বিমান চলাচলের গোপনচুক্তিতে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড

Bangladesh-Biman-LF-20170812220036বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বিমান চলাচল সংক্রান্ত গোপনীয় সম্মতি জ্ঞাপন চুক্তি (সিএমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল পর্যালোচনা বৈঠকে এই চুক্তি হয়। এর ফলে বিমান চলাচল খাতে বিশেষ সুবিধা পাবে। বুধবার (৩০ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সিভিল এভিয়েশন অথরিটি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৫ আগস্ট থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বিমান চলাচল চুক্তি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় গোপনীয় সম্মতি জ্ঞাপন চুক্তি (সিএমওইউ) সাক্ষরিত হয়।

পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন সিভিল এভিয়েশন অথরিটির সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর এম মোস্তাফিজুর রহমান। থাইল্যান্ড দলের নেতৃত্ব দেন থাইল্যান্ডের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ডাইরেক্টর জেনারেল চুলা সুকমানোপ। সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশিরা বর্তমানে থাই ভিসা পেতে বিলম্বসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সন্মুখিন হচ্ছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে থাই ভিসা ইস্যু প্রক্রিয়া সহজতর করার অনুরোধ জানালে থাই ডেলিগেশন যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করবেন বলে আশ্বাস দেন।

সাক্ষরিত সিএমওইউ অনুযায়ী থাইল্যান্ড বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের ফ্লাইট ক্রু, ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার, এয়ারক্রাফ্ট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারস এর লাইসেন্স স্বীকৃতি দেবে। ফলে আইসিএও স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ইস্যুকৃত অন্যান্য সার্টিফিকেটও প্রদান করবে। বাংলাদেশিরা থাইল্যান্ডের এভিয়েশন ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ পাবে।

স্বাক্ষরিত সিএমওইউ অনুযায়ী, থাইল্যান্ড বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার আইসিএও এর ট্রেনিং এয়ার এর অ্যাসোসিয়েট সদস্য থেকে পূর্ণ সদস্য হওয়ার বিষয়ে সব ধরনের সহোযোগিতা করবে। এছাড়াও দুই ট্রেনিং সেন্টারের মধ্যে কোর্স কারিকুলাম এবং প্রশিক্ষক আদান প্রদানের বিষয়ে একটি সিএমওইউ সাক্ষরের বিষয়ে থাই কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দেয়। পারফরমেন্স বেসড নেভিগিয়েশন বাস্তবায়নে থাই কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে কারিগরি সহায়তা দেবে। এছাড়া থাইল্যান্ড হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দররের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট আপগ্রেডেশন প্রজেক্ট বাস্তবায়নকালে মানোন্নয়ন বিষয়ক কারিগরী সহায়তা প্রদান করবে।

সভায় দুই দেশের মধ্যকার চলমান অতিরিক্ত ৭টি ফ্রিকোয়েন্সি নিয়মিতকরণ করা হয়। ফলে এখন থেকে দুই দেশের ডেজিগনেটেট বিমানসংস্থাসমুহ বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সপ্তাহে ২৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়াও ৫ম অবমুক্ত অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে দুই দেশের বিমান সংসস্থাসমূহ প্রতি সেক্টরে সপ্তাহে দুটির বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে না।

উল্লেখ্য যে, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সর্বপ্রথম দ্বি-পাক্ষিক বিমান চলাচল চুক্তি সাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৮, ২০০৩, ২০০৮ ও ২০১৭ সালে গোপনীয় সম্মতি জ্ঞাপন চুক্তি (সিএমওইউ) সাক্ষরের মাধ্যমে বিমান চলাচল চুক্তি আধুনিকায়ন করা হয়।

সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি এন্ড রেগুলেশন্স) উইং কমান্ডার চৌধুরী মো. জিয়াউল কবীর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ইসরাত চৌধুরী, থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর প্রিতি রহমান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (আইঅ্যান্ডআইর) এস এম লুৎফুল কবীর, জুনিয়র এয়ার ট্রান্সপোর্ট কনসালটেন্ট এস এম গোলাম রাব্বানীসহ মোট ৬ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

Aviation News

সম্পাদক: তারেক এম হাসান
যোগাযোগ: জোবায়ের অভি, ঢাকা, ফোন +৮৮ ০১৬৮৪৯৬৭৫০৪
ই-মেইল: jobayerovi@gmail.com
যুক্তরাস্ট্র অফিস
ইউএসএ সম্পাদক: মো. শহীদুল ইসলাম
৭১-২০, ৩৫ অ্যাভিনিউ, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক ১১৩৭২
মোবাইল: +১ (২১২) ২০৩-৯০১৩, +১ (২১২) ৪৭০-২৩০৩
ইমেইল: dutimoy@gmail.com
এডিটর ইন চিফ : মুজিবুর আর মাসুদ ইমেইল: muzibny@gmail.com
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এভিয়েশন নিউজবিডি.কম ২০১৪-২০১৬