নীতিমালা করা হচ্ছে বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবসার

এই লেখাটি 810 বার পঠিত

ground handlingচার দশকেও দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিসের নীতিমালা হয়নি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রী পরিবহন ছাড়াও দেশের বিমানবন্দরগুলোতে এ সেবা দিয়ে যাচ্ছে। যদিও বিমানের সেবার মান নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ পরিস্থিতিতে একটি খসড়া নীতিমালা করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এরপর তা পর্যালোচনা করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রস্তাবিত মূলধন, ফি ও চার্জ নির্ধারণের জন্য সম্প্রতি অর্থ বিভাগে মতামত চেয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো প্রস্তাবনায় মূলধনের ব্যাপারে বলা হয়েছে, আগ্রহী সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে। ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে তা ২০০ কোটি এবং ‘বি’ ক্যাটাগরির জন্য ৫০ কোটি টাকা। আর ‘সি’ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, তা হবে এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেটে বর্ণিত শর্ত মোতাবেক। ফি ও চার্জের বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘এ’ ক্যাটাগরিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু ফি ১০ কোটি, আর নবায়ন ফি ৫ কোটি টাকা। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু ফি ধরা হয়েছে ৪ কোটি এবং নবায়ন ফি দেড় কোটি টাকা। অন্যান্য বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু ফি ৩০ লাখ, নবায়ন ফি ১৫ লাখ টাকা।

‘বি’ ক্যাটাগরি অপারেটরের জন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু ফি ৫ কোটি, নবায়ন ফি আড়াই কোটি টাকা। শাহ আমানত বিমানবন্দর, ওসমানী বিমানবন্দর এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু ফি ২ কোটি এবং ১ কোটি টাকা নবায়ন ফি। বাকি বিমানবন্দরে লাইসেন্স ইস্যু ফি ১৫ লাখ এবং নবায়ন ফি ৫ লাখ টাকা। তবে সব ক্যাটাগরিতেই রয়্যালটি চার্জ প্রতিমাসে রাজস্ব আয়ের ৫ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, এর আগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৭-এর আওতায় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রবিধানমালা-২০১৭ প্রস্তুতের জন্য একটি কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়। গত ২ জুলাই অনুষ্ঠিত ওই কমিটির সভায় সংশোধিত প্রবিধানমালা এবং এয়ার নেভিগেশন অর্ডারের (এএনও) খসড়া দাখিল করা হয়।

বিমান মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, লাইসেন্স পাওয়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মানের অডিট করবে প্রতিবছর সিভিল এভিয়েশন অথরিটি। তিন বছরের জন্য অপারেটরকে লাইসেন্স দেওয়া হবে। তিন ধরনের লাইসেন্স দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে খসড়া প্রস্তাবে। সে অনুযায়ী, ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স পেলে দেশের সব বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সব এয়ারলাইন্সকে সেবা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠান সেবা দিতে পারবে কেবল দেশি এয়ারলাইন্সকে। আর ‘সি’ ক্যাটাগরিতে দেশি এয়ারলাইন্সগুলো নিজস্ব ফ্লাইটের গ্রাউন্ড সার্ভিস করতে পারবে, যে বিধান এখনো বিদ্যমান।

সূত্র জানায়, ‘এ’ ক্যাটাগরির জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনা থাকলে ৫১ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের। এর বাইরে যে কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই বছর গ্রাউন্ড সার্ভিসের অভিজ্ঞতা থাকা প্রতিষ্ঠান এই ক্যাটাগরির জন্য লাইসেন্স চাইতে পারবে। তবে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানের দুটি ভিন্ন দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দিনে কমপক্ষে ৩০টি উড়োজাহাজের গ্রাউন্ড সার্ভিসের ন্যূনতম পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ‘বি’ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রেও তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দিনে কমপক্ষে ২০টি উড়োজাহাজের গ্রাউন্ড সার্ভিসের দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

নীতিমালা প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল হাসনাত মো. জিয়াউল হক বলেন, এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে। আশা করি চলতি মাসের মধ্যেই পাস হতে পারে।

সূত্রঃ আমাদের সময়

Aviation News