একনেকে ২৭২৩ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

এই লেখাটি 234 বার পঠিত

ecnek-220170516152416জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আটটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে দুই হাজার ৭২৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেয়া হয়।

সভা শেষে প্রকল্পগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, সভায় আটটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে এক হাজার ৯২৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় হবে ৭৯৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

সভায় ‘তথ্য আপা : ডিজিটাল সংযোগের জন্য টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল সংযোগের জন্য টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন করে ১৬ লাখ গ্রাহককে টেলিফোন সংযোগ দেয়া হবে।

এজন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) ও মাল্টিমিডিয়া সাবস্টেশন (এইএমএস) স্থাপনসহ বিদ্যমান এক্সচেঞ্চগুলোর সংস্কার করা হবে। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এর কাজ শেষ করবে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি (বিটিসিএল)।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয়ের মধ্যে চীন সরকার ঋণ হিসেবে দেবে এক হাজার ৮১৭ কোটি ২৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৭৫৬ কোটি ১১ লাখ টাকা।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণে ৪৩৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে রাজশাহী জোনের দুটি আঞ্চলিক মহাসড়কের ৭৪ কিলোমিটার সড়কের মানোন্নয়ন ও প্রশস্ত করা হবে।

সড়ক-মহাসড়ক বিভাগের আওতায় সারাদেশে ২০৯টি আঞ্চলিক মহাসড়ক রয়েছে। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অধীন রাজশাহী জোনে ১৬টি আঞ্চলিক সড়ককে মহাসড়কে উন্নীত করা হবে। এর অংশ হিসেবে ৭৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক মহাসড়কে উন্নীত করা হচ্ছে, এতে ব্যয় হবে ৪৩৮ কোটি টাকা।

প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হলে বগুড়া থেকে নওহাটা-মহাদেবপুর-পত্নীতলা-ধামুইরহাট হয়ে জয়পুরহাট পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং রাজশাহীর নওহাটা হয়ে চৌমাসিয়া পর্যটন্ত ৫৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত হবে। অনুমোদন পেলে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর চলতি বছর থেকে ২০১৯ সাল নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ শেষ করবে।

একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- ‘কনভার্সন অব ১৫০ মেগাওয়াট : সিলেট গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্ল্যান্ট টু ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট’ শীর্ষক প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা ধরা হয়েছে ৭৯৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা; ‘তথ্য আপা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায় (দ্বিতীয় পর্যায়), ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা; দেশের পার্বত্য অঞ্চলের শ্রমিকদের কল্যাণ সুবিধা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় হবে ৬৫ কোটি টাকা; নেত্রকোনা – বিসিউড়া-ঈশ্বরগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় হবে ২৬১ কোটি টাকা; নাঙ্গলবন্দ-কাইকারটেক-নবীগঞ্জ জেলা মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ হতে মিনার বাড়ি পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণে ১২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা; বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইস্টিটিটিউটের (বারটান) অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্প, ব্যয় হবে ৩৩২ কোটি ১২ লাখ টাকা; কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন , সংরক্ষণ ও বিতরণ (তৃতীয় পযায়) প্রকল্প, ব্যয় হবে ১৬৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা।’

পরিকল্পনা মন্ত্রীর ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব তারিক-উল-ইসলাম, সাধারণ অর্থনৈতিক বিভাগের সদস্য ড. শামসুল ইসলাম প্রমুখ।

Aviation News