বিমান ছিনতাই করে হামলাঃ কষ্ট এখনো তাড়া করে স্বজনহারা মানুষদের

এই লেখাটি 183 বার পঠিত

history-photo2যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা ৯/১১ বা নাইন ইলেভেনের ১৬তম বর্ষপূর্তি আজ। ওই হামলার পর বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াই জোরালো হয়েছে। গত ১৬ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হয়নি। ওই হামলার কথিত মূল হোতা আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন মার্কিন সেনাদের হাতে নিহত হয়েছেন। কিন্তু ওই হামলায় স্বজনহারানো মানুষরা এখনো কষ্টের মধ্যে দিয়ে নিহতদের স্মরণ করছে।

পিটার আল্ডারম্যানের বয়স তখন ২৫ বছর। টগবগে যুবক পিটার ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারের ১০৭ তলায় একটি কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করার জন্য গিয়েছিলেন। আর ফিরে আসেননি। ২ হাজার ৯৯৬ জনের সঙ্গে পিটারও প্রাণ হারান ভয়াবহ, বর্বর ওই জঙ্গি হামলায়। উগ্রবাদী জঙ্গিরা সেদিন চারটি বিমান ছিনতাই করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রে। নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ার খ্যাত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ছাড়াও তারা হামলা চালায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনে। আরেকটি বিমান ওয়াশিংটনে যাওয়ার পথে বিধ্বস্ত হয় পেনসিলভেনিয়ার শাঙ্কসভিলের বাইরে।

পিটারের বাবা-মা জানেন তাদের জন্য ওই হামলা কতটা কষ্টের ছিলো। এখনো ছেলের মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেননি তারা। কারণ ওই হামলার কিছুক্ষণ আগেই বাবা স্টিভ আল্ডারম্যান ও মা লিজের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ওই কনফারেন্সে যান পিটার। ছেলেকে যে সেদিন শেষ বিদায় দিয়েছিলেন সেটা পরেই বুঝতে পারেন আল্ডারম্যান দম্পতি। এক সাক্ষাত্কারে সিএনএনকে তারা বলেছিলেন, স্বজনহারা পরিবার ছাড়া ওই জঙ্গি হামলার ভয়াবহতা এখনো অনেকের জন্য উপলব্ধি করা কঠিন।

বেভিলের জেমস জিয়াকনি যখন তার বড় ভাইকে কাছ থেকে অনুভব করতে চান তখন তিনি নিউ ইয়র্কের ৯/১১ এর স্মৃতিসৌধের ব্রোঞ্জ প্যানেল এন-৩৬ এর কাছে যান। কারণ সেখানে খোদাই করে লেখা আছে তার ভাই জোসেফ জিয়াকনি’র নাম।

পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের নাগরিক ওই হামলায় প্রাণ হারায়। তাই ওই হামলার দুঃখ আর স্মৃতি যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মনে শুধু নেই বরং ছড়িয়ে আছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্বজনহারাদের মনেও। সেদিন হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হলেও এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬৪১ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

হামলার ১৬ বছর হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। বিমান ছিনতাইকারীরা সেদিনের হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলো। আর অন্যতম সন্দেহভাজন আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন ২০১১ সালের মে মাসে পাকিস্তানে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়। কিন্তু কারা এই জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করেছিলো, অর্থ ও সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করেছিলো তাদের এখনো বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়নি। তবে তহবিল দিয়ে সহায়তার অভিযোগে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। যা এখনো বিচারাধীন।

Aviation News