ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিএসবির পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন প্যাকেজ!

passport-520170519114408জাতীয় পরিচয়পত্রের পর দেশের নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পাসপোর্ট। মূলত বহির্বিশ্বে গমনের জন্য পাসপোর্ট তৈরি করা হলেও এখন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেড়েছে পাসপোর্টের ব্যবহার।

এ পাসপোর্ট তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় পুলিশ ভেরিফিকেশন। পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলেই মেলে পাসপোর্ট। পুলিশের এ ভেরিফিকেশনের জন্য ক্ষেত্র বিশেষে গ্রাহকদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

দেশের অন্যান্য জেলার মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতেও পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। তবে যারা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) ভেরিফিকেশন প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত তারা অবশ্য ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট হাতে পেয়ে যান। ভেরিফিকেশনের জন্য দালালদের সঙ্গে ডিএসবির ‘অঘোষিত’ এ চুক্তিকে সাংকেতিক ভাষায় প্যাকেজ বলা হয়ে থাকে। যারা ডিএসবির এই ভেরিফিকেশন প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত নয় তাদের পাসপোর্ট আবেদন ফরম ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোনো নাগরিক যদি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন তাহলে তার বেশ কিছু বিষয় তদন্ত করে দেখা হয়। আবেদনকারীর ফরমে দেয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই, দেশদ্রোহীতা ও ফৌজদারি মামলাসহ অন্যান্য বিষয়ে করা পুলিশের এ তদন্ত ভেরিফিকেশন হিসেবেই বেশি পরিচিত।

তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আবেদনকারীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভেরিফিকেশন না করেই পুলিশ কাগজ পাঠিয়ে দেয় পাসপোর্ট অফিসে। এর ফলে অনেক সময় অপরাধীরাও পাসপোর্ট পেয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের বিরুদ্ধেও এমন ভেরিফিকেশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। মূলত পাসপোর্ট দালালদের মাধ্যমে চলছে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) বাণিজ্য। এ বাণিজ্যেল সঙ্গে ডিএসবির দুই কমকর্তা জড়িত রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াইশো পাসপোর্ট করা হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগ পাসপোর্টই হয় দালালদের মাধ্যমে। প্রতিটি যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্টের (এমআরপি) জন্য সরকার নির্ধারিত ফি`র বিপরীতে গ্রাহকদের কাছ থেকে দ্বিগুন টাকা নিয়ে থাকেন দালালরা। সাধারণ সময়ের একটি পাসপোর্ট করার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ৩ হাজার ৪৫০ টাকার বিপরীতে দালালরা ৬ হাজার এবং জরুরি হলে নির্ধারিত ফি ৬ হাজার ৯০০ টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন।

এর মধ্যে ফিঙ্গার প্রিন্ট ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য ১ হাজার করে ২ হাজার টাকা খরচ করতে হয় দালালদের। ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্য পাসপোর্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভেরিফিকেশনের জন্য ডিএসবির অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে দালালদের চুক্তি রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে বেশ কিছু ‘কথিত’ মিনি পাসপোর্ট অফিসের দালালদের মাধ্যমে প্রতিদিন অন্তত একশ পাসপোর্ট আবেদন ভেরিফিকেশন হয় ডিএসবির প্যাকেজের আওতায়। যারা প্যাকেজের আওতাভুক্ত নয় তাদের আবেদন ভেরিফিকেশনের জন্য ডিএসবি থেকে পাঠিয়ে দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে। পরবর্তীতে থানা পুলিশও ভেরিফিকেশন বাবদ আবেদনকারীর কাছ থেকে টাকা আদায় করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘কথিত’ মিনি পাসপোর্ট অফিসের এক দালাল বলেন, ডিএসবিকে প্রতি পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য ১ হাজার টাকা দিতে হয় আমাদের। টাকা না দিলে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া আটকে থাকে। এর ফলে গ্রাহকদের পাসপোর্ট পেতেও দেরি হয়।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ডিএসবির বিরুদ্ধে কারও কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে সেটি তদন্ত করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Aviation News

সম্পাদক: তারেক এম হাসান
যোগাযোগ: জোবায়ের অভি, ঢাকা, ফোন +৮৮ ০১৬৮৪৯৬৭৫০৪
ই-মেইল: jobayerovi@gmail.com
যুক্তরাস্ট্র অফিস
ইউএসএ সম্পাদক: মো. শহীদুল ইসলাম
৭১-২০, ৩৫ অ্যাভিনিউ, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক ১১৩৭২
মোবাইল: +১ (২১২) ২০৩-৯০১৩, +১ (২১২) ৪৭০-২৩০৩
ইমেইল: dutimoy@gmail.com
এডিটর ইন চিফ : মুজিবুর আর মাসুদ ইমেইল: muzibny@gmail.com
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত এভিয়েশন নিউজবিডি.কম ২০১৪-২০১৬