শাহজালাল বিমানবন্দরে জব্দ ১৩২১ ড্রোন নিয়ে বেকায়দায় কাস্টমস

এই লেখাটি 502 বার পঠিত
drone

শাহজালাল বিমানবন্দরে জব্দ ১৩২১ ড্রোন নিয়ে বেকায়দায় কাস্টমস।

দেশে ড্রোন দিয়ে নাটক, বিজ্ঞাপনসহ নানা কাজে চিত্রধারণে ড্রোনের চাহিদা বাড়ছে। চাহিদা বাড়লেও ড্রোন আমদানি বা ব্যবহারের অনুমতি নেই। এরপরও নামে-বেনামে আসছে ড্রোন। ঢাকা কাস্টম হাউজ বিভিন্ন সময় এক হাজার ৩২১টি ড্রোন আটক করেছে। এসব ড্রোন কাস্টমস গুদামে সংরক্ষণ করা হলেও কোনো দাবিদার পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিনের এত বিপুল পরিমাণ ড্রোন নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে ঢাকা কাস্টম হাউজ। সেজন্য এসব ড্রোন নিলাম বা ধ্বংস করার বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা চেয়েছে কাস্টম হাউজ।
সম্প্রতি ঢাকা কাস্টম হাউজ কমিশনার আবদুল মান্নান শিকদার এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
চিঠিতে বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিভিন্ন সময় মিথ্যা ঘোষণা ও যাত্রী কর্তৃক আনীত এক হাজার ৩২১টি ড্রোন (এক হাজার ৩০৬টি ক্যামেরা ছাড়া ও ১৫টি ক্যামেরাযুক্ত) আটকের পর মূল্যবান গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন এত বিপুল পরিমাণ ড্রোন গুদামে সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষামূলকভাবে ড্রোন উড়িয়েছিলেন। ৩০ জানুয়ারি আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদফরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ‘ড্রোন বা রিমোট কন্ট্রোলে চালিত বিমান বা হেলিকপ্টার উড্ডয়ন সক্ষমতা নিরীক্ষণের লক্ষ্যে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই পরীক্ষামূলকভাবে উড্ডয়ন করা হচ্ছে, যা উড্ডয়ন নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিস্বরূপ। নির্ধারিত আকাশপথগুলো ছাড়া অন্যান্য স্থানে যেকোনো ধরনের বিমান (বেসামরিক, সামরিক ড্রোন, রিমোট কন্ট্রোলে চালিত হালকা বিমান বা হেলিকপ্টার) উড্ডয়নের জন্য বিমানবাহিনী কর্তৃক মতামত ও পূর্ব-অনুমোদন প্রয়োজন।’
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এনবিআর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমদানি করা রিমোট কন্ট্রোলচালিত ড্রোন বা খেলনা উড়োজাহাজের খালাস স্থগিত রাখতে কাস্টম হাউজকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিনা অনুমতিতে আকাশে যেকোনো ধরনের মনুষ্যবিহীন যান ওড়ানো নিষিদ্ধ করে।
চিঠিতে বলা হয়, আমদানি নিষিদ্ধ, শর্তসাপেক্ষে আমদানিযোগ্য ও অবাধে আমদানিযোগ্য অখালাসকৃত আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্য ধ্বংস বা নিলামের মাধ্যমে বিক্রির বিষয়ে বিদ্যমান বিধান পর্যালোচনায় দেখা যায়, আমদানি করা রিমোট কন্ট্রোল-চালিত ড্রোন বা খেলনা উড়োজাহাজ নিষ্পত্তির এনবিআরের আদেশে সরাসরি কোনো নির্দেশনা নেই। তবে উল্লেখ রয়েছে, নিলাম বা অন্য কোনো উপায়ে নিষ্পত্তি সরকারের গঠিত কমিটির মাধ্যমে ধ্বংস বা বিনষ্ট করতে হবে। আটক এসব ড্রোন ধ্বংসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে এনবিআরের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
ঢাকা কাস্টম হাউজ সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের কাছ থেকে শক্তিশালী একটি ড্রোন আটক করা হয়। মার্ক রুমাম কুটরোবস্কি নামে ২২ বছর বয়সি মার্ক ড্রোনটিসহ বাংলাদেশে আসেন। ব্যবহার শেষে দেশে ফেরার সময় শুল্ক গোয়েন্দা ড্রোনটি আটক করে। ড্রোনটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন। এতে ৯টি ক্যামেরা রয়েছে। তিনি ড্রোনটি ব্যবহার করে দেশের ভেতর বিভিন্ন স্থানের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণ করেন।
নিরাপত্তার ইস্যুতে ড্রোন আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার পর থেকে বিমানবন্দরে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩২১টি ড্রোন আটক করা হয়। ঢাকা কাস্টম হাউজ, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর এসব ড্রোন আটক করেছে। বেশিরভাগ সময় খেলনা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বা ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে এসব দেশে আনা হয়েছে। আবার কখনও যাত্রীরা নিয়ে এসেছে। ড্রোনের বহুবিধ ব্যবহার থাকায় ও সস্তা হওয়ায় অনেক বিদেশি নাগরিক দেশে ড্রোন নিয়ে আসছেন। বিমানবন্দরে এসে তারা জানতে পারেন আমদানি ও ব্যবহারের অনুমতি নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২০১২-১৫ সালের আমদানি নীতিমালায় নির্দেশনা না থাকায় ড্রোনগুলো খালাসের অনুমতি দিতে পারছিল না ঢাকা কাস্টম হাউজ।
এ বিষয়ে ঢাকা কাস্টম হাউজের একজন কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব ড্রোন পড়ে থাকায় নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্পর্শকাতর এসব ড্রোন দ্রুত গুদাম থেকে না সরালে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়া প্রতিনিয়ত ড্রোন আটক হচ্ছে। সেজন্য এ বিপুল পরিমাণ ড্রোন নিলাম বা ধ্বংস করতে এনবিআরের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

Aviation News