অসাধারণ এক বৈমানিক এ্যামেলিয়া এরহার্ট

এই লেখাটি 171 বার পঠিত

11-352339614এ্যামেলিয়া এরহার্ট (১৮৯৭-১৯৩৭), আমেরিকান এভিয়েশনের অগ্রদুত বলা হয় তাকে। কেউ কেউ তাকে কুইন অব দ্য এয়ার নামেও ডাকেন। আমেরিকা ও বিশ্ব জুড়ে একা একা বিমান চালিয়ে তিনি নজর কেড়েছেন সবার। একাই একটি বিমান নিয়ে আমেরিকা থেকে আটলান্টিক পার হয়ে ইউরোপে গিয়েছিলেন তিনিই। ১৯৩২ সালের ২০ শে মে, ছোট্ট একটা সিঙ্গেল ইঞ্জিন বিমান নিয়ে তিনি আমেরিকা থেকে রওনা দেন, উদ্দেশ্য ছিল প্যারিসে গিয়ে নামবেন। ১৫ ঘণ্টা পরে বিভিন্ন ঘটনা ও দুর্ঘটনার পরে তিনি আয়ারল্যান্ডে নামতে বাধ্য হন। যদিও তিনি প্যারিসে নামতে পারেন নি, তারপরেও ইউরোপে যেতে পেরেছিলেন, এই কারণেই তিনি পেয়ে যান বিশাল খ্যাতি।

তার এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে মেয়েদেরকে বিমান চালনায় আগ্রহী করে তোলে। এই ঘটনার পরেও তিনি বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে একা বিভিন্ন রকম অভিযান পরিচালনা করেন। ১৯৩৭ সালে পুরো দুনিয়া বিমানে করে ঘুরে আসার এক দুঃসাহসিক পরিকল্পনা করেন তিনি। যাত্রা শুরু করেন তিনি এবং প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে যাবার সময় নিখোঁজ হন। তার হারিয়ে যাওয়া নিয়ে এখনও চলে নানা রকম জল্পনা কল্পনা।

ছোট বেলা থেকেই তিনি বিমানের প্রতি আসক্ত ছিলেন। তার বাবা একবার দশ ডলারের বিনিময়ে এক বিমানে কো-পাইলটের সিটে বসিয়ে ওড়াবার ব্যবস্থা করেছিলেন। ত্রিশ মিনিটের এই রাইডে তার জীবনের লক্ষ স্থির হয়ে যায়। এর কিছুদিন পরে একটু বড় হবার পরে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে, তিনি টাকা জমান ও বিমান প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। বিমান লাইসেন্স পাবার কয়েক মাস পরেই তিনি তার প্রথম রেকর্ড করতে সমর্থ হন, সেটা হল একটা ছোট্ট বিমান নিয়ে ১৪০০০ ফুট উচ্চতায় চলে যাওয়া। যেটা তার আগে আর কোন মেয়ে বৈমানিক করতে সক্ষম হননি।

তার হারিয়ে যাওয়া বিষয়টা নিয়ে এখনও নানা রকম রহস্য তৈরি করছে। প্যাসিফিকের বেশ কিছু দ্বীপ দাবি করে যে তারা এ্যামেলিয়ার বিমানের ধংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছে। কেউ কেউ তো নিজেদের দ্বীপের নামই পরিবর্তন করে ফেলেছে। তবে উপযুক্ত প্রমাণ কেউই দিতে পারেনি।

তবে বিমানকে সবার মাঝে জনপ্রিয় করতে এবং মেয়েদের বিমানচালনায় এগিয়ে আসতে উৎসাহী করতে তার রয়েছে অসাধারণ অবদান।
সূত্রঃ প্রিয়ডটকম

Aviation News