বিতর্ক আর আলোচনার নায়িকা নুসরাত ফারিয়া

এই লেখাটি 782 বার পঠিত

nusrat-faria_49057_1496901836পুরোনাম নুসরাত ফারিয়া মাজহার হলেও দর্শকদের কাছে নুসরাত ফারিয়া নামেই পরিচিত। কন্যা রাশির জাতিকা এ নায়িকা তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি মেজ। ছোটবেলা থেকেই দারুণ চঞ্চলা এ মেয়েটির শৈশব কেটেছে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে। ২৫ জনের যৌথ পরিবারে বড় হয়েছেন ফারিয়া। এখনও সেখানেই বসবাস করছেন এ নায়িকা।

শোবিজের ভাগ্য সহায়ক ফারিয়ার। তাই খুব স্বল্পসময়ে লাইমলাইটে উঠে আসেন তিনি। আর চলচ্চিত্রে পা দিয়েই যেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আলোচিত-সমালোচিত নায়িকা নুসরাত ফারিয়া। এর বিষয়গুলোও দারুণ।

ইমরান হাশমির বিপরীতে ছবি, চুল কালার করতে বিদেশে, নিয়মিত শরীর চর্চার ভিডিও সোশ্যাল মাধ্যমে আপলোড, কলকাতার সুপারস্টার জিতের বিপরীতে নায়িকা ইত্যাদি। শুরুর দিকে সবকিছু পজেটিভ আলোচনাই ছিল। ফলে বিষয়টি সবার কাছে উপভোগ্যই মনে হয়েছে।

কিন্তু এবার বাধলো বিপত্তি! আলোচিত হতে গিয়ে সবার কাছে সমালোচিতই হলেন তিনি। গত বছর জিতের সঙ্গে ফারিয়ার ‘বাদশা : দ্য ডন’ ছবিটি মুক্তি পায়। আসন্ন ঈদেও জিতের বিপরীতে ‘বস টু’ ছবি মুক্তি পাবে। যৌথ প্রযোজনার এ ছবিটিতে অনেক চমক থাকবে বলে আগে থেকেই বলে আসছিল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।

ছবির ট্রেলারে জিতের বাহাদুরিভাব সে কথারই ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু এর কিছুদিন পরই প্রতীক্ষিত ‘বস টু’ সিনেমার একটি গান নিয়ে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়লেন নুসরাত ফারিয়া। এটি হচ্ছে ‘আল্লাহ মেহেরবান’ শিরোনামে একটি আইটেম গান। এতে ফারিয়া পারফর্ম করেছেন কলকাতার নায়ক জিৎ-এর সঙ্গে।

গানটির কথার মধ্যে ‘আল্লাহ’ শব্দটি থাকলেও এর দৃশ্যায়নে খোলামেলা পোশাক আর আবেদনময়ী নাচের কারণেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফারিয়া। গানটি মুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অন্তর্জাল দুনিয়ায় উঠে বিতর্কের ঝড়। এতে ‘আল্লাহ মেহেরবান, মওলা মেহেরবান’-এর মতো কথা অথবা ভাবধারার সঙ্গে ফারিয়ার খোলামেলা উপস্থিতি দারুণ সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছেন বেশিরভাগ সিনেমাপ্রেমী ও সমালোচক।

গানটিতে জিৎ-এর কালো কাবলি-পাগড়ি ড্রেসআপ এবং উপস্থিতি একেবারেই স্বাভাবিক বলে মনে করছে সমালোচকরা। কিন্তু নুসরাত ফারিয়ার খোলামেলা উপস্থিতি কতটা প্রাসঙ্গিক আর কতটা উদ্দেশ্যমূলক- সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের ভক্ত-শ্রোতারা। ইউটিউবে গানটির লাইকের চেয়ে অপছন্দের সংখ্যাটাই বেশি।

অনেকে নেতিবাচক নানা মন্তব্যও লিখছেন গানটির কমেন্ট অপশনে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় নুসরাত ফারিয়ার কাছে।

তিনি বলেন, ‘সমালোচিত মানেই আলোচিত। আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে সমালোচনা থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক।’

গানটির মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া হয়েছে বলে আইনি নোটিশও পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কী বলবেন আপনি?

উত্তরে ফারিয়া বলেন, ‘আইনি বিষয়ে নিয়ে কোনো কিছু বলতে চাই না। যদি এরকম কিছু হয় তাহলে নিশ্চয়ই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও আইনি প্রক্রিয়ায় এগোবে।’ গানটি নিয়ে কী আপনার কিছুই বলার নেই? প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে নুসরাত বলেন, ‘আমি কি বলব। গান কি আমার ইচ্ছেতে হয়! গানের পিকচারাইজেশন তো আমি করিনি। আমি পারফর্ম করেছি মাত্র। আর গানটাতো রমজানের দিনে ইউটিউবে দেয়া হয়নি। রমজানের দুদিন আগে আপলোড করা হয়েছে।’

কিন্তু অনেকেই তো বলছেন গানটির ড্রেসআপ আপনি নিজেই করেছেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি গানটির সুর আর গল্পের আয়োজনের ওপর ভিত্তি করে পোশাকের ডিজাইন করিয়েছি। গানের কথা তো আর আমি লিখিনি। আমার কাজ পারফর্ম করা। বাকিটা দেখবেন নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।’

তবে গানটির জন্য দর্শক শ্রোতাদের এমন প্রতিক্রিয়া আসবে সেটা আশা করেননি ফারিয়া। কারণ সবশেষে দর্শকরাই তো তাদের লক্ষ্মী। তাদের জন্যই এতো আয়োজন। তারা যেটা চাইবেন না সেটা হবে না। দর্শকদের অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে ইতিমধ্যে গানটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। এখন কেবল অপেক্ষা ঈদ পর্যন্ত। ঈদে বস টু কতটা গ্রহণ করে দর্শকরা।

Aviation News