যে কারণে কাতারের সঙ্গে ৬ দেশের সম্পর্কচ্ছেদ

এই লেখাটি 472 বার পঠিত

sauআঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরি ও সন্ত্রাসবাদ উসকে দেওয়ার অভিযোগে ৫ জুন সোমবার কাতারের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লিবিয়া ও ইয়েমেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও পর তাদের সাথে ইয়েমেন ও লিবিয়াও যোগ দেয়। দেশগুলোর মূল অভিযোগ, সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল কায়েদাকে মদদ দিচ্ছে কাতার। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটি। এ সিদ্ধান্তকে ‘অযাচিত’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি কাতারের।

এ সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা হঠাৎ এলেও, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কাতারের সম্পর্কের টানাপড়েনের শুরু কয়েক বছর আগে, যা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে গত ২৫ মে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আল জাজিরা নেটওয়ার্কসহ কাতারের সংবাদ বিষয়ক সকল ওয়েবসাইট ব্লক করে দেয় এই চারটি দেশ।

বিতর্কিত ঐ ঘটনায় দেখা যায়, কাতারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে আমির সৌদি আরবের সমালোচনা করেছেন। ঐ প্রতিবেদনে আমিরকে উদ্ধৃত করে আরও বলা হয়, তিনি ইরানের প্রতি আরব দেশগুলোর বিরোধিতার সমালোচনা করছেন। দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব সফর করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যদিও পরে কাতার তখন দাবি করে পুরো ঘটনাটি ভুয়া। কারণ রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা হ্যাক হয়েছিল এবং ঐ খবর সাইটটি হ্যাক হবার পর প্রকাশিত হয়েছিল বলেও দাবি করে কাতার।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, তবে মূলত দুটি বিষয় কাজ করেছে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে। এক, জঙ্গি সংগঠনসমূহের সঙ্গে কাতারের সংযোগ আর দুই, আঞ্চলিক রাজনীতিতে সৌদি আরবের প্রতিপক্ষ ইরানের ভূমিকা।

আইএস গোষ্ঠীকে ঠেকানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটে কাতার যোগ দিয়েছে ঠিকই। তবে একইসঙ্গে ইরাকের শিয়া নেতারা অভিযোগ করে আসছিলেন যে কাতার আইএসকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। যদিও এ অভিযোগও অস্বীকার করে আসছে কাতার।

আবার সিরিয়ার কট্টর ইসলামী গ্রুপগুলোকে অর্থ এবং অস্ত্র দিয়ে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে। আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট নুসরা ফ্রন্টের সঙ্গে কাতারের সংযোগের অভিযোগও রয়েছে।

এ দিকে দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিয়াদ সফরের সময় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য ইরানকে দায়ী করেন।

Aviation News