে ফিরিয়ে দিতে না পারলে সেই বিমান কতৃপক্ষ আপনাকে ক্ষতিপুরণ দিতে বাধ্য থাকবে। আবার নির্দিষ্ট সময়ের পরে ফিরিয়ে দিতে পারলেও যেহেতু দেরি হয়েছে, তাই আপনি তারপরেও ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।

খবর প্রিয়ডটকম

Aviation News

সম্পাদক: তারেক এম হাসান
যোগাযোগ: জোবায়ের অভি, ঢাকা, ফোন +৮৮ ০১৬৮৪৯৬৭৫০৪
ই-মেইল: jobayerovi@gmail.com
যুক্তরাস্ট্র অফিস
ইউএসএ সম্পাদক: মো. শহীদুল ইসলাম
৭১-২০, ৩৫ অ্যাভিনিউ, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক ১১৩৭২
মোবাইল: +১ (২১২) ২০৩-৯০১৩, +১ (২১২) ৪৭০-২৩০৩
ইমেইল: dutimoy@gmail.com
এডিটর ইন চিফ : মুজিবুর আর মাসুদ ইমেইল: muzibny@gmail.com
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এভিয়েশন নিউজবিডি.কম ২০১৪-২০১৬